• শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

‘মুজিববর্ষে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে বাদ দেওয়ার চিন্তাও করা যায় না’

প্রকাশ:  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৫০ | আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের অনেক আগেই মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুজিববর্ষে ভারতের প্রতিনিধিত্ব বাদ দেয়ার কথা চিন্তাও করা যায় না।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সহিংসতার কারণে সমালোচনার মুখে থাকায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে আনা উচিত হবে কিনা−সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সাহায্যকারী ও সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ ভারত। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে আমরা বাদ দেবো- এটাতো চিন্তাও করা যায় না।

তিনি বলেন, ভারতে এখন যা কিছু হচ্ছে সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেই বিষয়ে আমাদের নাক গলানো উচিত হবে না। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের অনেক আগেই মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের দেশের অভ্যন্তরের কোনো বিষয়ে যে সংঘাত, সংঘর্ষ, রাজনৈতিক বিরোধ- এটা চিন্তা করে তো আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানাইনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আর তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আমাদের এখানে কোনো বিরোধ- প্রতিক্রিয়া হলে এ বিষয়ে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করতে পারি। কিন্তু এ রকম একটা অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ ভারত এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে সহযোগিতাকারী প্রধান দেশ হিসেবে সে দেশের প্রতিনিধিত্বকে আমরা বাদ দেবো- এটাতো চিন্তাও করা যায় না।’

মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এমনকি তাকে না আনার জন্য ক্যাম্পেইনও হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দেশেও রাজনীতিতে বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এ নিয়ে সরকার আর বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কটা সুখকর নয়।

‘কিন্তু সেটা তো অন্যদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব আসার কথা নয়। মুজিববর্ষ বাংলাদেশের জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বিষয়। অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর মূল কারণ- তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা করেছে। আমাদের শরণার্থীদের সাহায্য করেছে। ভারতই আমাদের অস্ত্র ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। সর্বোপরি মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডে মুক্তিযুদ্ধের শেষ অংশে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম।’

এখানে আমাদের রক্তের সঙ্গে ভারতের রক্ত মিশে আছে। কাজেই ভারতকে এই মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো তো কৃতঘ্নতার পরিচয়। পাশাপাশি অসম্পূর্ণ একটা বিষয় হিসেবে থেকে যায়, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

মুজিববর্ষ,ভারত,আওয়ামী লীগ,কাদের
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close