• রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

মাদকাসক্ত ও বিবাহিত বিপ্লবই থানা ছাত্রলীগের সভাপতি!

প্রকাশ:  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় পান থেকে চুন খসলেই হামলে পড়ে। স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ আর আওয়ামী লীগ নেই, দলবল-ক্যাডার নিয়ে চলে ভয়ঙ্কর হামলা। একজন আর দু’জন নয়-শতাধিক নেতা-কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। নির্মম হামলায় অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে কষ্টে জীবন পার করছেন।

যার নাম শুনলেই কামরাঙ্গীরচরের মানুষ আঁতকে ওঠেন, তার নাম পারভেজ হোসেন বিপ্লব। যার বিরুদ্ধে শুধু সন্ত্রাসী কর্মকান্ডই নয়- এলাকায় চিহ্নিত ইয়াবাসক্ত এবং ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। সেই পারভেজ হোসেন বিপ্লবকেই বানানো হয়েছে কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি।

সম্প্রতি উৎসব করে বিয়ে করে সংসারও করছেন, অনেকেই তার বিয়ের দাওয়াতও খেয়েছেন। সদ্য বিবাহিত, মাদকাসক্ত ও বিতর্কিত বিপ্লবকে থানা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ দেওয়ায় কামরাঙ্গীরচর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগসহ নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত বুধবার মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে এক বছরের জন্য পারভেজ হোসেন বিপ্লবকে সভাপতি ও এম এইচ মাসুদ মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই কমিটি ঘোষণার পর পরই কামরাঙ্গীরচরের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে একজন ভয়ঙ্কর ক্যাডার, মাদকাসক্ত, বিবাহিত অছাত্রকে থানা সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের আইন ভঙ্গ করে ত্যাগী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পদবঞ্চিত করে শুধু অর্থের লোভে এই পদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করেন তারা। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, মুখে তাদের অপকর্ম বললেই বাড়িতে এসে হামলা করবে, তা-ব চালাবে। ওদের ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। বিবাহিত ও মাদকাসক্ত এমন ভয়ঙ্কর ছেলেটিকে বানানো হলো সভাপতি। তাহলে ভালো এবং মেধাবী ছেলেরা কীভাবে ছাত্ররাজনীতি করবে। কে চাইবে ওর মতো এক মাদকাসক্ত ছেলের অধীনে রাজনীতি করতে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট হাজারীবাগ এলাকার ভাগলপুর লেনের বাবুল মিয়ার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করেন বিপ্লব। ওই বিয়েতে উকিল দেয়া হয় ৫৬ নম্বার ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আলীফ হোসেনকে।

একজন অছাত্র ও বিবাহিতকে ছাত্রলীগের পদ দেওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ বলেন, সাধারণ সম্পাদক মিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করার বিষয়ে আমার ভূমিকা ছিল। কিন্তু বিপ্লবের বিষয়ে মেহেদী হাসান পিড়াপিড়ি করেছেন এবং ওপরের থেকে চাপ ছিল। এখন আমরা কি করবো ভাই? বিষয়টি আপনি মেহেদীর সঙ্গে কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, কামরাঙ্গীরচর থানায় তিনজন প্রার্থী ছিল। তিনজনই বিবাহিত বলে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। তাছাড়া সাজানো ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিবাহিত হওয়ার কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। এই তিনজনের বাইরে কেউ প্রার্থী ছিলো না বলেই দুজনকে বেছে নিয়েছি।

সভাপতি,ছাত্রলীগ,থানা,মাদকাসক্ত,বিবাহিত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close