Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬
  • ||

নজরুল-প্রমীলা, মানবিক প্রেমের পাথেয় যারা

প্রকাশ:  ২৬ মে ২০১৯, ০২:৪৯
আরিফুল ইসলাম
প্রিন্ট icon

কাওরাণ বাজারে বাসায় বসে বসে আমি যেই সময়ে ঘুমের চাষ করছি চোখজুড়ে। ঠিক সেইসময়ে কুমিল্লার কান্দির পাড়ে কবিতা লিখছেন প্রেমিক নজরুল। মে মাসের এই গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ায় সেসময় (১৯২২) রোজার দিন আসেনি।

আজকের মতো বসন্তে সেই প্রেমের শুরু হয় নি। হয়নি হেমন্তেও। সরিষা গাছের হলুদ ফুলে নজরুল-প্রমীলার প্রেম শুরু হয় নি। কৃষ্ণচূড়া গাছে লাল টকটকে ফুলের আবছায়া পড়েছে গাছের তলার পানিতে। সেখানে লাল ফুলের প্রতিচ্ছায়ায় প্রমীলা দেবীকে দেখলেন নজরুল।

প্রেমিকা প্রমীলা তার কাছে রানীর মতো। তিনি নিজেকে সমর্পন করে লিখলেন,

হে মোর রাণী! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে

আমার বিজয়-কেতন লুটায় তোমার চরণ তলে এসে

আমার সময় জয়ী অমর তরবারী

দিনে দিনে ক্লান্তি আনে, হয়ে ওঠে ভারী

এখন এ ভার আমার তোমায় দিয়ে হারি

এ হার মানা হার পড়াই তোমার কেশে

ওগো জীবন – দেবী! আমায় দেখে কখন তুমি ফেললে চোখের জল,

আজ বিশ্ব –জয়ীর বিপুল দেউল তাইতে টলমল!

আজ বিদ্রোহীর এই রক্ত রথের চূড়ে,

বিজয়ীনি! নীলাম্বরীর আঁচল তোমার উড়ে,

যত তুণ আমার আজ তোমার মালায় পুরে,

আমি বিজয়ী আজ নয়ন জলে ভেসে’।

১৯২২ সালের মে মাসের দিকেই তৃতীয়বারের মতো কুমিল্লায় আসেন নজরুল। এই সময়েই প্রমীলার সঙ্গে কবির প্রেমের গোড়াপত্তন। একইবছর সেপ্টেম্বরে 'ধূমকেতু' পত্রিকায় "পূজা" কবিতা লেখার কারণে একবছর কারাদণ্ড হয় নজরুলের।

১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে কারামুক্ত হয়ে নজরুল আবারও ফেরেন প্রমীলার নীড়ে। নজরুল এই সময়ে প্রমীলার প্রতি নিজের মুগ্ধতা নিয়ে লিখলেন-

নীলাম্বরী শাড়ি পরি নীল যমুনায়

কে যায় কে যায় কে যায়

যেন জলে চলে থল-কমলিনী

ভ্রমর নূপুর হয়ে বোলে পায় পায়।

কলসে কঙ্কনে রিনিঠিনি ঝনকে

চমকায় উন্মন চম্পা বনকে

দলিত অঞ্জন নয়নে ঝলকে

পলকে খঞ্জন হরিণী লুকায়।

অঙ্গের ছন্দে পলাশ মাধবী অশোক ফোটে নূপুর শুনি বনতুলসীর মঞ্জরী উলসিয়া ওঠে।

মেঘ বিজড়িত রাঙা গোধূলি

নামিয়া এল বুঝি পথ ভুলি

তাহার অঙ্গ তরঙ্গ বিভঙ্গে

কুলে কুলে নদীজল উথলায়।।

প্রমীলার বাড়ি নিয়মিত আসা যাওয়ার কারণে নজরুলের প্রতি দেবীর পরিবারের ভালোবাসা আরোও বেড়ে যায় বলে উল্লেখ করেন নজরুলের বন্ধু নলিনীকান্ড সরকার।

