• সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭
  • ||

ধাক্কা দিলেই সরকার পতন সম্ভব: ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশ:  ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকারের পতনের অবস্থা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। দেউলিয়া কীভাবে, তা পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ে তারা এখন রিকশাচালকের অর্থ নিয়ে তহবিল করতে চায়। সরকার পতন হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে, এখন একটু জোরে ধাক্কা দিলেই কিনারায় পড়ে যাবে।

শনিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এক সমাবেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন। মাওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই যৌথ সমাবেশের আয়োজন করে রাষ্ট্রচিন্তা, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ছাত্র যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকার যাদের নিয়ে চালায়, তারা হাজার কোটি টাকা লুট করছে। সরকারের মন্ত্রীরাই বলছে, সরকারের আমলারা লুট করছে। আমলারা তো লুট করবেই। যারা রাতের আঁধারে জনগণের ভোট লুট করে এই সরকারকে বসিয়েছে, তারা তো লুট করবেই।’

এককেন্দ্রিক সরকার কখনো মানুষের মুক্তি আনতে পারে না উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জনগণের কাছে সরকারকে নিতে হবে। ঢাকার সরকারের পতন ঘটিয়ে বহুকেন্দ্রিক সরকার করতে হবে। এককেন্দ্রিক সরকার কখনো মানুষের মুক্তি আনতে পারবে না। এর জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। মাওলানা ভাসানীর বাণী, ‘যত দিন না পর্যন্ত সবার মুখে খাবার না আসবে, তত দিন আমরা থামবো না। সবার মুখে খাবার দিয়েই আমরা থামবো।’ এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য একত্র হতে হবে।

বর্তমান সরকার জনগণের ভবিষ্যতকে বিপদে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বকারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, এই সরকার দেশের, জনগণের ভবিষ্যতকে বিপদে ফেলছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন দরকার। জনগণ যেন কথা বলতে না পারে, এ জন্য তাদের পেটোয়া বাহিনী দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। পুলিশ–প্রশাসনকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করে। এর কারণ এই সরকার জনগণকে ভয় পায়।

ডাকসুর সদ্য বিদায়ী ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমরা কারো কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে রাজপথে আসেনি। আমরা জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে রাজপথে আন্দোলন করছি, এটা প্রমাণ করতে পারলে ‘কথা দিলাম রাজনীতি ছেড়ে দেবো’।

নুরুল হক নুর বলেন, আজ কেউ রাস্তায় নামলেই বলা হয় জামায়াত-শিবির। পাঁচজন এক জায়গায় অবস্থান করলে বলা হয় নাশকতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ হামলা করছে, পুলিশ হয়রানি করছে। সরকার দেশকে বিভাজিত করতে সাম্প্রদায়িকতাকে ইস্যু করছে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার দেশকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিতে চায়, আমরা এটা হতে দেবো না। মাদ্রাসা ছাত্রদের জঙ্গি তকমা লাগিয়ে অ্যাম্বাসিগুলোতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রতিবেশি কোনো দেশের তাবেদার হতে পারি না। চীন, ভারত, পাকিস্তান যেই হোক দেশকে ব্যর্থ করতে এলে আমরা আন্দোলন করবো, তাদের চেষ্টা রুখে দেবো।

নুরুল হক বলেন, এই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। মাওলানা ভাসানী বলেছেন, ‘পিন্ডির জিঞ্জির ছিন্ন করেছি, দিল্লির দাসত্ব করার জন্য নয়।’ কিন্তু এই সরকার দিল্লির দাসত্ব করেই ক্ষমতায় টিকে আছে।

রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ূম বলেন, বাংলাদেশ ভয়াবহ এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে মাওলানা ভাসানীকে খুব দরকার। ভাসানী যেকোনো বিভাজনের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করতেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতেন। বাংলাদেশ এ রকম সমাধানের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।

সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রাশিদুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আক্তার, ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রাশেদ খান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আবদুর রহমান প্রমুখ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী,সরকার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close