• বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

আ.লীগের নেতৃত্বে গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে গেছে: ফখরুল

প্রকাশ:  ০২ মার্চ ২০২১, ২০:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ জাতিকে বিভক্ত করেছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে গেছে। তারা শুধু তাদের নেতা এবং যে সমস্ত নেতৃবর্গ আছেন তাদের ছাড়া আর কাউকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্যে স্বীকৃতি দিতে চায় না।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভার আগে মিলনায়তনের সামনে বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, নুরুল হক নুরের যে বক্তব্য সেই বক্তব্যে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলো যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা আজকে ঐক্যবদ্ধ হতে চায়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার গণআন্দোলন সৃষ্টি করে তারা সরকারের পতন ঘটাতে চায়। সত্যিকার অর্থেই জনগণের একটা পার্লামেন্ট, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আসুন আজকে আমরা সেই শপথ নিয়ে সেই লক্ষ্যে সংগঠিত হই।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা কোনো একজন বিশেষ ব্যক্তি বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের কারণে আসেনি। স্বাধীনতা এসেছে দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মানুষের যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা- সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা করে আসছিলো, সেজন্য এখানে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলন হয়েছে, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ।

স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা জানাতে চাই যিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে এ দেশের স্বাধীন হওয়া হতো না। তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে সারাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তো না। তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে সত্যিকার অর্থেই যে চেতনার জন্য আমরা লড়াইটা করেছিলাম—একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সেটা সম্ভব হতো না।

আইজিপির বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম যে, পুলিশের আইজি সাহেব একটা প্রশ্ন রেখেছেন। সেটি হচ্ছে- পুলিশকে প্রতিপক্ষ বলা হচ্ছে কেন? আমারো একই প্রশ্ন। আপনি তো একজন শিক্ষিত মানুষ, ব্রাইট অফিসার, সুদর্শন। আপনি কি একবারো প্রশ্ন করেছেন নিজেকে যে, পুলিশকে কেনো প্রতিপক্ষ ভাবছে জনগণ? কারা প্রতিপক্ষ ভাবছে? এই প্রশ্ন আপনি নিজেকে করে উত্তর খুঁজে বের করুন। আজকে যখন নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে পুলিশ দিয়ে ভোট দিয়ে দেন। অন্য কাউকে দরকার হয় না। আজকে যখন একটা রাজনৈতিক ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণতান্ত্রিকভাবে সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী প্রতিবাদ করতে যায় তখন তাদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন কেন করা হয়? আজ কেন বলা হয় থানায় থানায় যে দেশটা আমরা চালাই, আমরা সরকার তৈরি করেছি, আমরাই এই সব ব্যবস্থা করব। সেই প্রশ্নটা নিজেদের করুন, জানার চেষ্টা করুন তাহলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, এসএম ফজলুল হক, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ডাকসুর সাবেক ভিবি নুরুল হক নুর, বিএনপি নেত্রী শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,আওয়ামী লীগ,বিএনপি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close