তিনি বলছেন, ‘বৌ বাজার স্ট্রিটে চেরী প্রেসের বাড়িতে তখন আমরা থাকি। নিচে ছাপাখানা। দোতলায় নারায়ণ, বিজলী প্রেস ও ছাপাখানার অফিস। তেতলায় থাকি আমরা যারা নারায়ণ ও বিজলী প্রেস চালাতাম। আমাদের সঙ্গে ঐ বাড়িতেই একটি স্বতন্ত্র ঘরে থাকেন শ্রী অরবিন্দের ভগ্নি শ্রীমতি সরোজিনী দেবী। একদিন সন্ধ্যাকালে নিচের উঠোন থেকে আমার নাম ধরে উচ্চ স্বরে নজরুলের কণ্ঠধ্বনি। জানতাম নজরুল কুমিল্লায়। হঠাৎ তার আওয়াজ পেয়ে নিচে নেমে গিয়ে দেখি, দরজার সামনে তিনি দাঁড়িয়ে আর অদূরে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি ঘোড়ার গাড়ি। নজরুল জনান্তিকে বললেন, কুমিল্লা থেকে একজন মহিলা আর তার মেয়ে আমার সঙ্গে এসেছেন, যাবেন সমস্তিপুরে। দু’চারদিন কলকাতায় থাকবেন, তোমাদের এখানে তাদের থাকবার একটু ব্যবস্থা করে দিতে হবে। সরোজিনী দিদির সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের নিয়ে এলাম তেতলায়। সরোজিনী দিদির ঘরেই তাদের স্থান হলো। তাদের আমাদের বাড়িতে রেখে নজরুল গিয়ে রইলেন ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে ‘মোসলেম ভারত’ অফিসে। সেখান থেকে মাঝে মাঝে এসে তাদের তত্ত্বাবধান করে যেতেন। এই নবাগতা মহিলা এবং তার কুমারী কন্যা হলেন যথাক্রমে নজরুলের ভাবী শ্বশ্রুমাতা শ্রী গিরিবালা দেবী এবং ভাবী ভার্যা শ্রীমতি প্রমীলা ইসলাম।’

২০১৮তে যেই সময়ে ভিন্ন বর্ণের মঙ্গেশকে বিয়ে করায় ভারতের মহারাষ্ট্রে যখন রুক্মিণী রণসিংহেকে তার বাবা খুন করছেন। ঠিক একইরকম করে ভিন্ন ধর্মের মেয়েকে নিয়ে করার কথা উঠায় সমালোচনার তীরে আমরা বিদ্ধ হতে দেখবো নজরুল-প্রমীলাকেও।

নজরুলের জীবনে সেই মধুরতম মুহূর্তটি ঘনিয়ে আসে বাংলা ১৩৩১ সালের ২২ বৈশাখ মোতাবেক ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ এপ্রিল শুক্রবার। তিনি প্রমীলা সেনগুপ্তের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। মুসলিম রীতি অনুসারে নজরুলের সাথে প্রমীলার বিয়ে পড়ানো হয়। ‘মা ও মেয়ে’ উপন্যাসের লেখিকা মিসেস এম রহমান সাহেবার উদ্যোগে কলকাতার ৬ নং হাজী লেনে এই বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়।

এই বিবাহে ব্রাহ্ম সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং এবং ‘প্রবাসী’ পত্রিকা অফিস থেকে প্রধানত : নজরুল বিরোধিতার জন্য সাপ্তাহিক ‘শনিবারের চিঠি’ প্রকাশ করা হয়। নজরুলের এই বিবাহ তার মাতৃসমা বিরজা সুন্দরী দেবী অনুমোদন করেননি এবং বীরেন্দ্র কুমার সেন গুপ্ত ‘বৈকালী’ পত্রিকায় ক্ষীণকণ্ঠে প্রতিবাদ করেন।

এ কারণে নজরুল আর কোনদিন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে যাননি।

প্রমীলা স্বভাবতই সরল, নম্র-ভদ্র ও বিদুযী ছিলেন। সংসারের হাল ধরতে তার কোন কষ্ট হয়নি। আবার গিরিবালা দেবীও সংসারে যুক্ত হলেন। তিনি সাত্ত্বিক জীবনযাপন করতেন। হিন্দু বিধবার কঠোর নিয়মকানুন পালন করতেন। তবু নজরুলের সংসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করেন। এভাবে নজরুল প্রমীলার সংসার চলতে থাকে।

বিয়ের আগে ও পরে অনেক কবিতায় তিনি প্রমীলার রূপে বর্ণনা তুলে ধরেন, যেমন প্রিয়ার রূপ,দোদুল দুল প্রভৃতি কবিতা। ‘দোদুল দুল’ কবিতায় কবি প্রমীলার রূপের বর্ণনা এভাবে তুলে দেন:

মৃণাল - হাত নয়ান - পাত গালের টোল,

চিবুক দোল সকল কাজ করায় ভুল প্রিয়ার মোর কোথায় তুল?

কোথায় তুল? কোথায় তুল ... ... ... ... ...

