• বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

হেফাজতের আরো দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ:  ২১ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
খোরশেদ আলম কাশেমী ও মুফতি শরফাত হোসাইন

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কাফরুলে বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের আরো দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

তারা হলেন- বাংলাদেশ হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির খুরশিদ আলম কাসেমী এবং খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি শরাফত হোসাইন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে কাসেমীকে এবং কাফরুল থেকে শরাফতকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একাধিক দল। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনায় মতিঝিল থানায় হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তারা। আমরা জেনেছি, মুফতি শরাফত হেফাজতের ইসলামের নেতা মামুনুল হকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারি মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন এবং হেফাজতে ঢাকা মহানগরের সহ সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব কোরবান আলী কাসেমীকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার রাতে হেফাজত ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রীর বাসায় দেখা করে দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু মোদির সফরের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলামসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

এই প্রতিবাদের জের ধরে ঢাকায় ব্যাপকভাবে সহিংস ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভের সময় চারজন নিহতের ঘটনাও ঘটে। এরপর দুদিন ধরে সহিংসতা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও একাধিক প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটে। হামলা ও ভাঙচুর করা হয় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়েছে; যাতে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের নামও রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত হাজার হাজার মানুষকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন হেফাজতে ইসলামের নেতাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলে তাণ্ডবের ঘটনায়ও অনেক হেফাজতে ইসলামের নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সেসব মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে নেতাদের।

বিভিন্ন সময়ে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, নায়েবে আমির মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল ইসলাম ইসলামাবাদী, হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা শাখাওয়াত হোসাইন রাজী, ঢাকা মহানগরের নায়েবে আমির মোহাম্মদ যোবায়ের, মাদানীনগর মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি বশির উল্লাহ প্রমুখ।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রেপ্তার হলেন- খুরশিদ আলম কাসেমী ও মুফতি সারাফত হোসেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

হেফাজতে ইসলাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close