• শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
  • ||

বড় কোনও দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টি আর জোটবদ্ধ হবে না: চুন্নু

প্রকাশ:  ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টি আর জোটবদ্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, বড় কোনও দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টি আর প্রেম করবে না। আমাদের প্রেম দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির নীতিগত অনেক অমিল আছে। অনেক ইস্যুর কারণে তারা এক টেবিলে বসতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তাদের মধ্যে চরিত্রগত কোনও অমিল নেই।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) জাপার বনানী কার্যালয়ে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৬ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি সংবিধান সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

চুন্নু বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুর্নীতি, দুঃশাসন, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজি আর দলীয়করণের মাধ্যমে দেশের শান্তি শেষ করেছে। দেশের মানুষ তাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দুটি দলের ওপর দেশের মানুষ বিরক্ত হয়ে আছে।

জাপা মহাসচিব বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে এক ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে। যিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান, তিনিই আইন সভারও প্রধান আবার রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিচার বিভাগও অনেকটাই তার হাতে। বিপুল ক্ষমতা একজনের হাতে থাকলে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে না। আবার ভুল-ত্রুটিও বেশি হয়। একজনের হাতে সব ক্ষমতা থাকলে রাষ্ট্রের কোনও ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা থাকে না। তাই দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু দেশের মানুষ সুশাসন পায়নি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রমাণ করেছে তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হেরে বিএনপি বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আবার ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।

তিনি বলেন, শুধু আনুপাতিক হারে নির্বাচন হলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। আনুপাতিক হারে নির্বাচনে শুধু প্রতীক থাকবে, কোনও প্রার্থী থাকবে না। তাই, এই নির্বাচনে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য হওয়ার সুযোগ থাকে না।

তিনি আরও বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণমানুষের ওপর আস্থা আর গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমেদের স্থলে প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পল্লীবন্ধু সবসময় সংবিধানকে সমুন্নত রেখেছিলেন। কিন্তু বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ জাতীয় পার্টির সাথে অবিচার করেছিলেন। তিনি সব রাজনৈতিক অধিকার থেকে জাতীয় পার্টিকে বঞ্চিত করেছিলেন। কিন্তু দেশ ও মানুষের ভালোবাসায় সেই নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে নির্বাচিত হয়েছে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জেলে থেকেই ৫টি করে আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জাপা মহাসচিব বলেন, ইতিহাস বলে- সেনাশাসক থেকে রাজনীতিতে এসে সবাই নির্বাসিত হয়েছে অথবা ফাঁসি-কাষ্ঠে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম হচ্ছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মানুষের ভালোবাসায় আমৃত্যু রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছে। জেলে থেকে নির্বাচন করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন পল্লীবন্ধু এরশাদ।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনও অনৈক্য নেই। চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে। কিছু নেতা চলে গেলেও পার্টির ক্ষতি হবে না। জাতীয় পার্টি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং লাখো সাপোর্টার গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের ওপর আস্থা রাখে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত কেউ মামলা করলে জাতীয় পার্টির কোনও সমস্যা হবে না। জাতীয় পার্টি আদালতের ওপর আস্থাশীল। আমরা আশা করছি, উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পাব।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহিষ্কৃতদের মধ্যে যারা ক্ষমার যোগ্য অপরাধ করেছে তারা ক্ষমা চাইলে পার্টি চেয়ারম্যান বিবেচনা করবেন। কিন্তু যারা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে, তাদের ক্ষমা করার প্রশ্নই আসে না।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, কোনও ষড়যন্ত্রে জাতীয় পার্টির ঐক্য নষ্ট হবে না। জাতীয় পার্টির মাঝে কেউ বিভাজন সৃষ্টি করতে পারবে না। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাঙ্গল সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

এসময় বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাড. মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মো. বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন।

মুজিবুল হক চুন্নু,জাতীয় পার্টি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close