Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বললেন, শেখ মুজিব মরলে বাংলার মাটিতেই মরবে

প্রকাশ:  ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৬:২৫ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৪২
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রিন্ট icon

পৃথিবীর সবচাইতে পৈশাচিক, নৃশংস এবং কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডে জাতির জনক সপরিবারে, শেখ ফজলুল হক মণি সস্ত্রীক, শেখ নাসের ও আব্দুর রব সেরনিয়াবাত পরিবারের অনেক সদস্যসহ শহীদ হন। এটি পৃথিবীর একটি ব্যতিক্রমধর্মী পৈশাচিক ঘটনা। যুদ্ধ ব্যতিরেকে কোনো জাতির জীবনেই এরকম ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসেনি। ঘটনাটি এতই অনভিপ্রেত এবং এতই অকস্মাৎ ও অতর্কিতে ঘটে যায় যে, যে জাতি ২৫ মার্চের পৈশাচিক আক্রমণকে শুধু প্রতিরোধই নয়, প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল; ঘটনার আকস্মিকতায় সেই জাতি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। এবং অন্যদিকে এই ঘটনার বিপরীতে নেতৃত্বের কোনো অংশ থেকে প্রতিরোধ অথবা রুখে দাঁড়ানোর কোনো আহ্বান বিজয়ী জাতির জাগ্রত জনগণ শুনতে পায়নি। প্রসঙ্গের গভীরে আসার আগে আমি বিদগ্ধ চিত্তে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি কর্নেল জামিলকে- তাঁর দুর্জয় সাহসী ভূমিকার জন্য। যথাসময়ে জীবনের বিনিময়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা ও সামরিক শৃঙ্খলাবোধের।

পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘাতকের নির্মম আঘাতে জীবন হারানোর ঘটনা বিরল নয়। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের নিষ্পত্তিকরণের মহানায়ক, ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব আব্রাহাম লিঙ্কন, আমেরিকার প্রথিতযশা রাষ্ট্রনায়ক জন এফ কেনেডি ও তাঁর ভাই আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডি, মানবতার অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং, কঙ্গোর প্যাট্রিস লুমুম্বা, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা করমচাঁদ গান্ধী, সত্তর দশকের পৃথিবীর সবচাইতে দূরদর্শী ও সফল রাষ্ট্রনায়ক ইন্দিরা গান্ধী, তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি রাজীব গান্ধীসহ পৃথিবীর রাজনীতির অনেক শ্রদ্ধাভাজন বিশিষ্টজন ও বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক এমনকি জাতির জনক ঘাতকের গুলিতে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও কখনো একই পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে নির্মূল-নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার এমন পৈশাচিক দৃষ্টান্ত আর নেই।

বঙ্গবন্ধু হত্যামামলা চলাকালে সাক্ষীদের জেরা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উঠে এসেছে- আক্রান্ত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন এবং সামরিক বেসামরিক ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন এবং আক্রমণটিকে প্রতিহত করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। একটা অসহ্য যন্ত্রণায় আমার বুকের পাঁজর টনটন করে ওঠে। মৃত্যুর আগে কি সামরিক, কি বেসামরিক, কি সাংগঠনিক- কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত শক্তিধর ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ার মর্মান্তিক বেদনা নিয়েই তাকে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিতে হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক শক্তি ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশের কারাগার তো দূরে থাক, কোনো ক্যান্টনমেন্টেও তাকে রাখতে সাহস পায়নি এটা ভেবে যে, তাকে বাংলাদেশের চৌহদ্দির মধ্যে অবরুদ্ধ রাখা ছিল অসম্ভব। তাকে নাগালের মধ্যে পেয়েও পৈশাচিক সামরিক জান্তা খুব সুপরিকল্পিত চেতনার আবর্তেই জীবিত রেখেছিল এই কারণে, মুক্তিযুদ্ধে আমরা পরাজিত হলে তাকে হত্যা করবে, আর তারা পরাজিত হলে তাদের সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক অনুগতদের সঙ্গে জীবন বিনিময় করবে।

