• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

গ্রেপ্তারের আগে বাদলের স্ট্যাটাস: আতঙ্কে আত্মগোপনে অনুসারীরা

প্রকাশ:  ১২ মার্চ ২০২১, ১৬:৫৪
নোয়াখালী প্রতিনিধি

বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তারের আগে বাদলের দেয়া একটি ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর থেকে আত্মগোপনে তার অনুসারীরা।

নাশকতার এক মামলায় ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে বাদলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বাদলকে সাদা পোশাকের লোকজন নিয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাদলের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেখা যায়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সবাই ধৈর্য ধরুন। দেহে একবিন্দু রক্ত থাকতেও প্রিয় নেত্রী ও প্রিয় নেতার অপমান আমরা সইব না। কোম্পানীগঞ্জকে অপশাসনের হাত থেকে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেখা হবে মুক্ত কোম্পানীগঞ্জে।

এই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাদলের অনুসারীরাও এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নোয়াখালীর প্রেসক্লাব এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে বাদলকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। তখন পরিবার জানিয়েছিল, সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে।

মিজানুর রহমান বাদলের ছোট ভাই রহিম উল্যাহ বিদ্যুৎ জানান, তার ভাইকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তার করছে না?’

এদিকে মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর বসুরহাট এলাকায় যে থমথমে পরিস্থিতি ছিল, তা বৃহস্পতিবার অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল । তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। পর্যাপ্ত পুলিশ ও র‌্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কোম্পানীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের বিরোধের জেরে গত দেড়-দুই মাস ধরে পুরো উপজেলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মারা যান। এরপর গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলাউদ্দিন নামের যুবলীগের এক কর্মী মারা যান। এ ছাড়া ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।

-পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

স্ট্যাটাস,গ্রেপ্তার,বাদল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close