• সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||

দুর্নীতি-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান পরশের

প্রকাশ:  ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের অধিকার হরণের মাধ্যমে দুর্নীতি সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের গরীবদের অধিকার হরণ করে অসাধু ব্যবসায়ী, দুর্নীতিপরায়ণ আমলা, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজরা। এরাই নব্য ঔপনিবেশিক শক্তিরূপে মানুষের বুকে চেপে বসেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে চাই। তাই আমাদের দুর্নীতি পরিহার করতে হবে। শুধু পরিহার করলে চলবে না, প্রতিরোধও করতে হবে। সেই ক্ষমতা এবং শৃংখলা পরশ-নিখিলের নেতৃত্বে বর্তমান যুবলীগের আছে।’

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজ মাঠে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এমপি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনউদ্দিন রানা এবং সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা।

শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রসঙ্গ তুলে শেখ পরশ বলেন, ‘এটা অনুদান না, অস্বচ্ছল নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এটা আমাদের সামান্য উপহার। এটা আপনারা কখনোই অনুদান মনে করবেন না। এটা আপনাদের অধিকার। আমাদের রাজনীতি আপনাদের সেবা করার জন্য। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারাজীবন আপনাদের অধিকার আদায়ের জন্য জেল-জুলুম সংগ্রাম সহ্য করেছেন।’

এসময় শেখ পরশ ১৯৭০ সালের অক্টোবর মাসে একটি দৈনিক পত্রিকায় দেওয়া জাতির পিতার একটি বক্তব্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আপনাদের অধিকার আছে সম্মান পাওয়ার। এদেশের সম্পদের প্রতি আপনাদের অধিকার আছে। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে আজ বাংলাদেশ। এই মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার সুফল পাওয়ার অধিকার আপনাদের আছে। এই সুফল শুধু মুষ্টিমেয় অভিজাত শ্রেণির জন্য নয়। তাই নেত্রী কিন্তু ঘোষণা দিয়েছিলেন সর্বপ্রথম এদেশের জনগণই ভ্যাকসিন পাবে।’

শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম এবং ত্যাগ তিতিক্ষা করে আসছেন জানিয়ে পরশ বলেন, ‘সুতরাং ব্যক্তিগত পকেটভারী করার দিন শেষ হতে চলেছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির গণ্ডি থেকে বের হয়ে এসে আমাদের সমষ্টিগত রাজনীতির কথা চিন্তা করতে হবে। রাজনীতি করতে হবে গণমানুষের রাজনীতি। দুঃখী মানুষের রাজনীতি, নিপীড়িত মানুষের রাজনীতি। সমাজের প্রান্তিক জনগণ, তাদের জন্য রাজনীতি করতে হবে।’

পরশ আরও বলেন, ‘পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা আমাদেরকে একটি বদঅভ্যাস শিখিয়েছে। সেটা হচ্ছে, আমরা আগে একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতাম, এখন আমরা অনু পরিবারের দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ। শুধু নিজেকে এবং নিজের পরিবার নিয়ে ভাবলে চলবে না। আমাদের সবার জন্য ভাবতে হবে। পাড়া প্রতিবেশীর জন্য ভাবতে হবে। এলাকার যারা দুঃস্থ তাদের জন্য ভাবতে হবে। যারা পিছিয়ে আছে তাদের জন্য ভাবতে হবে।’

যুবলীগ ইতোমধ্যে সমাজের বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালেও প্রায় ৪৩ লাখ মানুষের কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপহার পৌঁছে দিয়েছে বলে অবহিত করেন শেখ পরশ।

তিনি বলেন, ‘সামনে আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং সুশৃংখলভাবে মানুষের সেবা করতে পারবো। সম্প্রতিকালে আমাদের প্রেসিডিয়াম সভায় আমরা একটা বাজেট কমিটি গঠন করেছি। এই বাজেটে সেবামূলক কর্মসূচির বিশেষ খাত থাকবে। যেখানে আমরা পরিকল্পিতভাবে এবং সুশৃংখলভাবে মানুষের উপকার করার জন্য ব্যবহার করবো।’

যুবলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার নির্দেশ, মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আপনারা কোনোদিনও আপস করবেন না। পিছপা হবেন না। এটাই আমাদের মূল রাজনীতি। এটাই মুজিববাদের আদর্শ। এটাই আমাদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। শুধু এইটুকুই করলে দেখবেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে। দুর্নীতি কিন্তু সৃষ্টি হয় মানুষের অধিকার হরণের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে। আর আমাদের জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে হবে দখলদারদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে, ভূমিদুস্যদের বিরুদ্ধে। এরাই নব্য ঔপনিবেশিক শক্তিরূপে মানুষের বুকে চেপে বসেছে। পরশ নিখিলের নেতৃত্বে যে যুবলীগ, এই যুবলীগ মানুষের এই অধিকার আদায়ের সংগ্রামও অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে। কেন এই দেশের মানুষের অধিকার লুণ্ঠন হবে? কেন এই দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী সেবা মানুষের দোরগোঁড়ায় পৌঁছানোর আগেই লুটপাট হয়ে যাবে’-এই প্রশ্নও উত্থাপন করেন শেখ পরশ।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শেখ পরশ বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা দেখছি বিভিন্ন অন্তর্গত কোন্দল এবং ভেদাভেদের কারণে অনেক জায়গায় আমাদের প্রাপ্য বিজয় ঘরে নিতে পারছি না। আমরা এখানে প্রবণতাটা দেখছি, অনেক নেতৃবৃন্দই তাদের ব্যক্তিস্বার্থটাকে বড় করে দেখছেন।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ছোট বেলায় শুনেছি, ব্যক্তির থেকে দল বড়, দলের থেকে দেশ বড়। কোথায় গেল ওই নীতি আদর্শ, কোথায় গেল ওই পড়ালেখা। এতো ভয় কিসের? নিজের পছন্দের মানুষ মনোনয়নটা না পায়, মনোনয়ন বঞ্চিত হয়, তখন আমাদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে লেগে যাই। এত অনিরাপত্তা বোধ কোথা থেকে আসে আমি বুঝি না।'

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ, মো. রফিকুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোয়াদ্দার, আনোয়ার হোসেন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, জহির উদ্দিন খসরু, মশিউর রহমান চপল, অ্যাডভোকেট মো. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, উপপ্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী, উপ-দফতর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদাসহ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

যুবলীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close