• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

একাত্তরের ঘাতকরাই পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড: হানিফ

প্রকাশ:  ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৬ | আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরের পরাজিত ঘাতকরাই পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দ আয়োজন করে শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ (বাংলাদেশ শাখা) ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন গৌরব’৭১।

জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এই চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে শেষ হয় ৫টা ৩০ মিনিটে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘ভোরের পাখি শেখ রাসেল’। মোট তিন বিভাগে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফাঁকে শেখ রাসেলের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬ টায় শিশু ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব এবং সবশেষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর ঘটনার একটি। এদেশের রাজনীতি, সমাজনীতি কোনটাই রাসেলকে স্পর্শ করতে পারেনি। তার অপরাধ একটাই সে বঙ্গবন্ধুর সন্তান। এজন্য একাত্তরের ঘাতকরা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক অবক্ষয় চলে এসেছে। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে। যারা ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত তারা মানুষ নয় পশু। মসজিদ, গীর্জা,মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গা থেকে ধর্ষণের অভিযোগ আসছে। সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার বিধান করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দোষারোপের রাজনীতি করে সামাজিক এই অনাচার থেকে বের হতে পারবো না। সামাজিক ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এটা প্রতিহত করতে হবে।

অভিভাবকের উদ্দেশ্যে হানিফ বলেন, আপনাদের সন্তানদের ঘর থেকে শিক্ষা দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন করে তাকে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে সে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

একই অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, শেখ রাসেল ছোট বয়স থেকেই তার প্রতিবেশী শিশুদের সাথে নিজের খাবার, পোশাক ভাগ করে নিতে শিখেছিলেন। আজকের শিশুরা তার কাছ থেকে এসব অনুকরনীয় গুনাবলি গ্রহণ করতে পারে। তার জন্মদিন ১৮ অক্টোবরকে আমরা জাতীয় দিবস ঘোষণা করার দাবি জানাই।

আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন শেখ রাসেল ছিল আমাদের কাছে খেলার পুতুলের মতো। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্য রাসেলকে নিয়ে খেলায় মেতে থাকতো। অথচ সে রাসেলকেও হায়েনারা ছাড়েনি। আমার বিবেকে প্রশ্ন জাগে, কি অন্যায় করেছিল ছোট শিশু রাসেল?

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতিটি সদস্য আমাদের কাছে ইতিহাসের মতো। আমরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতিটি সদস্য নিয়ে গবেষণা করতে চায়। শেখ রাসেলের জন্মদিনে মহতী এসব উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। দিনটি অত্যন্ত আনন্দমুখর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নরপশুদের কারণে তা আমরা করতে পারছি না। পৃথিবীতে রাসেল হত্যার কোন নজির আমি খুঁজে পাইনি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি রাসেলকে হত্যা করা না হলে বর্তমান বিশ্বের জন্য সে বার্ণার্ড রাসেল হতে পারতেন, হতে পারতেন বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের নেতা।

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘটনার খলনায়ক। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্পীকারের কাছে দাবি জানাই, খুনী জিয়ার কবর পার্লামেন্টের পাশে থাকতে পারে না। তার কবর অপসারণ করা হোক। একইসাথে তার উপাধিও কেড়ে নেয়া হোক। কেননা, সে এ উপাধি নিয়েছে প্রতারণা করেছে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস বলেন, ঘৃণা হচ্ছে তাদের প্রতি যারা শেখ রাসেলের মতো ছোট্ট বাচ্চার সাথে এতো নির্দয় আচরণ করেছে। শেখ রাসেল যদি বেঁচে থাকতো তাহলে আজকে বাংলাদেশের অন্যতম নেতা হতে পারতো। খুনীরা জানতো যে, বঙ্গবন্ধুর রক্ত বেঁচে থাকলে তাহলে সে একদিন এদেশের নেতৃত্বে আসবে। এজন্য তারা ছোট্ট রাসেলকেও নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে।

তিনি আরো বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল সম্পর্কে। আরো জানতে হবে এদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনাদের সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাসকে সম্পর্কে জানাতে হবে। তাহলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম বলেন, ছোট্ট শিশু মায়ের কাছে যাওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেছিল, আমি মায়ের কাছে যাবো। কিন্তু তাকে যেতে না দিয়ে তাকে হত্যা করা হলো।

তিনি বলেন, জাতির পিতার সাথে তার পরিবারকে হায়েনারা শুধু হত্যাই করেনি। বরং তারা হত্যার বিচারও বন্ধ করে দিয়েছিল। ওরা চায়নি বাংলাদেশ ভালো থাকুক, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হোক। ওরা হচ্ছে তারাই যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি। ওরাই বিএনপি-জামায়াত।আমাদের একটাই দাবি, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যার সাথে জড়িত যাদের এখনো বিচার হয়নি তাদের দেশের মাটিতে এনে বিচার করে বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে কলঙ্ক মুক্ত করা হোক।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী কী‌রি‌টি রঞ্জন বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ‌্যাপক না‌জির খান খোকন, জাতীয় ক‌বি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের সহযোগী অধ‌্যাপক ড . ‌সিদ্ধার্থ দে, জাতীয় ক‌বি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের সহকারী অধ‌্যাপক মাসুম হাওলাদার।

গৌরব ৭১ এর সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি কুহেলি কুদ্দুস মুক্তি, জাতীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আক্তার, যুবনেতা ইকবাল মাহমুদ বাবলু, বিবার্তা২৪.ডটনেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি প্রমুখ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

হানিফ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close