• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

মেজর সিনহা হত্যায় ‘র’ ও ‘মোসাদের’ হাত দেখছেন ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশ:  ০৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ মোহাম্মদ সিনহার মৃত্যুর হওয়ার ঘটনায় ভারত ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। খুনের ঘটনা তদন্তে ‘নিরপেক্ষ কমিশন’ গঠনের দাবি জানান গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, যে মেজর সিনহা (অবসরপ্রাপ্ত) হত্যাকাণ্ড- এটা কী ওসি প্রদীপের ঘটনা, না এর সাথে ভারতীয় র এবং ইজরাইলের মোসাদ যুক্ত আছে? এই ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। আমার মতে এই পু্লিশি ইনকোয়ারি দিয়ে হবে না। একটা নিরপেক্ষ কমিশন করে সেটা করতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার প্রতিবাদে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত উপযুক্ত পদক্ষেপ নয়, বলেই আমি মনে করি। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমেই তদন্ত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, একজন সাবেক সেনা সদস্যকে এভাবে হত্যার পেছনে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানে সরকার যদি কোনো স্বাধীন তদন্ত কমিশন না গঠন করে, তাহলে তা হবে পুরো দেশের জন্যেই দুর্ভাগ্যজনক।

প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশটির আয়োজন করছিল, ভাসানী অনুসারি পরিষদ। সমাবেশটি ভারতের পানি সম্পদ ব্যবহার নীতির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রতিবেশী দেশটির অবিবেচক নীতির কারণে গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকাল উভয় সময়েই বাংলাদেশি নাগরিকদের বিপুল দুর্ভোগে পড়ার কথা তুলে ধরা হয়।

৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এরপর গত ২ আগস্ট অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ প্রামাণ্যচিত্র তৈরির জন্য মাসখানেক ধরে হিমছড়িতে ছিলেন। তিন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে। কক্সবাজারের পুলিশ বলছে, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়ে এ ঘটনায় তার দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে দুটো মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সিনহার বোন ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যাদের মধ্যে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দাবি, সমগ্র পুলিশ বাহিনীতে মাত্র ১০ শতাংশ সদস্য ওসি প্রদীপ কুমার দাসের মতো দুর্নীতিপরায়ণ হলেও বাকিরা সৎ।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘রক্তের সম্পর্ক’ আর চীনের সঙ্গে ‘অর্থনৈতিক সম্পর্ক’- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেমের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কোনও কোনও মন্ত্রী বলছেন, ভারতের সাথে আমাদের রক্তের সম্পর্ক। কিন্তু এ রক্ত তো দূষিত রক্ত। দূষিত রক্ত দিয়ে কী হবে? পরিচ্ছন্ন রক্ত দরকার। দুষিত রক্ত থেকে আমাদের মুক্তি দরকার।’

এসময় ডা. জাফরুল্লাহ প্রতিদিন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি লোকদের হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ভারত প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশিদের মারলেও এ নিয়ে আমাদের আওয়াজ নেই। অথচ নেপাল সরকার সংসদে ভারতের বিরুদ্ধে আইন করছে।’

ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বাংলাদেশের মুক্তি নেই বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখে আছি। সম্প্রতি ঈদ গেলো। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে ২৫ কোটি মানুষ তাদের নিজের ধর্ম পালন করতে পারেনি। তারা গরুর মাংস খেতে পারলো না। অথচ হিন্দুরা চিরকাল নরেন্দ্র মোদীর পূর্বপুরুষরা গরুর মাংস খেতো। চোখ অন্ধ ভারত ২৫ কোটি মুসলমানকে ধর্ম পালন করতে দিচ্ছে না।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘একটা কাল্পনিক কাহিনিকে ভিত্তি করে ভারত রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছে। মহাভারত, রামায়ন দুটোর মধ্যেই প্ররোচনা ও মিথ্যাচারের গল্পকাহিনি রয়েছে। তাদের গল্পকাহিনির ওপর ভিত্তি করেই ৫০০ বছরের পুরোনা বাবরি মসজিদ ভেঙে সেখানে আজগব্বী রাম মন্দির নির্মাণ করেছে ভারত। এটা ভারত জাতির জন্য একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা বাংলাদেশের মানুষ এর বিরুদ্ধে একটা কথাও বলিনি।’

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় ছিলো, মন্দির যেমন হবে তার চেয়েও বড় করে অযোদ্ধায় মসজিদ করতে হবে। মন্দির তৈরি হলেও মসজিদ তৈরির কোনও আলামত নেই, এটাই হচ্ছে ভারত।’

প্রবীণ এ চিকিৎসক বলেন, ‘১৯৭১ সালে রমনার কালি মন্দির পাকিস্তানিরা ভেঙে দিয়েছিলো। শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) এটাকে ঢাকার বাইরে নিয়ে বড় আকারে তৈরি করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সংখ্যালঘুদের আপত্তিতে তা সরানো হয়নি। এটা ঢাকার নওয়াবদের দান করা জায়গা।’

তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের এ সহনশীলতা থেকে ভারতের কিছুটা হলেও শিখা উচিত। কিন্তু তারা শিখবে না, তাদের শেখাতে হবে। শেখাতে হলে আজকে আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য আজকে আমাদের সব রাজনৈতিক দল শুধু সমবেত হওয়ার কথা বলে। কিন্তু প্রতিবাদ করে না। আমাদের উচিত ছিলো, যেদিন রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা হলো সেদিন ভারতীয় হাইকমিশন ঘোরাও করা। ফেলানি নামে রাস্তা করার কথা ছিলো, সেটাও আমরা করিনি। এই হচ্ছে আমাদের ব্যর্থতা।’

ভাসানী অনুসারি পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতির জুনায়েদ সাকি বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্রচিন্তার হাসনাত কাইয়ুম, গণদলের এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের রকিবুল ইসলাম রিপন, মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন ও সাবেক ছাত্র নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বক্তব্য দেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী,সিনহা হত্যা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close