• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯
  • ||

ক্ষমা চাইলেন নোয়াখালীর একরামুল, ক্ষমা করলেন ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ:  ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আর এক দিন পর ৫ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলনকে ঘিরে জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির পালে ঐক্যের হাওয়া বইছে। বিবাদের পরিবর্তে মিলেমিশে চলার নীতি এখন সবার মধ্যে। আর এই সুযোগে ফেসবুক লাইভে যিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সন্তান বলেছেন, তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইছেন। স্লোগান দিচ্ছেন ‘কাদের ভাই’, ‘কাদের ভাই’ বলে। আবার ওবায়দুল কাদেরও ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা যেমন দিয়েছেন, তেমনি বলেছেন, তিনি কোনো কিছুই ভুলে যাননি। তবু বড় হিসেবে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি রাতে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সন্তান বলেছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি তখন জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে অবশ্য প্রস্তাবিত ওই কমিটি বিলুপ্ত করে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ৮৭ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে। ওই কমিটিতে সদস্য হিসেবে ঠাঁই হয় টানা তিন মেয়াদের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর।

সম্পর্কিত খবর

    ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) আসনের গত তিন মেয়াদের টানা সংসদ সদস্য। এর আগেও তিনি ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর যোদ্ধা। তিনি মুক্তিযুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওবায়দুল কাদেরের বাবার নাম মোশাররফ হোসেন। তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠী ছিলেন। তাই ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সন্তান বলা নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম হয়।

    একরামুল করিম চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার ও তাঁর সব অপকর্মের বিচারের দাবিতে গত বছরের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে কোম্পানীগঞ্জের মুজিব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একই দাবিতে জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া, কবিরহাট, সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রতিটি কর্মসূচিতেই দলের শীর্ষ নেতাকে নিয়ে অশোভন মন্তব্য করার ঘটনায় অভিযুক্ত নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছিল।

    এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, শাস্তির প্রশ্ন যদি আসে, তাহলে একরামুল করিম চৌধুরী শাস্তি পেয়েছেন। তিনি যে শাস্তি পেয়েছেন, তা সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালী আওয়ামী লীগের কেউ পাননি। টানা ১৭ বছরের সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন একটি বড় শাস্তি। এ ছাড়া সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি আহ্বায়ক কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেন্দ্রে চূড়ান্ত বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ করাও আরেকটি শাস্তি।

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close