• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

খালেদার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়া ‘সম্পূর্ণ অবিচার’: ফখরুল

প্রকাশ:  ২৫ মে ২০২০, ১৫:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৬ মাসের সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়াকে অবিচার বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি দেয়া উচিত ছিল। তাঁর প্রতি যেটা সম্পূর্ণ অবিচার করা হয়েছে।

সোমবার (২৫মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবসময় ঈদের দিন দলীয় কর্মসূচি শেষ করে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতি মামলায় সাজা নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রতি ঈদে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবর জিয়ারত করে আসছেন।

ঈদের সময়ে খালেদা জিয়াকে নিয়েই কবর জিয়ারত করতে আসেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'তিনি অসুস্থ, তাঁর পক্ষে আসা অসম্ভব। তাঁকে ৬ মাসের সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাঁর প্রতি যেটা সম্পূর্ণ অবিচার করা হয়েছে। তাঁকে সম্পূর্ন ভাবে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

এ সময় সাংবাদিকরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'যেমন ছিলেন, তাঁর চেয়ে খারাপ হয়নি, স্থিতিশীল আছেন।'

মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের ঈদুল ফিতর একদমই ভিন্ন রকম। করোনাভাইরাসের মহামারি বিশ্বকে উলটপালট করে দিয়েছে। সামাজিক নৈকট্যকে দূরত্ব পরিণত করেছে। এবারের ঈদে ব্যক্তি নিরাপত্তাই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। দল ও চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানান।

করোনা মহামারি প্রতিরোধে সরকারের কর্মকাণ্ডে কোনো সমন্বয় নেই, তারা ব্যর্থ- এমন অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে যে সমস্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে আমাদের কাছে মনে হয়েছে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, সমন্বয় ছিলো না এবং এখনো নেই।

তিনি বলেন, আমরা এই কথা বলি না যে, এটা তারা পুরোটাই পারবেন। কারণ পুরোটা পারা সম্ভব নয়, নতুন একটা জিনিস। কিন্তু যে ইচ্ছ, যে প্রচেষ্টা, সকলকে আপনার সাথে নিয়ে বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ যারা তাদেরকে সাথে নিয়ে এইটাকে মোকাবিলা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।”

সরকারের ব্যর্থতার কারণে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি, কয়েকবার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সারাদেশেই মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আপনারা দেখলেন এবার ঈদের আগে এবং তারও আগে গার্মেন্টসসহ ছুটি- সব মিলিয়ে এখন সারাদেশের মানুষই করোনাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে প্রায়।

বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা হচ্ছে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে দেখুন- এখন যারা দায়িত্বপূর্ণ লোক আছেন, গুরুত্বপূর্ণ লোক আছেন তারা কিন্তু অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে... যেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে করোনাভাইরাসের হাসপাতাল হিসেবে... সেখানে তারা যাচ্ছেন না। তারা যাচ্ছেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা মনে করি যে, এটা প্রমাণ করে সিভিল হেলথ ব্যবস্থা অর্থাত বেসামরিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙেই পড়েছে। যার কারণে কারো আস্থা সেখানে থাকছে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘করোনাভাইরাসে লকডাউন করা হয় নাই কিন্তু ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে মানুষ আসলে সাধারণ ছুটি ভোগ করছে আমরা যা দেখতে পারছি চতুর্দিকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সরকার এই বিষয়টাতে যে ধরনের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন ছিল.. তা দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

ফখরুল আরেও বলেন, কোথাও কোনো দায়িত্বের লেশ আমরা দেখতে পারছি না, সমন্বয় দেখতে পারছি না। একটা যে সেন্স অব রেসপনসেবিলিটি সেটা দেখতে পারছি না। আপনি পুরোটাই পারবেন-সেটা সম্ভব না এখন। কিন্তু আপনি করার চেষ্টা করছেন আন্তরিকভাবে... সেটা ভিজিবল হতে হবে, সেটাই আমরা দেখছি না।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

খালেদা,মির্জা ফখরুল,বিএনপি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close