• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

শাজাহান খানকে ‘বাহাদুরি’ থামাতে বললেন জেলা আ.লীগ সভাপতি

প্রকাশ:  ২০ অক্টোবর ২০২১, ০১:২০ | আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৭
মাদারীপুর প্রতিনিধি
শাজাহান খান

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেছেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী। তাই আপনি ভয় পাচ্ছেন। যদি নৌকা জিতে যায় তাহলে আমার বাহাদুরি থাকবে না। বাহাদুরি থামান! আর বাহাদুরি করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে তারপর নৌকার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে আপনাকে। তা না হলে আপনি যখন সংসদ নির্বাচনে নৌকা চাইবেন, তখন কী হবে সেটা একবারও কি চিন্তা করেছেন?

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘মাদারীপুরের মানুষ প্রতিবারই নৌকাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। আজ তৃণমূল নেতারা নৌকা চাইছেন, আর নৌকা মার্কা দিয়ে ছয় বারের এমপি হয়ে আপনি (শাহাজান খান) তার বিরোধিতা করছেন! নৌকা না দেওয়ার জন্য নিজের প্যাডে ডিও লেটার দিচ্ছেন! কিন্তু হঠাৎ করে কেন আপনার নৌকা নিয়ে অনীহা? কেন নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন! এর রহস্য কী? এটা আমাদের জানা দরকার।’

সম্প্রতি মাদারীপুরে একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন। যা নিয়ে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা শাজাহান খানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নৌকার এমপি হয়ে লাভবান হয়েছেন। গাড়ি-বাড়ি, ধন-দৌলত কম হয়নি আপনার। আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর কিছু হয়নি। আপনার পরিবার ছাড়া আপনি কিছুই বোঝেন না। এখন দেখছেন নৌকা আপনার পরিবারের লোকজন আর আপনার দালালেরা পাবে না, তাই নৌকার বিরোধিতা শুরু করেছেন। সময় আছে, সাবধান হয়ে যান। না হলে আওয়ামী লীগ আপনাকে ছাড়বে না।’

নৌকার কারণে শাজাহান খান ও তার পরিবার আজ স্বাবলম্বী উল্লেখ করে শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, শাজাহান খানের পরিবার আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী। মাদারীপুরের প্রতিটি জায়গায় বড় বড় অট্টালিকার মালিক হয়েছে তার পরিবার। শহরের যেদিকে তাকাবেন, সেদিকেই দেখবেন বড় বড় অট্টালিকা দেখা যাবে। যা সব খান পরিবারের। এসব একমাত্র নৌকার কারণে হয়েছে।

বর্ধিত সভায় সাংসদ শাজাহান খানের তীব্র সমালোচনা করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে বলেন, আপনার লোকজন নৌকা পাবে না সেটা ভেবে আপনার কাছে নৌকা এখন দুর্গন্ধ হয়েছে। নৌকা যেহেতু আপনার কাছে এতটাই দুর্গন্ধ হয়ে গেছে, আপনিও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কা চাওয়ার নৈতিক অধিকার রাখেন না।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চৌকিদার বলেন, তৃণমূলের মানুষ নৌকা চান। কিন্তু শাজাহান খান নৌকা চান না। তৃণমূলের ভোটে ও সমর্থনে তিনি বার বার নৌকায় নির্বাচিত সাংসদ, দুইবারের মন্ত্রী। তিনি এসব ভুলে গেছেন! তার ভুল না শোধরালে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাকে ক্ষমা করবেন না।

এসব বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এমপি শাজাহান খানকে একাধিবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মাদারীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ইউপি নির্বাচন নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চোকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাদুর রহমান মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ। এ সময় সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

মাদারীপুর,শাজাহান খান,আওয়ামী লীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close