• সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

ভাণ্ডারিয়ায় জেপির কমিটি নিয়ে বিতর্ক!

প্রকাশ:  ০১ অক্টোবর ২০২২, ২০:২২
নিউজ ডেস্ক

পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১০২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক, জাতীয় পার্টি (জেপি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নির্ভর এ দলটি উপজেলা কমিটি ঘোষণা করে। যেখানে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি রাজনৈতিক দল এক উপজেলায় ২ জন সভাপতি ও ২ জন সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেছে। যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

কমিটিতে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মালিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রী ও পত্রিকাটির সম্পাদক তাসমিমা হোসেনকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। সভাপতি করা হয়েছে মনিরুল হক মনি জোমাদ্দারকে আর কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মঞ্জুর চাচাতো ভাই মাহিবুল হোসেন মাহিমকে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান টুলুকে উপদেষ্টা সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদারকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম এই কমিটির অনুমোদন দেন।

একই কমিটিতে কিভাবে দুই জন সভাপতি ও দুজন সাধারণ সম্পাদক হয় এ নিয়ে দলের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি নবনির্বাচিত সভাপতি মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদারের পরিবার যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের পরেও কিভাবে মহাজোটের শরিক একটি দলের কমিটিতে তারা স্থান পেলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ. আজিজ শিকদার ও ভাণ্ডারিয়ার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খান এনায়েত করিম এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য কমান্ডারদের দাবি, মনিরুল হক মনি জোমাদ্দারের পিতা আব্দুল মজিদ জোমাদ্দার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পূর্ব পাকিস্তান ভাণ্ডারিয়া উপজেলা শান্তি কমিটির (পিস কমিটি) তৎকালীন সভাপতি এবং নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদারের পিতা আশরাফ তালুকদার ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ভাণ্ডারিয়া উপজেলা শান্তি কমিটির (পিস কমিটি) সাধারণ সম্পাদক।

এছাড়া জেপির ভাণ্ডারিয়া কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দারের পিতা নুরুল হক জোমাদ্দার ছিলেন স্বীকৃত রাজাকার, যাদের উদ্দেশ্য ছিল - বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধরত বাঙালি মুক্তিবাহিনীকে দমন করা। সে সময়ের শান্তি কমিটির বিভিন্ন অফিসিয়াল কাগজে আব্দুল মজিদ জোমাদ্দার ও আশরাফ আলী তালুকদারের সিল সম্বলিত সাক্ষর করা নথিও তাদের কাছে আছে বলে দাবি করেন।

রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাণ্ডারিয়া তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন এবং ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের অপরাধমূলক ঘৃণ্য কার্যকলাপ দ্বারা নিরীহ মানুষের উপর যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছিলেন। সেই রাজাকার ও শান্তি বাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের সন্তানদের দিয়ে কিভাবে মহাজোট সরকারের সমর্থিত দল জাতীয় পার্টি (জেপি)’র উপজেলা কমিটি হয় তা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির জোটের শরিক হয়েও জাতীয় পার্টির জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাণ্ডারিয়ায় জেপির এই কমিটির মাধ্যমে রাজাকার পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান কি না, তা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। একই কমিটিতে দুই সভাপতি ও দুই সাধারণ সম্পাদক এবং কমিটির মাধ্যমে ভাণ্ডারিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার থেকে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় চলছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন।

এর আগে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জেপির ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আতিকুর ইসলাম উজ্জল তালুকদারের নারী কেলেঙ্কারির পৃথক দু’টি আপত্তিকর ভিডিও এবং একটি অডিও ফাঁস হয়। যে ভিডিও ও অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তখন থেকেই জেপির এক অংশ তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলো।

এ ব্যাপারে জেপি’র নতুন কমিটির মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার ও আতিকুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে কথা বলতে তাদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য ভাণ্ডারিয়া উপজেলা হলো জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নিজ নির্বাচনী এলাকা ও তার বাড়ি। এছাড়া এই দলটির কার্যক্রম ভাণ্ডারিয়া ছাড়া অন্য কোথায় কখনো দৃশ্যমান দেখা যায় না। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বারবার একটি মাত্র (পিরোজপুর-২) সংসদীয় আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েও মহাজোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যা নিয়ে জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে।

বিতর্ক,জেপি,ভাণ্ডারিয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close