Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

একজন ধ্রুব এষ

প্রকাশ:  ০৮ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৪৮ | আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ১৫:০৫
অণীশ তালুকদার বাপ্পু
প্রিন্ট icon
কবি, গদ্যকার ও চারুকলা শিল্পী ধ্রুব এষ -ফাইল ছবি

একটা আক্ষেপ- আজন্মের একটা প্রশ্ন প্রায়ই আমার মনকে ক্ষতবিক্ষত করে-- আহা! আমাদের সুনামগঞ্জে যদি ধ্রুবদার একটা চারুকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকতো..!!! তাহলে হয়তো এই শহর থেকে শত-শত, হাজার হাজার ধ্রুব এষ সৃষ্টি হতো।

আফসোস। জানিনা এ জন্মে আমার এই প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে জানতে পারবো কি না। জন্মসূত্রে একই শহরের হলেও আজ পর্যন্ত ধ্রুব এষ'র সাথে আমার চুলপরিমান কথা হয়নি কোনদিন। পারিনি হাতে হাত রাখে নিজেকে ধন্য করতে। দেখেছি শহরের ব্যস্ততম রাস্তায়, কিন্তু মহাব্যস্ত আর বন্ধুদের ছায়ায় ঘেরা মানুষটির সামনে যেতে পারিনি কোনদিন। তবুও এই মানুষটির প্রতি কেন জানিনা মনের গহীনে শ্রদ্ধার আসন প্রতিষ্ঠিত করেছি নিজের অজান্তে।

আমাকে অনেকেই বলেন, কত মানুষকে নিয়েই তো লিখ, ধ্রুব এষ তো আমাদের সুনামগঞ্জের তথা বাংলাদেশের গৌরব, তাঁকে নিয়ে তো লিখ নি। কিন্তু কেন যে লিখিনি বা লিখতে চাইনি তার ব্যাখ্যাতো তাঁদের বুঝাতে পারি না। ধ্রুব এষ কে নিয়ে লেখার মতো দৃষ্টতা কি আমার আছে। বাংলা অভিধানের কোন শব্দ-বাক্য চয়ন করলে তাঁর বর্ণিল আলোকিত কর্মময় জীবনের কথা ফুটে উঠবে তা আমার জানা নেই। যার সীমারেখা অসীমে তাকে কি সসীমের জালে বন্দী করা যায়?

ধ্রুব এষ মানেই বাংলাদেশ। যাঁর কর্মযজ্ঞ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বমানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে, সেই বিশ্বজনকে নিয়ে আমার মতো একজন গ্রাম্য লেখকের কলম কি লিখবে? অস্থানে সুন্দর জিনিস মানায় না। ধ্রুব এষ'র জীবনকাব্য একমাত্র তিনি স্বয়ং ই লিখতে পারেন।

তাঁর প্রচ্ছদ শিল্প নিয়ে কাউকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়া নিরেট মুর্খতার নামান্তর। তাই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। ধ্রুব এষ'কে কোন ফ্রেমে বন্দী করে রাখা যায় না। ধ্রুব এষ'র তুলনা তিনি নিজেই। তাঁর কর্মের রেকর্ড তিনি নিজেই একমাত্র ভাঙ্গতে পারবেন। তবে আজ এই লেখায় পাঠকদের মাধ্যমে একটি আবেদন করতে চাই আমাদের ধ্রুবদার কাছে-- দাদা, আপনার জন্মস্থান সুরমার জনপদ সুনামগঞ্জের আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু একটা করে যান। আমরা চাই আপনার মতো আরো ধ্রুব এষ ছড়িয়ে পড়ুক বাংলার সবখানে। লাল সবুজের বাংলাদেশ হোক ধ্রুবময়।

ধ্রুবদার কবিতা আমার মনকে স্পর্শ করে। যখন তাঁর কলম লিখে---

মৃত্তিকা কোনো কিছুই বুঝতো না

কোনটা বৃক্ষ

আর কোনটা অনল

অথচ, কবি তাকে সব দিয়েছিলো

শব্দ, উপমা

আর তিন ফোটা জল

কবিতা : তিন ফোটা জল

আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। যে মানুষের জীবন ঘড়ির কাটার নিয়ম মেনে চলে তাঁর কলম যেন একটি অনবদ্য কবিতা। তুলির আচড়ে তার চিত্র যেমন জীবন্ত হয়ে ওঠে তেমনি তাঁর কলমের আলপনায় সৃষ্টি হয় অনবদ্য কবিতা।

কখনো লিখেছেন....

