• রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ফণীর তাণ্ডবে তছনছ ওড়িশা, নিহত ৬

প্রকাশ:  ০৩ মে ২০১৯, ১৫:২৭ | আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ১৫:৫০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে ভারতের ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে ৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

শুক্রবার (০৩ মে) স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওড়িশা রাজ্যের পুরীতে আঘাত হানার সময় ফণীর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২১০ কিলোমিটার।

সম্পর্কিত খবর

    ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেদ্রপাড়া জেলার ৭০ বয়সী এক বৃদ্ধা আশ্রয় শিবিরে যাওয়ার পথে মারা যায়। এছাড়া পুরী জেলার দুইজন নিহত হয়। এদের একজনের বাড়িতে গাছ উপড়ে পড়লে নিহত হন এবং অন্যজনের ওপর ঝড়ো বাতাসে বাড়ির অ্যাজবেস্টস পড়লে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এছাড়া সাক্ষীগোপাল জেলায় গাছ পড়ে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর ও নয়াগড় জেলায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী দেয়াল ধসে নিহত হয়েছে। বাকী একজনের নিহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

    ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ওড়িশায় তাণ্ডব চালাবে ফণী। তারপর তা এগোতে থাকবে পশ্চিমবঙ্গের দিকে।

    সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আরও কয়েক ঘণ্টা ওড়িশাতেই থাকবে ঘূর্ণিঝড়। এমনিতেই ওড়িশার গোপালপুর, পুরী, পারাদ্বীপের মতো জায়গায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পুরী থেকে শুরু করে আরও কয়েকটি জায়গায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে।

    এদিকে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক সেরেছেন ওড়িশার মুখ্যসচিব।

    ১৯৯৯ সালের ওড়িশার পারাদ্বীপে সুপার সাইক্লোনের পর এই ফণীই সব থেকে বেশি শক্তিশালী ও মারাত্মক। ওড়িশায় ওই সাইক্লোনে প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষের। গত ৪৩ বছরে ভারতের সামুদ্রিক অঞ্চলের দিকে এত বড় ঝড় আর ধেয়ে আসেনি।

    এর আগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওড়িশার ১১টি জেলা থেকে মানুষকে সরানো কাজ শুরু হয়। পুরী, জগৎসিংহপুর, কেন্দ্রাপাড়া, ভদ্রক, বালাসোর, ময়ূরভঞ্জ, গজপতি, গঞ্জাম, খুরদা, কটক এবং জাজপুর।

    বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভারতের ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে দেশটির পূর্বাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড়টি।

    সাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় নিচু এলাকায়গুলোয় স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

    /পিপিবিডি/ওএম

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close