• বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

আসুন গড়ি প্রতিরোধের দেয়াল

প্রকাশ:  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৮ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫৫
রবিউন নাহার তমা
সাবেক শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আগে বাংলা সিনেমার বিশেষ করে কলকাতার বাংলা সিনেমার একটা দৃশ্য দেখে খুবই অবাক লাগতো যে – রাস্তার মধ্যে জনসম্মুখেই গুন্ডা-পান্ডারা লোকজনকে মারছে। তখন মনে হতো এটা কিভাবে সম্ভব? এতগুলো লোকের সামনে মারার সাহস সত্যি কারো হয় নাকি? এতোগুলো লোক যদি প্রতিরোধ গড়ে পাল্টা মাইর শুরু করে এই ৫/৬ টা গুন্ডা তো স্পটেই ধরাশায়ী! কিন্তু হায় –এত বছর পরে বিশ্বজিত, রিফাত এদের মৃত্যু দেখে মনে হয় না সম্ভব ! আমাদের জন্যই সম্ভব। আমরা যতদিন সাক্ষী গোপাল হয়ে থাকবো এগুলো ঘটতেই থাকবে আর আমরাও হা-হুতাশ করে যাব। ব্যস, এতটুকুই !

এই খুনিরা কিন্তু জন্ম থেকেই খুনি নয়। আমরা ওদের আশকারা দিয়েছি। একদিনে কেউ বড় অপরাধী হয় না। অপরাধ করতে করতেই হয়। যে বাচ্চা ছেলেটা রগচটা বলে বন্ধু মহলে পরিচিত, কিছু হলেই মারপিট বাঁধিয়ে দেয় সে যে কোনদিন মানুষ খুন করবে না তার গ্যারান্টি আছে কী ?

সম্পর্কিত খবর

    হ্যাঁ আপাত সাধারণ ঘটনা থেকেই বেশিরভাগ অপরাধের উৎপত্তি। যেগুলো আমরা দেখেও দেখি না। রাস্তঘাটে কিংবা খেলার মাঠে ছেলেপেলেরা একটু কিছু হলেই মারপিট বাধিয়ে দিয়েছে এমন ঘটনা কম নয়। কিন্তু আমরা –ওই ছেলেরা একটু আধটু করবেই বলে চালিয়ে দেই । দেখলেও জীবনে কেউ ধমক দেই না। পরের ছেলেরা মারপিট করতেছে করুক ! আমার কী? আরে বাবা এই পরের ছেলেদের মাঝখানে পরে আপনার নিরীহ ছেলেটাও যে একদিন বিপাকে পড়বে না তা আপনি কিভাবে জানেন ?

    আমার স্কুলের সামনে ৫/৬ দিন আগে খুব মারপিট হয়। ওখানে আরও দুটো হাইস্কুল দোকানপাট,বাসাবাড়ি আছে।একটা ছোটখাটো পাবলিক প্লেসই বলা চলে। সেখানে ১৪/১৫ বছর বয়সী কয়েকটা ছেলে দুজনকে খুব মার দেয়। মারতে মারতে রাস্তা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। কেউ ছাড়াতে যায়নি দেখে শেষ পর্যন্ত ছেলে দুটোর কয়েকজন মেয়ে সহপাঠী ওদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে। ওরাও পার পায়নি। ওদের গায়েও দুএকটা হাত ওঠে ! খুব দুঃখজনক। আমি আর আমার দুজন কলিগ দেখে এগিয়ে যাই। একজনকে ধরতে পারি। বাকিরা ততক্ষণে এদিক সেদিক পালিয়ে যায়। পরে জানতে পারি অনেকে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার মজা দেখেছে! বাহ কী মজা ! এগুলো তো সিনেমা হলে দেখতে গেলে টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দেখতে হবে । ফ্রিতে দেখা গেলে ক্ষতি কী? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দোষ আছে অবশ্যই। তবে আমাদেরও কম নয়। ২০ কোটি মানুষ যদি কয়েক হাজার নিরাপত্তা কর্মীর উপর ভরসা করে দিননিপাত করি তবে আমরা রীতিমতো বোকার স্বর্গে বসবাস করছি ।

    অন্যায়ের শুরুতে রুখে দাঁড়ানোটা জরুরি হয়ে পড়েছে । নিজে বাঁচার জন্য, আপনজনকে বাঁচানোর জন্য। সর্বোপরি মানুষকে বাঁচানোর জন্য।

    ফেসবুক স্ট্যাটাস

    পূর্বপশ্চিমবিডি/এআর

    রবিউন নাহার তমা
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close