গভীর বেদনাহত চিত্তে আমার এটা মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানের কারাগার থেকে অক্ষত অবস্থায় প্রত্যাগত হওয়ার পর তাঁর চিন্তাচেতনা ও মননশীলতায় এই বদ্ধমূল ধারণা সৃষ্টি হয় যে, তাঁর প্রাণের স্বদেশবাসীরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে তাঁর নিরাপত্তার বিধান করবে। বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলই তাঁর নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য দুর্গ। তাই অনেক অনুরোধ ও নানাভাবে তাকে সতর্ক করা সত্ত্বেও ৩২ নম্বরের বাড়ি ছেড়ে তিনি গণভবনের নিরাপত্তা ছাউনির মধ্যে অবস্থান করতে রাজি হতেন না। আমরা বিষয়টি নিয়ে তাকে সতর্ক করতে গেলে অনেক সময় প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত হয়ে তিনি বলতেন, তিনি নিরাপত্তার নামে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবরুদ্ধ জীবন কাটাতে চান না। ৩২ নম্বরের বাড়িটি এতটাই উন্মুক্ত ও অবারিত ছিল যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মী থেকে শুরু করে যে কোনো পর্যায়ের মানুষ এমনকি ঘাতকরাও সময়ে-অসময়ে তার কাছে অনায়াসে পৌঁছতে পারত।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঘাতকরা যদি আদৌ বুঝতে পারত, বঙ্গবন্ধু ৩২ নম্বর থেকে সরে গেছেন তাহলে তারা পোশাক ছেড়ে উলঙ্গ হয়ে দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতো। আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি যদি পেছনের দরজা দিয়ে সরে যেতেন, তাহলেও ঘটনার চিত্রটি অন্যরকম হলেও হতে পারত। বঙ্গবন্ধু স্থির প্রত্যয়ে বিশ্বাস করতেন যে, বাঙালির ডান-বাম যে কোনো ধরনের অভ্যুত্থান এমনকি বিপ্লব হলেও তাকে হত্যা তো দূরে থাক, তাঁর নেতৃত্বকে অস্বীকার করার দুঃসাহস ও স্পর্ধা কেউ দেখাবে না। তাঁর এই চেতনাটির প্রতীতি ও প্রত্যয় মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং বাংলার মাটির প্রতি তাঁর অবারিত চিত্তের নিগূঢ় ভালোবাসা।

এখানে প্রসঙ্গক্রমে একটি স্মৃতির উল্লেখ করতে চাই, ২৫ মার্চ রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মাখন, শহীদ, কাজী ফিরোজ, মাসুদ এবং আমিসহ আমরা ১৫/২০ জন একসঙ্গে ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে অনেক পীড়াপীড়ি করেও তাকে বের করে আনতে পারিনি। ২৫ মার্চ রাতে মিরপুর রোডে যখন ট্যাঙ্ক নেমে গেছে, আমার পীড়াপীড়ির মুখে তিনি ধমক দিয়ে বলেছেন, ‘Go and take command in control room of Iqbal Hall.’ প্রতিউত্তরে আমি জেদ করে বলেছিলাম, বস, ট্যাঙ্ক তো নেমে গেছে। এর উত্তরে আরো গম্ভীর ও দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বললেন, সো হোয়াট?? শেখ মুজিব পালিয়ে যাবে না। মরলে বাংলার মাটিতেই মরবে।’

নতুন প্রজন্মকে অবহিত করার জন্য আমার উল্লেখ করা নৈতিক দায়িত্ব, ’৭১-এর ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত লাখ লাখ মানুষকে উদ্দেশ্য করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার সোনার বাংলা লাখ লাখ মানুষের রক্ত এবং মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আমি রক্ত দিয়ে হলেও এসব শহীদদের ঋণ শোধ করব। আরো একটু পেছনে ’৭১-এর ৭ মার্চে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ- ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ।’ দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার, দুর্ভাগ্য এ দেশের মাটি ও মানুষের- নেতৃত্বের দুর্বলতা, অদূরদর্শিতা ও সাহসের অভাবের কারণে কোনো নির্দেশ পায়নি বলেই জাতি দাবানলের মতো জ্বলে উঠতে পারেনি। তবুও আল্লাহর কাছে শোকর আদায় করি, ওই নিষ্ঠুর পাপিষ্ঠদের শাস্তি অন্তত জাতি অবলোকন করতে পারল। হয়তো বঙ্গবন্ধুর আত্মা এতে কিছুটা হলেও তৃপ্ত হয়েছে।

অপ্রাসঙ্গিক কিনা জানি না, বঙ্গবন্ধুকে আমি বারবার অনুরোধ করেছিলাম, ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরমুহূর্ত থেকে (আমি ছাড়া অন্য কেউ হলে তিনি হয়তো ভুল বোঝার শিকার হতেন) রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে জাতির জনক হিসেবে জাতীয় ৪ নেতার মধ্য থেকে কাউকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান নেয়ার এবং মহাত্মা গান্ধীর অনুসরণে দলীয় আবর্ত থেকে ঊর্ধ্বে ওঠার। সেক্ষেত্রে জাতির পিতা থাকতেন সব সমালোচনা ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে। অথচ দেশ চলত কিন্তু তাঁরই নির্দেশে। আরেকটি ভুল সিদ্ধান্তের বিষয়ে বারবার আমি তাকে পীড়াপীড়ি করেছি (এর বিস্তারিত বিবরণ আমার প্রকাশিতব্য স্মৃতিচারণমূলক বইতে উল্লেখ আছে)। সেক্টর কমান্ডারদের ও পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সামরিক ব্যক্তিত্বদের সরাসরি সেনাবাহিনীতে নিয়োগ না দিয়ে বিদেশি দূতাবাস অথবা অন্য কোথাও তাদের স্থলাভিষিক্ত করুন। তাদের পদবী দেন, সম্মানী দেন, জায়গা দেন। তা তো করা হলোই না, বরং চাকরির প্রশ্নে মাত্র আড়াই বছরের মাথায় জ্যেষ্ঠতা দিয়ে ঢালাওভাবে মেজরকে মেজর জেনারেল পদে স্থলাভিষিক্ত করার বদৌলতে তাদের মাত্রাতিরিক্ত স্বপ্নবিলাসী, উচ্চাকাক্সক্ষী এবং অন্তর্কলহে লিপ্ত হওয়ায় উৎসাহিত করল।

