• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না: ফখরুল

প্রকাশ:  ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৮ | আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। তারা বলেন, সরকার পতনের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই ভোট হতে হবে।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই আমরা একটি নতুন সরকার গঠন করবো। আর যুবদলকে অনুরোধ করবো তারা যাতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তারা যেন স্বপ্ন দেখে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের, একটি আধুনিক জাতি গঠনের।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চেয়েছেন যে দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে, রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে ও জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। ৪৩ বছরে জাতীয়তাবাদী যুবদল নিঃসন্দেহে তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। আমি আজকের এই দিনে স্মরণ করতে চাই জাতীয়তাবাদী যুবদলের যেসব নেতাকর্মী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের যে সংকটময় মুহূর্ত সেই মুহূর্তে সবচাইতে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে যুবদলকে। এই যুবদলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশের মানুষকে সংগঠিত করে এই ভয়াবহ দানবীয় যে সরকার আমাদের বুকের উপর চেপে বসে আছে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে। যে সরকার আমাদের গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে আটক করে রেখেছে, আমাদের স্বপ্নের নেতা তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রেখেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তাদেরকে পরাজিত করতে যুবদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। আজকের সংকট কাটিয়ে উঠতে চাইলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমারা পরিষ্কার করে বলেছি, আমরা এই সরকার পরিবর্তন চাই। এই যুবকরাই সেই পরিবর্তন আনতে পারে। আর সেই পরিবর্তন আনতে হলে আজকে অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যুবদল ও ছাত্রদল বিএনপির প্রবেশ দ্বার। ছাত্রদল ও যুবদল শক্তিশালী হলে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে। আগামী আন্দোলন সংগ্রামে তাদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আর কথা নয়, প্রতিজ্ঞা নয়। সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণকে দেখিয়ে দিতে হবে আমরাও পারি। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দেশে পরিবর্তন আনতে পারে জিয়াউর রহমানের সৈনিকরাই।

যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের যৌথ সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

এরআগে সকালে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে শেরে বাংলানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান যুবদলের নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা শেষে মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার বিএনপিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে তাড়াতে বিএনপি যথেষ্ট। এ কারণে সরকার বিএনপিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, এসব ঘটনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওদের যা উদ্দেশ্য ছিল তা পূরণ করার চেষ্টা করেছে। প্রথমত, বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে জাতির কাছে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, ভারতে নির্বাচন চলছে সেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। তৃতীয়ত, বাংলাদেশে যে নির্বাচন আসছে সেই নির্বাচনে প্রভাব ফেলা। এটা মোটেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

আওয়ামী লীগ,বিএনপি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close