Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

বুঝলেন জনাব- নারী শাড়ীতে আবৃত একখণ্ড মাংসপিণ্ড নয়, মানুষ

প্রকাশ:  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫৬
প্রতীক ইজাজ
প্রিন্ট icon

আমার মা শাড়ী পড়তেন। উজ্জ্বল রঙের সাধারণ শাড়ী। সে শাড়ী থেকে বেরিয়ে আসা ছটায় হেসে উঠতো মুখটা। চারপাশ আলোকিত হতো। আমরাও। এখনো আলমিরা খুললে তার রেখে যাওয়া শাড়ী মধুর গন্ধে সুবাসিত করে পুরো ঘর। আমরা বেদনায়, কষ্টে, আনন্দে এখনো মার শাড়ী বুকে চেপে ধরি। স্পর্শ নেই। এখনো সেই শাড়ী আমাদের ‘মা’।

বোনদেরও প্রতিযোগিতা করে শাড়ী পরতে দেখেছি। সেই শাড়ীর সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্লাউজের কাপড়, স্যান্ডেল, চুড়ি কিনতে কতদিন বোনদের সঙ্গে মার্কেটে গেছি। নিজেরাও গলদঘর্ম হয়েছি। পরে যখন সেই শাড়ীটা পড়তো বোনেরা আমাদের কষ্ট উবে যেত। আনন্দে জাপটে ধরতাম। গন্ধ নিতাম; প্রাণভরে সেই শাড়ীর গন্ধ।

বন্ধু প্রেমিকারাও শাড়ী পড়তো। এখনো পড়ে। আমরা শাড়ীর পাড় ঠিক করে দেই। টিপ চুড়ি মালার রঙ ঠিক করে দেই। উৎসব পার্বনে ফুল গুজে দেই খোপাই। মধুর রঙ নিয়ে চোখে-মুখে, যখন সে হাঁটে কথা বলে বসে, আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখি। বাতাসে ওড়ে শাড়ীর আচল। আমরাও উড়ি আনন্দে উদ্বেলে। সময় যখন ফুরিয়ে আসে, আফসোস নিয়ে বলি- ইস, আর একটু থাকতি।

সত্যি করে বলছি, আমি আমরা কখনোই আপনার মতো করে শাড়ীতে নারীকে ‘যৌনাবেদনময়ী’ করে খুঁজিনি। খোঁজা হয়নি। শাড়ীতে শুধু নারীকে দেখেছি তার চোখের মুগ্ধতা, অপার অবারিত আনন্দ। শাড়ীর ফাঁকফোকড় গলে আপনার চোখ কী করে খুঁজে পেল এমন নোংরা, অশ্লীল উপসর্গ। আপনি কি নারীকে শাড়ীতে আবৃত একখন্ড মাংসপিন্ড হিসেবেই দেখেন! আমরা তো আলো আনন্দ দেখি শাড়ীতে। পোষাকে।

আমার মা খুব বেশি লম্বা ছিলেন না। তবুও উনি শাড়ী পড়তেন। ছোট বোনটাও কালো ছিল। খাটো। ও-ওতো শাড়ী পড়তো। শাড়ীতে কী যে অপরুপ দেখাতো মাকে, বোনকে। আমাদের এখন অব্দি আপনার মতো শাড়ীর জন্য নারীর এমন মাপজোকের শরীরের কথা মনে আসে না। আসেনি কখনো।

চোখ ও মন- পরস্পরের গল্প বলে। এ দুটোকে যদি শোভন সুন্দর করে তুলতে না পারেন, সব অর্জন অন্ধকারে যাবে। স্বর্গ সুষমায় চারদিক কেমন অস্পষ্ট লাগবে, অন্ধকার অন্ধকার লাগবে। সামনে এগোতে পারবেন না। সংস্কৃতি, ভৌগলিক সীমারেখা, দেশকালপাত্র ভেদে সব পোষাকই শোভন সুন্দর। শুধু দেখবার চোখ থাকতে হয়। সেই চোখটাই গড়ুন এই শেষ বয়সে।

জয় হোক মানুষের

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত