• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

১৪ দলীয় জোট ছাড়লো বাংলাদেশ জাসদ

প্রকাশ:  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ দফার ভিত্তিতে ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় তারা। ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় তারা। জোটের দলগুলোর মধ্যে চাওয়া-পাওয়ার ক্ষোভ থাকলেও সেটা প্রশমিত করেছে ক্ষমতাসীনরা। তবে এতেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি। আজ শনিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ। একই সঙ্গে তিনি অন্য শরিকদেরও জোট ছাড়ার আহ্বান জানান।

আজ শনিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে সংগঠনটির প্রথম সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে এ কথা জানান শরীফ নুরুল আম্বিয়া।

সম্পর্কিত খবর

    আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ছাড়ার ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘১৪ দলীয় জোট এখন ভাইরাস প্ল্যাটফর্ম। ওখানে সব দল এখন আওয়ামী লীগের কাজ করে। ১৪ দলের শরিক অন্য দলকেও ওখান থেকে সরে এসে গণতন্ত্রের পথে ন্যায়সংগত সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আম্বিয়া বলেন, ‘২০০৫ সালে ২৩ দফার ভিত্তিতে আদর্শিক ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়েছিল। এখন জোট নেতৃত্বাধীন দল যে কোনোভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এখানে আদর্শ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখন দুর্বৃত্ত ও তাদের চাটুকাররা নিয়ন্ত্রণ করে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

    বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি বলেন, ‘২০১৮ সালের কায়দায় নির্বাচন করার ইচ্ছা ক্ষমতাসীনদের পরিত্যাগ করতে হবে। কিছু দালাল, চাটুকার ও সুযোগসন্ধানী হয়তো ওত পেতে আছে এমন নির্বাচনে যাওয়ার জন্য। তাতে কোনো লাভ নেই। এমন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। ক্ষমতাসীনরা যদি নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় তা করতে চায় তবে তা হলে অতীত বাকশাল গঠনের চাইতেও খারাপ সিদ্ধান্ত।’

    এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘মেনন ভাই মাঝে মাঝে গরম কথা বলেন। কিন্তু পরে আবার ঘরের ভেতর গিয়েই বসে থাকেন।’

    নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সৃষ্ট সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষ করার প্রস্তাব দেন তিনি। আম্বিয়া বলেন, ‘এই জন্য আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানই উচিত হবে। সময় থাকতেই সরকারপক্ষের তা করা উচিত। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী। গণতন্ত্র সচল করতে আরও অনেক সংস্কার রয়েছে।’

    শরীফ নুরুল আম্বিয়ার আহ্বান সম্পর্কে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘তিনি যে জোট ছেড়ে চলে গেলেন, কাউকে বলে যাননি। তিনি নিজে গেছেন। খামোখা অন্যকে আহ্বান করে লাভ কী?’ তিনি বলেন, ‘জোটেতো আরও রাজনৈতিক দল ছিল। তাদের সঙ্গে কোন রকম আলাপ-আলোচনাই করেননি তিনি (আম্বিয়া)। কারও সঙ্গে আলোচনাই করেননি। এখন আবার আজকে আহ্বান জানাচ্ছেন। এই নিয়ে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে হবে, তাতো হয় না।’

    বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা মহানগর ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে জোটের মুখপাত্র আমু ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি কথা বলবেন।’

    জোটের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে। তিনি ব্যস্ত বলে কল কেটে দেন।

    এর আগে প্রথম অধিবেশনের আলোচনা পর্বে যোগ দেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মহসীন মন্টু, সিপিবি সভাপতি শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান প্রমুখ।

    আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘সরকার বিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তি ঔপনিবেশিক কাঠামো পরিবর্তন, রাষ্ট্র সংস্কার ও মেরামতের প্রশ্নে সুস্পষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে অনিবার্য করে তুলছে। রাষ্ট্র ও সমাজ রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন রচনা করতে হবে।’

    সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় যাব এ জন্য নয় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ পায়। আমাদের সন্তানেরা যেন পড়ালেখার জন্য বিদেশে যেতে না হয়। আমাদের সম্পদের নিয়ন্ত্রক যাতে আমরা হতে পারি। আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলি।’

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close