• শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

কেন্দ্র এড়িয়ে কাজ চালাবে ধর্ষণকাণ্ডে সমালোচিত ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন

প্রকাশ:  ২৭ মার্চ ২০২২, ১৬:৩৭ | আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ১৭:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ষণকাণ্ডে ভুক্তভোগীকে উল্টো দোষী বানানোর চেষ্টা ও ধর্ষককে কমিটিতে নেয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কমিটিকে কেন্দ্রীয় কমিটির স্থগিতাদেশ দেয়া হলেও দায় এড়িয়ে কেন্দ্রের নেওয়া ব্যবস্থাকে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ প্রচারণা দাবি করেছেন ওই কমিটির নেতারা।

শনিবার (২৬ মার্চ) ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল কুম্ভকার ও সাধারণ সম্পাদক আদনান আজিজ চৌধুরীর পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন কমিটি কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি বিভ্রান্তি-বিভেদ সৃষ্টিকারী সংবাদ। ঐক্য বিনষ্ট করতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এতে বলা হয়, ঢাবির এক ছাত্র ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা এবং ভুক্তভোগীকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হচ্ছে। ছাত্র ইউনিয়নের যে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা যে কোন ধরনের অন্যায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংগঠন সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রেও কোন ব্যতিক্রম হয়নি। ভুক্তভোগীকে সাংগঠনিকভাবে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও জানান তারা।

এছাড়াও অযৌক্তিক স্থগিতাদেশ, বহিষ্কার, বিলুপ্তি ও অব্যাহতির মতো হীনরাজনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে সংগঠনের ঐক্য সুসংহত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতৃবৃন্দ।

ছাত্র ইউনিয়নের সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্তের সঙ্গে ঘুরতে যান ভুক্তভোগী। এ সময় ফাঁকা কক্ষে পেয়ে কিশোরীর সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তরুণী বাঁধা দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে সে ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ কমিটির কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করে। এতে সে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে দাবি জানায় এই ‘ধর্ষক’কে যেনো কোনো পদায়ন না করা হয়। পরে নেতারা তাকে জানান অভিযুক্তকে কোন ধরণের কর্মসূচিতে নেওয়া হবে না।

তবে গত ১৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নে বিদ্রোহীদের অধ্যুষিত কমিটি গঠন করা হলে তাতে অভিযুক্তকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ঘটনার পরেই গত ২০ মার্চ ওই তরুণী ফের ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাদের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ জানান। এর পরেই অভিযুক্তকে বহিষ্কার করার ঘোষণা আসে। তবে ওই ঘোষণায় ভুক্তভোগীকে দোষারোপের অভিযোগ ওঠে। পরে এনিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পরে ছাত্র ইউনিয়ন।

এদিকে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার নিয়ে ঢাবি কমিটির বিরুদ্ধে সমালোচনায় প্রেক্ষিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঢাবি কমিটি বিলুপ্ত করে ফয়েজ-দীপকের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি।

তবে ঢাবি কমিটির বিলুপ্তির বিরোধিতা করে তাদের পাশে দাঁড়ায় জয়-রাগিবের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা। সবশেষ ধর্ষণকাণ্ডে সমালোচিত ঢাবি কমিটির বিবৃতিতে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ প্রচারণা আখ্যা দিয়ে সিদ্ধান্ত অমান্যের ঘোষণা দেয়া হল।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিতাদেশ দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ তার কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রাখবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শিমুল কুম্ভকার।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি ছাত্র ইউনিয়নের নিপীড়ন বিরোধী সেলে তদন্ত করা হবে। ভিক্টিম ব্লেমিংয়ের মত ঘটনা ছাত্র ইউনিয়নের নীতি-নৈতিকতা বিরোধী। সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায়ে ঢাবি কমিটি তদন্তকালীন সময় পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এরপর আমরা ব্যবস্থা নেব।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছাত্র ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কমিটি স্থগিত করে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেএস

ছাত্র ইউনিয়ন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close