বেসামরিক ক্ষেত্রেও সামঞ্জস্যহীনভাবে জ্যেষ্ঠতা প্রদান করে উপসচিবকে রাতারাতি সচিব, মুখ্য সচিব এমনকি রাঙ্গামাটির ডিসিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বানিয়ে প্রশাসনেও একটি হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি করা হলো। সর্বোপরি কম্যুনিস্টরা তাঁর অজান্তেই তাঁকে পরিবেষ্টিত করে ফেলল এবং পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক শক্তিসমূহের সঙ্গে সুকৌশলে বৈরিতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হলো। সে অনেক কথা যা এই স্বল্প পরিসরে বলা সম্ভব নয়।

এই প্রসঙ্গে এটুকু বলব, ভ্রান্ত বাম ও তাদের দোসররা জুলিও কুরির ধূম্রজালে নোবেল প্রাইজ থেকে শুরু করে পৃথিবীর অনেক বড় বড় সম্মাননা প্রাপ্তির সম্ভাবনা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করেছে। ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর তাদের অনেকেই জিয়াউর রহমানের সামরিক জান্তার সঙ্গে সহযোগিতা করেছে, খাল কেটেছে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করেছে তাদের অনেকেই আজ ক্ষমতাসীনই শুধু নয়, ভাবভঙ্গিতে মনে হয় শেখ হাসিনার পথপ্রদর্শক।

আমি আমার আরেকটি ব্যক্তিগত কথা উল্লেখ করতে চাই, ১৫ আগস্ট আমি শুধু হতবিহŸল, মর্মাহত, কিংকর্তব্যবিমূঢ়ই হইনি; আমি এতটাই অসহায় ছিলাম যে, না সংসদ, না সংগঠন, না প্রশাসন- কোনো জায়গায়ই আমার কোনো অবস্থান ছিল না- যেমন একাত্তরে আমার একহাতে ছিল বিষের বাঁশি আর হাতে রণতূর্য (ছাত্রলীগ ও স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ)।

তবুও আমার এইটুকু সান্ত্বনা- বাকশালের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও সামরিক জান্তার রোষানলে ১৯টি মাস আমাকে শুধু কারা নির্যাতনই ভোগ করতে হয়নি, এমন মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে যে, আমি প্রায়ই বলি, আজরাইলের চেহারা থাকলে আমি নিখুঁতভাবে সেটাকে বর্ণনা করতে পারতাম। বন্দি জীবনের সেসব দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজো আমি শিউরে উঠি। অন্যদিকে আল্লাহর কাছে শোকর আদায় করি, বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার কাছে এটিই আমার বিনম্র কৈফিয়ত যে, প্রতিহত করতে না পারলেও নির্যাতন ও নিগ্রহ সহ্য করে তোমার ‘আলম’ তোমার ভালোবাসার প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করতে পেরেছে এবং তার হৃদয়ের বিস্তৃত ক্যানভাসে আজো তোমার গণতান্ত্রিক চেতনার আদর্শ অনির্বাণ বলেই কোনো রকম প্রাপ্তি-প্রত্যাশা, নির্যাতন-নিগ্রহ তোমার ‘আলম’কে আজো এতটুকু টলাতে পারেনি। তোমার রক্তের উত্তরসূরির নীতির প্রশ্নে আজ যে বিচ্যুতি, সেখানে তোমার আত্মার যন্ত্রণা অনুভব করতে পারি বলেই প্রতিটি মুহূর্তে আমি এই বেষ্টনী ভাঙার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি। জীবন সায়াহ্নে এসে এটিই আমার একমাত্র সান্ত্বনা। ’৭০, ’৭১, ’৭২, ’৭৩-এর সময়টা ফিরে পেলে আবার গণমানুষের ফেনিল চূড়ায় ভিসুভিয়াসের মতো জ্বলে উঠে প্রমাণ করতাম আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি। (সংকলিত)

লেখক: নূরে আলম সিদ্দিকী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য / আহ্বায়ক, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ; সাবেক সভাপতি, ছাত্রলীগ (১৯৭০-১৯৭২); আহ্বায়ক, প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন

১৫ আগস্ট,জাতির জনক
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত