• বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

‘রাজপথ উত্তপ্ত হচ্ছে, অচিরেই সরকার পতনের আন্দোলন’

প্রকাশ:  ০২ মার্চ ২০২১, ২০:২২ | আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২০:৩০
রাজশাহী প্রতিনিধি

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে রাজপথ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। অচিরেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। এ আন্দোলনে সবাইকে শামিল হতে হবে।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) বিকালে রাজশাহী মহানগরীর মাদরাসা ময়দান সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমাদের গণতন্ত্রের জন্য, কথা বলার অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। এটা খুবই লজ্জার। বৃদ্ধ বয়সে প্রস্তুত আছি। জীবনের শেষবিন্দু রক্ত দিয়ে হলেও গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে আমি আছি। সবাই প্রস্তুতি নিন। গণতন্ত্র হারিয়ে যাওয়ার নয়। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই সমাবেশ আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ।

টুকু বলেন, দেশ এখন দুর্নীতিতে ভরে গেছে। আপনারা উন্নয়নের কথা বলেন। ফরিদপুরের ছাত্রলীগ সভাপতিই দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। তাহলে রাঘববোয়ালরা কত টাকা পাচার করেছে তার হিসাব দেশের জনগণ নেবে। পুলিশ এখন সরকারি দলের কর্মী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার আগে থেকেই দেশের নানা সমস্যার সমাধান হয়েছে রাজপথে। এবারও রাজপথেই ফয়সালা হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ ঢাকা থেকে আন্দোলন জোরদার করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমরা সাতদিনের মধ্যে সরকারের পতন দেখতে পাব। এর জন্য ঢাকার রাজপথে রক্ত দিতে হবে। রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রামে আন্দোলন করে কিছু হবে না। ঢাকাকে সুসংগঠিত করতে হবে।

পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন ঢাকায় আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দেন।

ইশরাক বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আজ একটা সুন্দর পরিবেশ থাকার কথা ছিল। তার বদলে আমাদের আন্দোলনের বার্তা নিয়ে রাজশাহী আসতে হয়েছে। আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে।

তাবিথ আউয়াল বলেন, আজ জাতীয় ভোটার দিবস। অথচ মানুষ ভোটই দিতে পারে না। আমরা এমন অবস্থা চাই না। সে কারণে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ করতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ কেন আমাদের বাঁধা দিচ্ছে আমরা জানি। নির্বাচনে পুলিশের অনেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে উপার্জন করেছেন।’

পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের ছবি তুলে নিচ্ছেন। আমরাও আপনাদের মনে রাখছি।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার, হারুনার রশিদ এমপি, খুলনা বিভাগরে সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। এছাড়াও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামসুল হক প্রামানিক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। সমাবেশে বিভাগের আট জেলার সভাপতি ও সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশ নেন।

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়। এর আগে দুপুর ৩টার দিকে রাজশাহীতে পদ্মার পাড়ে নাইস কনভেনশন সেন্টারের সামনে সমাবেশ শুরু হয়।

সোমবার সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও তারা বিভিন্ন যানবাহনে সমাবেশে আসেন। দুপুরের পর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা সমাবেশে যোগ দেন। পথে পথে পুলিশের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শরীর তল্লাশি করে। সমাবেশকে ঘিরে রাজশাহীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সমাবেশস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল জলকামান, এপিসি যান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি করে গাড়ি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/শাহনেওয়াজ সুমন

রাজশাহী,বিএনপি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close