• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯
  • ||

ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে নতুনত্বের খোঁজে 

কোন বিভাগে থেকে আসছেন নতুন নেতা!

প্রকাশ:  ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ৬ ডিসেম্বর। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে আওয়ামী লীগের নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের চলছে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ। তবে সবাই বলছেন, কমিটি চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই।

সংগঠনের নতুন নেতৃত্বের জন্য মেধা ও যোগ্যতার বিবেচনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এজন্য আসতে পারে নতুন চমক। কেমন হবে ছাত্রলীগের কমিটি। নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে কারা? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজেছে অনলাইন পূর্বপশ্চিম বিডি অনলাইন।

এতে জানা যায়, ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে নতুনত্বের খোঁজ করা হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে তাই আলোচিত হচ্ছে আগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও।

সংগঠন সূত্র বলছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসীন হতে এরইমধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন পদের দাবিদাররা। এবারের সম্মেলনেও আলোচিত হচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্বের গুঞ্জন।

অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা-

চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে : কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, উপসাহিত্য সম্পাদক জয়জিৎ দত্ত, সহসভাপতি ইফতেখার আহমেদ সজিব।

বরিশাল অঞ্চল থেকে : বরিশাল বিভাগ থেকে আলোচনায় আছেন সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপবিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ইনান, গণশিক্ষাবিষয়ক উপসম্পাদক সোলাইমান ইসলাম মুন্না, সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসাইন, আপ্যায়ন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ফাহাদ, সহ সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ, সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন, কর্মসংস্থান বিষয়ক উপ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়।

ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে : কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি খায়রুল হাসান আকন্দ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মেহেদি হাসান তাপস, সহসম্পাদক রাকিব সিরাজী, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপসম্পাদক রাশিদ শাহরিয়ার উদয়, সহ সভাপতি সোহান খান, সহ সম্পাদক মো. রিপন মিয়া।

ফরিদপুর ও মাদারীপুর: ঢাকার পার্শ্ববর্তী ছাত্রলীগের সাংগঠনিক বিভাগটি থেকে আলোচনায় আছেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাকিব হোসাইন, কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মোহাম্মদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, ঢাবির মুহসীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদুল হক শিশির।

খুলনা অঞ্চল থেকে : কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন, উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক খন্দকার হাবিব আহসান।

উত্তরবঙ্গ থেকে : কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক আল আমিন সিদ্দিকী সুজন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, উপদপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ফরিদা পারভীন, সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন, শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মন।

ঢাকা অঞ্চলের প্রার্থীদের মধ্যে সার্জেন্ট জহরুল হক হলের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাইপুল্লা আব্বাছী অন্তর, এফ রহমান হলের সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় উপ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাহিম, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক শামীম শেখ তুর্জ, শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক মো. ইরফানুল হাই সৌরভ, উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মো. নিয়ামত উল্লাহ তপন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়সসীমা থাকতে হবে, অবিবাহিত থাকতে হবে, ছাত্র হতে হবে। নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্যতা আছে, ছাত্রসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন নেতৃত্ব উঠে আসুক, এটি আমরা চাই।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের পর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষ করার আগেই ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারা পদত্যাগ করেন। এরপর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যথাক্রমে আল নাহিয়ান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। তিন মাস ভারপ্রাপ্ত থাকার পর ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাদের ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মেয়াদকাল দুই বছর। আর মেয়াদকালের মধ্যে সম্মেলন আয়োজন করার নিয়ম থাকলেও তা করতে পারেনি জয়-লেখক। পরে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের আয়োজনের নির্দেশনা দেয়।

ছাত্রলীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close