• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

পাবনা-৪ উপনির্বাচন 

২৫ বছরের বিজয় ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ, আসন পুনরুদ্ধারের আশা বিএনপির

প্রকাশ:  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৪৪
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা-৪ আসনে বাম থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পাটির প্রার্থী রেজাউল করিম খোকন।

শনিবার পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) উপনির্বাচন। ভোটের আগেই নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনে তার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি দুই দলের প্রার্থীদের। টানা ২৫ বছর আসনটি ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। আর বিরোধ ভুলে দীর্ঘ ২৫ বছর হাতছাড়া আসনটি পুনরুদ্ধারের আশা বিএনপি প্রার্থীর। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ বলে দাবি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর। ওদিকে পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ জাতীয় পার্টির প্রার্থীর। ঈশ্বরদী জংশন, ইপিজেডের পাশাপাশি নির্মানাধীন দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণসহ ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ পাবনা-৪ আসন।

ইসি সূত্র জানায়, পাবনা-৪ আসনটি ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া— এই দুই উপজেলা দু’টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৯টি, মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৫ জন। ভোট কেন্দ্র ১২৯টি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে।

এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথী তিন জন— পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূরুজ্জামান বিশ্বাস (নৌকা), বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব (ধানের শীষ) এবং জাতীয় পার্টির রেজাউল করিম (লাঙ্গল)।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু মারা যাওয়ায় পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ২ এপ্রিল তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে ইসি আরও ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন করতে পারবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবারে সেই পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত যাচ্ছে নির্বাচন।

গত ২৩ আগস্ট পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপনির্বাচনে মনোননয়পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হয় ৩ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল ছিল ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়পত্র বাতিলের আপিল নিষ্পত্তি করা হয় গত ৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ৮ সেপ্টেম্বর। এর পর থেকেই তিন প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৯৯১ সালে আসনটিতে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬, ২০০১ সালে সিরাজ সরদার বিএনপির মনোনয়ন পেলে, বিদ্রোহী প্রার্থী হন হাবিবুর রহমান হাবিব। অন্তঃকোন্দলে বারবার এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে গেছে দাবি করে দ্বন্দ্ব কাটিয়ে এই পরিস্থিতির উত্তরণ চান বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা। নেতা কর্মীদের আশা এবার তাদের প্রার্থী বিজয়ী হবে।

ভোটাররা বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান যে বেশি চালাতে পারবে তাকে আমরা তাকে ভোট দিব। যে বেশি উন্নয়ন করবে এমন লোকে আমরা দেখতে চাই। আমরা নেজের ভোট নিজে দিব।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত না করে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ভোট টা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি মনে করি, জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে আমি জয় লাভ করবো।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নূরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আমি সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করি। আমার প্রত্যাশা সাধারণ মানুষ নৌকায় ভোট দিবে।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, ভোটারদের আস্থা অর্জনে তাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধকরণে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আশা করা যাচ্ছে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষ যোগ্য হবে।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

পাবনা-৪,পাবনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close