• রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

বিশ্বকাপে টাইগারদের অর্জন-ব্যর্থতা

প্রকাশ:  ১১ মে ২০১৯, ০০:৫৩ | আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০১:০১
স্পোর্টস ডেসক

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রথম খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ১৯৯৯ সালে। এরপর প্রতি বিশ্বকাপেই খেলছে টাইগাররা। সবমিলিয়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা এ পর্যন্ত ৪ টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে৷ এর মধ্যে ১১ টি ম্যাচে জিতেছে টাইগাররা৷ হেরেছে বিশটিতে৷

অভিষেকের বছরেই চমক

বিশ্বকাপে অভিষেকের বছর বাংলাদেশ প্রথম জয় তুলে নেয় তৃতীয় ম্যাচে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে৷ তবে টাইগাররা চমক দেখায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে৷ ১৯৯২ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৬২ রানে হারিয়ে দেন আকরাম খানরা৷ এটি এখনো বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সুখস্মৃতি৷

দূর্ভাগ্যের বছর টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ২০০৩ সালের বিশ্বকাপটি ভালো যায়নি বাংলাদেশের জন্যে৷ গ্রুপ পর্বের ৫ টি ম্যাচের হার আর ১ টি পরিত্যক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে গ্রুপের তলানিতে জায়গা হয়েছিল সেবার খালেদ মাসুদদের৷ আফ্রিকায় সেবার নবীন কানাডার কাছে হেরে যাওয়ার মতো হতাশাজনক ঘটনাও ঘটেছে৷

ভারতবধ আগের বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্নকে পেছনে রেখে অভিজ্ঞ আর নবীনদের সমন্বয়ে গড়া ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে বাংলাদেশ যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে৷ ২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ভারতকে ধরাশায়ী করেন মাশরাফি, রফিক, রাজ্জাকরা৷ শ্রীলংকার কাছে হারলেও বারমুডাকে হারিয়ে বাংলাদেশ জায়গা করে নেয় শেষ আটে৷ সেখানে প্রথম ম্যাচেই প্রোটিয়াদের বধ করে টাইগাররা৷

কুপোকাত ইংল্যান্ড ২০১১-র বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে৷ চট্টগ্রামে আগে ব্যাট করতে নেমে ২২৫ রানে অল আউট হয়ে যায় স্ট্রসদের দল৷ জবাবে ১৬৯ রানে টাইগারদের আট উইকেট পড়ে গেলেও শাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে আনেন মাহমুদুল্লাহ ও সাইফুল ইসলাম৷ পরের ম্যাচে সহজ জয় আসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে৷

ফের ইংলিশদের দুঃস্বপ্ন সবশেষ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল নবীন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০৫ রানের বিশাল জয় দিয়ে৷ স্কটল্যান্ডের ৩১৮ রান তাড়া করেও জিতেছিল সেবার মাশরাফি-বাহিনী৷ আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর সেঞ্চুরির বদৌলতে আবারও ধরাশায়ী হয় ইংলিশরা৷ প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপে টাইগাররা জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে৷

দলীয় সর্বোচ্চ রান ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ৩১৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল স্কটল্যান্ড। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কাইল কোয়েটজার ১৩৪ বলে ১৫৬ রান করেছিলেন। ১১ বল বাকি রেখেই টাইগার সেই রান টপকে গিয়েছিল। মাত্র চার উইকেট হারিয়ে করেছিল ৩২২ রান৷ তামিম করেছিলেন ৯৫ রান। মাহমুদুল্লাহ আর মুশফিক রহিম করেছিলেন যথাক্রমে ৬২ ও ৬০ রান। ছবিতে স্কটিশ অধিনায়ককে আউট করার পর টাইগারদের উদযাপন করতে দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সর্বনিম্ন রান ২০১১ সালে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। জুনায়েদ সিদ্দিকী (২৫) আর মোহাম্মদ আশরাফুল (১১) দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। অন্যদের সংগ্রহ ছিল তামিম (০), ইমরুল কায়েস (৫), মুশফিক রহিম (০), সাকিব (৮), রকিবুল হাসান (৪), নাইম ইসলাম (১), শফিউল ইসলাম (০), আব্দুর রাজ্জাক (অপরাজিত ২) এবং রুবেল হোসেন (০)।

সবচেয়ে বড় জয় বিশ্বকাপে মোট ১১টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০৫ রানের জয়টি ছিল রানের হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আর উইকেটের হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি এসেছে বারমুডার বিপক্ষে, ৭ উইকেটে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ৯৬। খেলাটি হয়েছিল ২০০৭ বিশ্বকাপে।

অল্প ব্যবধানে জয়

২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে ২৭৬ রানের টার্গেট দিয়েছিল টাইগাররা। এছাড়া উইকেটের হিসেবে বাংলাদেশের অল্প ব্যবধানের জয়টিও ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে হওয়া ঐ ম্যাচে ইংল্যান্ডের দেয়া ২২৬ রানের টার্গেট দুই উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। ছবিতে ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর টাইগারদের উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১টি করে ম্যাচ খেলেছেন সাকিব, মুশফিক ও তামিম৷ ফলে বাংলাদেশের সেরা তিন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের মালিকও তারা। তবে সবচেয়ে এগিয়ে সাকিব, তিনি করেছেন ৫৪০ রান। এরপর আছেন মুশফিক (৫১০ রান) ও তামিম (৪৮৩)। তিনজনই ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে দলে আছেন।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান বিশ্বকাপে একমাত্র মাহমুদুল্লাহই বাংলাদেশের পক্ষে শতক হাঁকিয়েছেন। একবার নয়, দুবার। দুটোই গত বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৩ রান করার চারদিন পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ছবিতে মাহমুদুল্লাহকে ঐ শতকের পর তা উদযাপন করতে দেখছেন।

সর্বোচ্চ উইকেট সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর মতো এই তালিকায়ও এক নম্বরে আছেন সাকিব আল হাসান। ২১ ম্যাচে তিনি ২৩টি উইকেট নিয়েছেন। এরপর আছেন আব্দুর রাজ্জাক (২০ উইকেট) ও মাশরাফি (১৮ উইকেট)।

বিশ্বকাপে টাইগরারা,বাংলাদেশ ক্রিকেট
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close