তুমি জল ছুঁ'য়ে ছুঁ'য়ে

ভালোবাসা খুঁজো,

পাথরের কাছে যাও, শিকড়ে শিকড়ে,

কিন্তু জানো না

এখানে এখন

ভালোবাসা শুয়ে থাকে লাশ কাটা ঘরে।

কবিতা: পাথরের কাছে যাও

ধ্রুব এষ একজন বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী, যিনি প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি কবিতা ও গল্প লিখে থাকেন।

ধ্রুব এষ ১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতার নাম ভূপতি রঞ্জন এষ ও মাতার নাম লীলা এষ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরচারুকলা থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

ধ্রুব এষ একজন গর্বিত জুবিলীয়ান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। পেশায় প্রচ্ছদ শিল্পী হলে কবি- সাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর সুধীপাঠক মহলে সুনাম রয়েছে। মধ্য ১৯৯০-এর পর তিনি ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের অধিকাংশ গ্রন্থের প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন। এছাড়া তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা রহস্যপত্রিকার শিল্প সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন

ধ্রুব এষ ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় মোস্তাক আহমেদের একটি কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদ অঙ্কনের মাধ্যমে প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

প্রথম দিকে তিনি ইমদাদুল হক মিলনের বইয়ের প্রচ্ছদ করতেন। পরে প্রকাশকদের মাধ্যমে হুমায়ুন আহমেদের সাথে পরিচয় হয় এবং সখ্য গড়ে ওঠে। তারপর থেকে হুমায়ূনের অধিকাংশ বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ২৫ হাজার বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরির কথা বলেন।

তিনি বলেন,বাংলাদেশে প্রচ্ছদশিল্পে আধুনিকতা আনার জন্য কেউ কেউ আমাকে কৃতিত্ব দেন। তবে এর মূল কৃতিত্ব হুমায়ূন আহমেদের। তিনি আমাকে প্রথম বলেছিলেন, আমার বইয়ের প্রচ্ছদে ফিগার আঁকতে হবে না। এই স্বাধীনতা আমাকে একলাফে অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছে।

#ধ্রুব_এষের_সাহিত্যকর্ম

সুপারি পাতার গাড়ি (শিশুসাহিত্য-২০০০)

সূর্য মামার বাচ্চাদের গল্প (শিশুসাহিত্য-২০০১)

ঠিক দুক্কুর বেলা (শিশুসাহিত্য-২০০৪)

ভূতপুর (শিশুসাহিত্য-২০০৭)

রাফখাতা (শিশুসাহিত্য-২০০৯)

আরেক নীশিতা (শিশুসাহিত্য-২০১০)

বাম হাতে ছয় আঙুল (উপন্যাস-২০১৩)

অসকাল (উপন্যাস-২০১৩)

সেরা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (সম্পাদনা-২০০৯)

বাংলা প্রচ্ছদে সুররিয়ালিজমের প্রবর্তক ধ্রুব এষ। যদিও অনেক দেরি হল এই লক্ষণ আসতে কিন্তু দেরিতে হলেও যা ঘটেছে তার মূল্য অসীম। কারণ, নামি থেকে আমজনতার প্রচ্ছদে এই ফরাসি চিত্রকলার ধর্মটা, আন্দোলনের প্রভাবটা ধরা পড়েছে।

উনিই সম্ভবত দুই বাংলার সবচেয়ে বেশি প্রচ্ছদ শিল্পীর রেকর্ডের অধিকারী। একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন শুধু একুশে বইমেলা উপলক্ষে যে বই বের হয় বাংলাদেশে তাতে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ প্রচ্ছদ উনি বানান। এটা আর কেউ কখনও মানসিক ও শারীরিকভাবে করতে পারেননি। এই অসম্ভব ঘটনাটা প্রত্যেক বছর তিনি ঘটান। আর তার সঙ্গে ওর কাজে একটা মান থাকে, একটা বুড়ো আঙুলের ছাপ থাকে, নিজস্বতা, আইডেনটিটি, যেটা উনি ধারাবাহিকভাবে মেনটেন করেন।

তিনি বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদে আরও একটা বৈপ্লবিক ঘটনা ঘটিয়েছেন। সেটা হল, এতদিন ছিল বইয়ের যে বিষয়বস্তু সেই অনুসারে প্রচ্ছদ নির্মাণ। উনি এটা ভেঙ্গে দিয়েছেন। এটা সবচেয়ে বেশি করার সুযোগ পেয়েছেন হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের প্রচ্ছদে।

পুরস্কার ও সম্মাননা

গ্রন্থ অলঙ্করণে কালি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বাংলার গল্প বাঙালির গল্প গ্রন্থের জন্য পাঞ্জেরী ছোটকাকু আনন্দ আলো শিশুসাহিত্য পুরস্কার - ২০১৯ এবং ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি কতৃক চারুকলা ক্যাটাগরিতে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র

১) ধ্রুব এষ : দু’বাংলার সালভাদর দালি অদ্রীশ বিশ্বাস

২) "ধ্রুব এষ: শিল্পী, ঋষি না বাউল?"। ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৭।

৩) রহস্যপত্রিকা, আগস্ট ২০১২; ২৮ বর্ষ, ১০ সংখ্যা; পৃষ্ঠা ৩। সেগুনবাগিচা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।

৪) "রঙিন বইয়ের ছবি করে মজা পান ধ্রুব এষ"। দ্য রিপোর্ট। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৯।

৫) "রঙিন বইয়ের ছবি করে মজা পান ধ্রুব এষ"। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৮।

৬) ক খ "DHRUBA ESH"। The Daily Star(ইংরেজি ভাষায়)। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৯।

৭) "ধ্রুব এষ: শিল্পী, ঋষি না বাউল?"। ২১ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৮।

৮)."পুরস্কার পেলেন পাঁচ বরেণ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৪ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৯।

ফেসবুক থেকে নেওয়া

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

ধ্রুব এষ
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত