• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

মনোনয়ন বাণিজ্য বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে: জাফরুল্লাহ

প্রকাশ:  ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
ফাইল ছবি

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি দলীয় কোন্দলের কারণে আবারো আলোচনায়। এ বিষয়ে কথা বলতে না চাইলেও দলটির অনেক নেতাকর্মী মনে করেন দলীয় কোন্দল মূলত অযোগ্যদের মূল্যায়ন ও যেকোনো নির্বাচনকে ঘিরে শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্যই দায়ী।

তবে ছোটখাটো সংঘর্ষকে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করলেও মনোনয়ন বাণিজ্যকে উড়িয়ে দিয়ে বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি গণমাধ্যমকে বলেন, চাহিদা পূরণ না হলেই অভিযোগ আসে দলের ভেতর থেকেই।

বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠু রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে অনৈতিক পথ থেকে বের হয়ে আসতে হবে বিএনপিকে।

অর্থের বিনিময়ে প্রার্থিতা দেয়ার সংস্কৃতি বিএনপির ভবিষ্যতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে বলেও মত তার।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, যা রটে তার কিছুতো বটেই। কিছু না হলে এটা রটবে কেন? গণতন্ত্রের চর্চাটা না থাকার কারণে এটা হচ্ছে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নবী উল্লাহ নবীকে বাদ দিয়ে ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে দলের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসন থেকে অংশ নেয়া সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো দূরের কথা মাঠে নামারও সাহস পাননি। নির্বাচনের দিন সকাল বেলায় মার খেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ভোট পান ২০ হাজারেরও কম।

নবী উল্লাহ নবীকে মনোনয়ন না দেয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নেতৃত্বের দুর্বলতায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেহেতু ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবী গত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন সেহেতু এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী তিনিই। তাছাড়া সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা। গত এক দশক এ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদের কোনো সাংগঠনিক তৎপরতাও কারও চোখে পড়েনি। তাই উপ-নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট কেন্দ্রে ভোটার টানা অসম্ভব বলে মনে করছেন সবাই। একজন ভাড়াটে ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় দলীয় নেতাকর্মীর কাছে আস্থাও হারাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। কর্মীরা চলছে, এরই নাম বিএনপি। যেখানে মেধা, শ্রম ও যোগ্যতার কোন মূল্য নেই।

ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে বিশেষ করে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় নবী উল্লাহ নবীর বেশ প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ওই এলাকায় তার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নবীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু জিয়াউর রহমানের সময়ে। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের গঠিত জাগো দলের যুব শাখার বৃহত্তর ডেমরা থানার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এরপর বিএনপির ডেমরা-যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি ছিলেন প্রায় ২৫ বছর।

অপরদিকে রাজনীতির মাঠে সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘দৌড় সালাহউদ্দিন’ নামে পরিচিত। ২০০৩ সালে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের দাবিতে সালাহউদ্দিনের নির্বাচনী এলাকার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা মানুষকে বিক্ষোভ বন্ধের হুমকি দিলে তখনকার এমপি সালাহউদ্দিনকে ধাওয়া দেয় জনতা। তিনি দৌড়ে এলাকা ছাড়েন- এমন ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ‘দৌড় সালাহউদ্দিন’ নাম মানুষের মুখে মুখে ছড়ায়।

২০১০ সালে ২৮ জানুয়ারি দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ না মানায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ ডাকেন। একই দিন মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেন সালাহউদ্দিন ও মিরপুরের সাবেক এমপি এস এ খালেক। খোকার সমাবেশ ভণ্ডুল করতে এই পাল্টা কর্মসূচি দেয়ার অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া বহিষ্কার করেন সালাহউদ্দিনকে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেডআই

বিএনপি,ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close