কাকঁল ক্ষীণ মরাল গ্রীব ভুলায় জড় ভুলায় জীব,

গমন –দোল অতুল তুল্ ।

দোলন চাঁপা কাব্য গ্রন্থে সবার আগে এই কবিতাটি রয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৩ সালের ১৫ অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়।

বিবাহের পর আশালতা সেন গুপ্তার নতুন নামকরণ করা হয় ‘প্রমীলা নজরুল ইসলাম। অতঃপর নবদম্পতিকে মিসেস এম রহমান হুগলীতে নিয়ে যান। সেখানে শ্রীভূপতি মজুমদারের সহায়তায় হামিদুন নবী মোখতার সাহেবের একটি বাড়ি ভাড়া করে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ বাড়িতেই ১৩৩২ সালে (১৯২৫ খ্রিঃ) প্রমীলা-নজরুলের প্রথম পুত্র আজাদ কামালের (মতান্তরে কৃষ্ণ মোহাম্মদ) জন্ম হয় এবং নবজাতকের আকিকা উৎসব সাড়ম্বরে সম্পন্ন হয়। সেই উৎসবে ডা. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, মঈনুদ্দীন হোসায়েন, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, পবিত্র গঙ্গা পাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, নৃপেন্দ্র কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, অচিন্ত কুমার সেনগুপ্ত, দীনেশ রঞ্জন দাশসহ বহু খ্যাতনামা কবি সাহিত্যিক যোগ দিয়েছিলেন। বিয়ের খাওয়া-দাওয়া হয়নি বলে নজরুল তার বন্ধু ও অনুরাগীদের বিরাট ভুরিভোজে আপ্যায়ন করেন। কিন্তু নবজাতকের আয় ছিল মাত্র কয়েক মাস। এরপর হামিদুন নবী মোখতার সাহেবের বাসা থেকে প্রমীলা-নজরুল দম্পতি হুগলীর চকবাজারে রোজভিলা নামক নতুন বাড়িতে ওঠেন। সেখানেও কবি-সাহিত্যিকরা হাজির হতেন। কবির সংসারে আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও প্রমীলাও তার মা কোনদিন কোন মেহমানকে অভুক্ত বিদায় দেননি।

১৯২৬ সালের ৩ জানুয়ারি নজরুল হুগলী ছেড়ে স-পরিবারে কৃষ্ণনগর যান। প্রথমে গিয়ে ওঠেন শ্রী হেমন্ত কুমার সরকারের বাড়িতে। এরপর চাঁদ সড়কের পাশে বিরাট কম্পাউড ওয়ালা একতলা বাংলো ধরনের বাড়িতে থাকেন। বাড়ির নাম প্রেসকটেজ। বাড়ির পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম ও আরামদায়ক ছিল। এই বাড়ির পাশেই ছিল লেখক-সাহিত্যিক আকবর উদ্দিনের বাড়ি। তিনি কৃষ্ণনগর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। কবি পরিবারের সাথে আকবর উদ্দিনের সৌহার্দ্য গড়ে উঠেছিল একটি কারণে। আকবর উদ্দিন ছিলেন বিপত্নিক। আকবর উদ্দিনের দ্বিতীয় বিয়ের ঘটক ছিলেন প্রমীলা ও নজরুল। হুগলীতে থাকাকালীন সময় প্রতিবেশী আখতারুন্নেসার সাথে আকবর উদ্দিনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। আকবর উদ্দিন বলেছেন, আমার বিয়ের দোলনা (প্রমীলা) প্রায়ই আমাদের বাড়ি এসে আমার স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করতেন। আর ১৯২৮ সালের প্রথমদিকে যে আড়াই মাস নজরুল ঢাকায় ছিলেন তখন দোলনা অনেকদিন সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত আমাদের বাসায় কাটাতেন।’

কৃষ্ণনগরের এই বাড়িতেই ১৯২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রমীলা নজরুলের দ্বিতীয় পুত্র বুলবুলের জন্ম হয়। ১৯২৮ সালের শেষ দিকে কবি কৃষ্ণনগর ছেড়ে সপরিবারে কলকাতায় চলে আসেন। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে পানবাগান লেনের বাড়িতেই কবির তৃতীয় পুত্র সানি (কাজী সব্যসাচী) জন্মগ্রহণ করেন। পানবাগান লেনের বাড়ি থেকে নজরুল ইসলাম মসজিদ বাড়ি স্ট্রিটের এক দ্বিতল বাড়িতে যান। সেই বাড়িতেই মে মাসের ৭/৮ তারিখে নজরুল প্রমীলার প্রাণ প্রিয় পুত্র (বয়স ২ বছর ৮ মাস) বুলবুল বসন্ত রোগে মারা যায়। ১৯৩১ সালে নজরুলের ৪র্থ ও কনিষ্ঠ পুত্র নিনির (কাজী অনিরুদ্ধ) জন্ম হয়।

