Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

আমি বার তি‌নেক ক্যা‌সি‌নোতে গি‌য়ে‌ছি, ভিত‌রে গি‌য়ে তো মাথা নষ্ট!

প্রকাশ:  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৬
বাপ্পাদিত্য বসু
প্রিন্ট icon

আমি বার তি‌নেক ক্যা‌সি‌নোতে গি‌য়ে‌ছি। কাঠমান্ডু‌তে। বি‌দে‌শি‌দের সেখা‌নে পাস‌পোর্ট ছাড়া ঢুক‌তে দেওয়‌া হয় না। ফ‌টোক‌পিও গ্রহণ‌যোগ্য নয়। কাঠমান্ডু‌‌তে একটা বিরাট ক্যা‌সি‌নো আছে, নাম ‘দ্য র‌য়েল ক্যা‌সি‌নো’। শঙ্কর বিস্ত্রা তার ম্যা‌নেজার। আমা‌দের বাংলা‌দে‌শের শঙ্কর মণ্ড‌লের পুর‌নো বন্ধু।

ভিত‌রে গি‌য়ে তো মাথা নষ্ট। তা‌সের বোর্ড, কীসব ক‌য়ে‌নের বোর্ড, এটা ওটা, মাথা ঘু‌ল্লি দেয়। আমি তো শালা জীব‌নে কল ব্রিজ ছাড়া আর কিছু খেল‌তে শি‌খি‌নি। তো কী আর করা? দাঁড়ি‌য়ে দাঁড়ি‌য়ে দে‌খে যাও বাবা! যারা খেল‌ছে, তা‌দের ম‌ধ্যে যারা বড় বড় অঙ্কের টাকা বা‌জি লাগা‌চ্ছে, তা‌দের কো‌লের উপর এসে সুন্দরী মে‌য়েরা বস‌ছে। গা‌লে-বু‌কে হাত বু‌লি‌য়ে দি‌চ্ছে। আর খেলা শুরু কর‌লেই মদ আর খাবার ফ্রি। কী রে বাবা! দে‌খেই শা‌ন্তি!

বিশাল ক্যা‌সি‌নোটা ঘুর‌তে ঘুর‌তে এক পা‌শে পেলাম ক‌য়েন খেলার মে‌শিন। এটা তো বেশ। এক স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাও দে‌খি বাপ-মা‌য়ের সা‌থে এসেছে ক‌য়েন খেল‌তে। ভে‌বে দেখলাম, আমার লে‌ভেল ওই স্কুল বাচ্চার সমান।

নেপালী ৫০০ রু‌পি দি‌য়ে ৩১টা ক‌য়েন কিনলাম। একটা ক‌রে মে‌শি‌নে ফে‌লি, দু‌টো/চারটা/দশটা/‌বিশটাও আসে। কো‌নো কো‌নোবার আসেই না। এক পর্যা‌য়ে এক ক‌য়েন ফে‌লে চ‌ল্লিশটাও পে‌তে শুরু করলাম। একবার ভাবলাম, বেচে দিই। আবার ভাবলাম, আস‌ছেই তো, আরেকটু খে‌লি। তখন বেঁচ‌লে দেড় থে‌কে দুই হাজার নেপালী রু‌পি পেতাম। না বেচে খেল‌তে থাকলাম। এরপর দে‌খি ক‌য়েন ফে‌লি, আর ফেরত আসে না। ফের‌তে আসে না। ফেরত আসে না...। হায় হায় আমার লাভও গে‌লো, আসল ৩১ ক‌য়েনও গে‌লো সব মে‌শি‌নের পে‌টে। বি‌নিম‌য়ে আমার পে‌টে পড়‌লো ‌তিন পেগ আর হালকা কিছু ডিনার। ৫০০ নেপালী খোয়া‌লেও বি‌নিম‌য়ে তরল-শক্ত খাবার মিলি‌য়ে লাভই হ‌য়ে‌ছি‌লো। সা‌থে ফ্রি নাচগান তো দেখলামই।

আর শঙ্কর মণ্ড‌লের বন্ধু শঙ্কর বিস্ত্রার সৌজ‌ন্যে ডিনারটাও সে‌রে নিলাম ফ্রি। অবশ্য বি‌নিম‌য়ে শঙ্কর বিস্ত্রা আর তার বৌ‌য়ের গাওয়া ও ম‌ডে‌লিং করা গোটা তি‌নেক নেপালী গান ইউ‌টিউ‌বে দেখ‌তে তার ইউ‌টিউব চ্যা‌নেলটা সাবস্ক্রাইব কর‌তে বাধ্য হ‌য়ে‌ছিলাম। তার চ্যা‌নেল আমার ফেসবু‌কে ওয়া‌লে শেয়ার দি‌তেও বাধ্য হ‌য়ে‌ছিলাম।

প‌রের দুইবার কেবল ক্যা‌সি‌নো দর্শন ক‌রে‌ছি, খে‌লার সাহস জোটা‌তে পা‌রি‌নি।

সব‌চে‌য়ে ভা‌লো লে‌গে‌ছে যেটা, তা হ‌লো- দ্য র‌য়েল ক্যা‌সি‌নোয় ঢোকার মু‌খে একটা ছোট্ট ম‌ন্দিরসদৃশ আছে। সেখা‌নে দেবমূ‌র্তি। গা‌ড়ি‌তে চ‌ড়ে জুয়া‌ড়ি‌রা আসে, গা‌ড়ি থে‌কে নে‌মে দেবমূ‌র্তি‌তে একটা প্রণাম ঠুঁ‌কে ভিত‌রে গি‌য়ে জুয়া-মদ-নারীর আস‌রে বুদ হ‌য়ে যায়। বে‌রি‌য়ে আরেকটা প্রণাম ঠুঁ‌কে চ‌লে যায়।

আহা ক্যা‌সি‌নো! আহ ক্যা‌সি‌নো!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

বাপ্পাদিত্য বসু,ফেসবুক,স্ট্যাটাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত