• সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

করোনা আক্রান্ত সাবেক মন্ত্রী মতিন খসরু আর নেই

প্রকাশ:  ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৭:২৫ | আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

তার জুনিয়র (সহকারী আইনজীবী) ও ভাগ্নে তাসলিম আহমেদ খান জানিয়েছেন, বুধবার বিকালে তার মৃত্যু ঘোষণা করে চিকিৎসকরা।

আবদুল মতিন খসরু গত ১৫ মার্চ সংসদ সচিবালয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ১৬ মার্চ সকালে তার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। ওইদিনই তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

গত ২৮ মার্চ রাত ১২টার দিকে আব্দুল মতিন খসরুকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে ১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। গত ৩ এপ্রিল অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুকে সিএমএইচের আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। ৬ এপ্রিল সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

মতিন খসরুর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

মতিন খসরুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন শোক জানিয়েছেন।

আবদুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিন খসরু কুমিল্লা-৫ আসনে পাঁচবারের সংসদ সদস্য। ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সংবিধান ও মানবতাবিরোধী কালো আইন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিলের পক্ষে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যার ফলশ্রুতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের বিচারের পথ উন্মোচিত হয় এবং পরবর্তীকালে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।

শিক্ষাজীবনে তিনি এলএলবি এবং বি.কম পাশ করে ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজ কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন আব্দুল মতিন খসরু। পরে ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে নিয়মিত প্র্যাকটিস শুরু করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন।

বাংলাদেশের বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কার ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আবদুল মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকাকালীন বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড জুডিসিয়ারি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রজেক্ট নামে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। আইনজীবীদের কল্যাণে সর্বোত্তম সহায়তা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অ্যানেক্স ভবন ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ভবন নির্মাণের সমূদয় পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেন। যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়। হাইকোর্টের মূল ভবন ও পুরনো ভবনের মধ্যে যাতায়াত সুবিধার জন্য একটি গ্যাংওয়ে নির্মাণ এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনসহ সারা বাংলাদেশের বিচারালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস,আওয়ামী লীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close