• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

আমরা স্বস্তি ও আতঙ্কিত বোধ করছি, খালেদার মুক্তিতে ফখরুল

প্রকাশ:  ২৫ মার্চ ২০২০, ০৩:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দূর্যোগময় এক সময়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে স্বস্তির পাশাপাশি আতঙ্কিতও বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।প্রায় আড়াই বছর ধরে ধৈর্য্যের সঙ্গে নেত্রীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার দলের নেতা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনে এবং ম্যাডামের বাসার সামনে দয়া করে কেউ ভিড় করবেন না। এতে দেশনেত্রীর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

মঙ্গলবার রাতে দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান বা বক্তব্য কি? মির্জা ফখরুল বলেন,

দু্ই বছর পর নেত্রী মুক্তি পাচ্ছেন, এই দাবিতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলাম। কাজেই দলের চেয়ারপারসনের মুক্তিতে আমরা আবেগ আপ্লুত তো বটেই, কিছুটা স্বস্তিও বোধ করছি। একইসঙ্গে আতঙ্কিতবোধ করছি। কারণ এই ভয়ংকর সময়ে তাঁর এই মুক্তি, কোনো ক্ষতির কারণ হবে না তো।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন. শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে - এসময় তিনি নিজ বাসায় অবস্থান করে থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন, তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না, অন্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তিতে এসব শর্ত জুড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির বিষয়টা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। বোধগম্য নয় এ জন্য যে পরিবার আবেদনটা করেছিল তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য। যা–ই হোক, তারপরও বিএনপি নেতা-কর্মীরা এবং দেশের মানুষ স্বস্তিবোধ করছেন। দীর্ঘকাল পরে আজ খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। আমরা আশা করি তিনি ঠিক সময়মতোই কারাগার থেকে বেরোতে পারবেন।

নেত্রী মুক্তি পেলে সবাই আবেগে আপ্লুত হবেন খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার জন্যম তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন এবং এটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই জানেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণে দেশে-বিদেশে হাজার মানুষ মারা গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ যারা আক্রান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার জীবনের জন্য, অন্য সবার নিরাপত্তার জন্য সবাইকে শান্ত থাকতে এবং দূরে থাকতে হবে।

নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনে এবং ম্যাডামের বাসার সামনে দয়া করে কেউ ভিড় করবেন না। এতে ম্যাডামের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। আপনারা জানেন যে উনি অত্যন্ত অসুস্থ, উনি ডায়াবেটিসের রোগী, আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, ৭৫ বছর বয়স, ওনার এজমারও সমস্যা আছে। এসব করোনাভাইরাসের জন্য মারাত্মক সমস্যা অর্থাৎ সবচেয়ে ভালনারেবল হয়ে যায়। আবারও অনুরোধ থাকবে নেতা-কর্মীর প্রতি আপনারা স্বস্তি পেয়েছেন। আমাদেরও দায়িত্বশীল হয়ে পালন করতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে দল থেকে কোনো উদ্যোগ নিবেন কি? জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বাসায় তাঁর সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে জানান, খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন না বাসায় চিকিৎসা নেবেন, সেটা তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কুদ্দুস।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল , খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রস্তাবে এখনো অনুমোদন করেননি প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাত্র তাঁর কাগজপত্র তৈরি হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হযেছে। তিনি অনুমোদন দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি আদেশ জারি করবে তারপরই তিনি মুক্তি পাবেন।

পূর্বপশ্চিম এনই

খালেদার মুক্তি,মির্জা ফখরুল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close