• রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ফণীর প্রভাবে খুলনায় পানির উচ্চতা বেড়েছে কয়েক ফুট

প্রকাশ:  ০৩ মে ২০১৯, ১৪:২১ | আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ১৫:৩৩
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর কিছুটা প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। যে কারণে শুক্রবার (০৩ মে) দুপুর থেকে বাড়ছে বাতাস ও নদ-নদীর জোয়ারের পানি।

উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছার লোকজনকে নিকটস্থ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার আগ পর্যন্ত সেখানে রোদ ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে কয়েক ফুট বেড়ে গেছে। এতে কয়রার কিছু জায়গায় বাঁধ উপচে লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ আটকে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

জেলা প্রশাসন থেকে গতকাল রাতের মধ্যে ওই অঞ্চলের মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলেছিল। তবে ঝড়ের আলামত দেখতে না পাওয়ায় অনেকেই সেখানে যায়নি। তবে সাড়ে ১১টার দিকে মানুষ আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটছে।

খুলনার সর্বশেষ জনবসতি অঞ্চল কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি এলাকার ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ এর মধ্যে জড়ো হতে শুরু করেছে।

আবার বাতাস শুরুর পর থেকে স্বেচ্ছায় কেউ কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছেন। সহায় সম্পদ রক্ষার জন্য পুরুষেরা ঘরে থেকে গেলেও বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা আশ্রয় কেন্দ্র চলে এসেছেন। কোনো কোনো এলাকার মানুষ ঘর-বাড়ি ছাড়তে না চাইলে তাদের জোর করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রথমে দাকোপ উপজেলার ৪নং খোনা খাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোনা কে বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে কয়রা ও পাইকগাছার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষ আনা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায়। পাশাপাশি আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য চলছে মাইকিং

দক্ষিণ বেদকাশীর ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির টিম লিডার মো. মশিউর রহমান বলেন, সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো থাকায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছিল না। আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলে মানুষ সাইক্লোন সেন্টারে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ওই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

খুলনা আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ফণী ঘূর্ণিঝড়টি এখন মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। আজ মধ্যরাত নাগাদ এটা খুলনার উপকূল এলাকা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যে আবহাওয়া অবনতি হতে শুরু করেছে।

পিপিবিডি/জিএম

খুলনা,উপকূলীয় এলাকা,জোয়ারের পানি,আশ্রয়কেন্দ্র
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close