প্রমীলা নজরুল ৩০ বছর বয়সে ১৯৩৮ সালে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন। তার কোমরের নিজের অংশ অবশ হয়ে যায়। রোগ সারানোর জন্য কবি নজরুল কোনো চিকিৎসাই বাদ রাখেননি। প্রমীলার প্রতি নজরুলের কতটা দরদ ও প্রেম ছিল সে সম্পর্কে অনেক নজরুল গবেষকও অবগত নন। দেব-দেবী, ভূত-প্রেত, সাধু-সন্ন্যাসীর মন্দির, পীর-ফকির, তাবিজ-কবজ, মাবার, পানিপড়া এসব নিয়েও কবি প্রমীলাকে সারিয়ে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকেন।

অসুস্থ প্রমীলা-নজরুলের পরিবারকে আকঁড়ে ধরেন গিরিবালা দেবী। কিন্তু তখন কিছু অপবাদ ছড়িয়ে পড়ে। লোকে বলাবলি করতে থাকে, ‘নজরুলের অর্থ-সম্পদ গিরিবালা দেবী অসুস্থ নজরুলের সেবায় কাজে না লাগিয়ে, জমিয়ে রাখেন’।

এই ক্ষোভে ১৯৪৬ সালের অগাস্ট/সেপ্টেম্বরের দিকে গিরিবালা দেবী কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘর ছেড়ে চলে যান। পথে তিনি প্রমীলা দেবীকে চিঠি লিখে জানান তার জন্য কেউ যেন চিন্তা না করে। এরপর গিরিবালা দেবীর আর কোন খোজই পাওয়া যায়নি।

২০১৯ এর ২৫ মে'তে আমার ঘুম কিছুটা হালকা হয়ে এসেছে। জরাজরা চোখে আমি যখন কারও দিকে তাকিয়ে আছি। প্রেমিকার থেকে পালিয়ে আমি যখন ঝিলের পাড়ে একা বসে ছলছল চোখে হারিয়ে যাচ্ছি। ১৯৬২ দিনগুলোতে তখন নজরুল দ্বিগ্বিদিক হয়ে ঘুরছেন। কবি জসীম উদদীনের বিবরণী থেকে জানা যায় কোনো এক দরবেশের পরামর্শে নজরুল শত বছরের কচুরী পানাভর্তি এক পচাডোবায় সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত শরীর নিমজ্জিত রেখে অতঃপর দরবেশের তাবিজ নিয়ে প্রমীলাকে দিয়েছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। আমৃত্যু (৩০ জুন ১৯৬২) প্রমীলা ঐ অবস্থাতেই নজরুলের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রমীলার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে নজরুলের জন্মভূমি চুরুলিয়ায় দাফন করা হয়।

কবি ভালোবেসে ছিলেন তার প্রেয়সী প্রমীলাকে। তেমনি ভালোবেসেছিলেন প্রমীলার জন্মভূমি ছায়া ঢাকা পাখি ডাকা তেওতা গ্রামকে। নজরুল তেওতা গ্রামকে নিয়ে ‘ছোট হিটলার’ নামে এক অনবদ্য কবতিা রচনা করেন। কবির দু’ পুত্র সানি ও নিনির মুখ দিয়ে বলা হয়েছে-

মাগো! আমি যুদ্ধে যাবোই নিষেধ কি মা আর মানি

রাত্রিতে রোজ ঘুমের মাঝে ডাকে পোলান্ড-জার্মানি,

ভয় করি না পোলিশদেরে জার্মানির ঐ ভাঁওতাকে

কাঁপিয়ে দিতে পারি আমার মামা বাড়ি ‘তেওতা’কে।

আজ শনিবার ১১ জ্যেষ্ঠ (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী। তিনি চির প্রেমের কবি। তিনি যৌবনের দূত। তিনি প্রেম নিয়েছিলেন, প্রেম চেয়েছিলেন। মূলত তিনি বিদ্রোহী কিন্তু তার প্রেমিক রূপটিও প্রবাদ প্রতিম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে শুয়ে আজও তিনি গেয়ে যান যৌবনের গান। প্রেমের গান। সেই প্রেমকে ধারণ করে মানবিক সাম্যের অসাম্প্রদায়িক পৃথিবী গড়ার পথে হেটে যাবে হাজারো প্রেমিক-প্রেমিকা। যেখানে ধর্মের বাঁধা ডিঙ্গিয়ে মানবিক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

লেখক- সংবাদকর্মী

সূত্র-

১. নিষিদ্ধ নজরুল, লেখক- শিশির কর

২। নজরুল ইনস্টিটিউট

৩। নজরুল স্মৃতি, বিশ্বনাথ দে

৪। প্রবন্ধ- প্রমীলা নজরুল, লেখক- মুহাম্মদ আসাদ

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত