• রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড!

প্রকাশ:  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৫৬ | আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১৪
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল। মনোনয়ন তালিকায় তাকে মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ভুয়া দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন ভাগিয়ে নেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি বৈধ সদস্য না হলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় বলে দাবি করেছেন মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এড. জিয়াউদ্দিন। শুধু তিনি নন আরও অনেকের বিরুদ্ধে এমন ভুয়া পরিচয়ে মনোনয়ন ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়াও বিতর্কিতদের বাদ দিতে গিয়ে সুবিধাবাদী ও প্রশ্নবিদ্ধদের মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল বলেন, আমি পদটি অনেক আগে থেকে ব্যবহার করছি। তখন কোনো আপত্তি ছিল না। এখন কেন প্রশ্ন উঠবে?

এদিকে বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সম্পাদিকা পদে থাকার পরও সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন পাননি ফেরদৌস বেগম মুন্নী। তার পরিবর্তে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পেয়েছেন বতর্মান কাউন্সিলর সৈয়দা কাশপিয়া নাহরিন। এছাড়া ৯, ১০ ও ১৩ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলের চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ব্যবহার করে মনোনয়ন ভাগিয়েছেন। যদিও তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য নন। আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় সমর্থন পেলেও তারা কখনও আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের নেতা বা কর্মী ছিলেন না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ বিষয়ে দক্ষিণ পাহাড়তলী ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কখনও দেখিনি কাশপিয়া নাহরিন আওয়ামী লীগ বা সহযোগী কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। তারপর থেকে এলাকায় কোনো কাজও করেননি, জনগণের সঙ্গে ভালো করে কথাও বলেন না। তাকে কেন দল থেকে সমর্থন দেওয়া হলো আমরা বুঝতে পারি না। তার পক্ষে কোন মুখে গিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইবো? আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগে কী নেতা-কর্মীর অভাব হয়েছে যে-ধরে এনে কাউন্সিলর বানাতে হবে! দলের জন্য যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছে তাদের দিলেও তো অন্তত মনকে বুঝাতে পারতাম।

জানা গেছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে অনেক বর্তমান কাউন্সিলর বাদ পড়লেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পেতে ফরম সংগ্রহ করেন মোট ৪০৬ জন।

ফরম সংগ্রহ করেন বর্তমান, সাবেক কাউন্সিলরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক নেতারা। বর্তমান কাউন্সিলরদের মধ্যে বাদ পড়া তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, সাহেদ ইকবাল বাবু, জহুরুল আলম জসিম, মো. সাবের আহমেদ, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, আবুল ফজল কবির আহমদ, এইচ এম সোহেল, মো. আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ হত্যা মামলার আসামি, ভূমিদস্যু।

অভিযোগ থাকার পরেও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পেয়েছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী নুরুল হক, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন।

কাউন্সিলর হাজী নুরুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কখনও আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না এবং মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাও নন। এছাড়া কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের সদস্য নন এবং ইউনিট কমিটিতেও কোনো পদে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

এ বিষয়ে জানার জন্য কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘আমার চৌদ্দ গোষ্ঠী আওয়ামীলীগার। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যার আদর্শের সৈনিক। জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগে আমার প্রাথমিক সদস্য পদ আছে। ছাত্রজীবনেও আমি ছাত্রলীগ করেছি। গত ৫ বছরে জামালখান ওয়ার্ডকে হেলদি ওয়ার্ডে পরিণত করেছি। যারা আমার বিরোধীতা করছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিলে পরিবারে বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে। তাদের সন্তানরাই তাদের কথা শুনে না। আমার প্রতি সবার সমর্থন আছে বলেই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি’।

এছাড়া পুরাতনদের বাদ দিয়ে নতুন যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের নিয়ে উঠছে বিতর্ক। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়ন পাওয়া ওয়াসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি-দস্যুতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পাওয়া আব্দুস সবুর লিটনের বিরুদ্ধে রয়েছে সিগারেট ব্যবসার নামে চোরাকারবারি করে দুয়েক বছরে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ। এছাড়া ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী মো. শফিউল আজিম। বিগত দুই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল এই মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর।

সূত্র আরও জানায়, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেলেও চসিক নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন একাধিক প্রার্থী। তবে এখনই তারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ। এরই মধ্যে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছেন৷ অবশ্য কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে দল। তবে এ মুহূর্তে তা নিয়ে ভাবছেন না প্রার্থীরা।


পূর্বপশ্চিম/ডব্লিউএ/ইমি

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন,আওয়ামী লীগ,মনোনয়ন,কাউন্সিলর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close