• সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

সাক্ষাৎকার: রেজাউল করিম চৌধুরী

‘সৌন্দর্যের রাণী চট্টগ্রামকে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে চাই’

প্রকাশ:  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:০৯ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:২৪
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী।

মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত মেয়র প্রার্থী তিনি। ভোট যুদ্ধে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে লড়বেন তিনি। পূর্বপশ্চিমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি চট্টগ্রাম নগরের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ওয়াসিম আহমেদ।

পূর্বপশ্চিম: মেয়র পদে দলের মনোনয়ন পেলেন, আপনার অনুভূতি কেমন?

রেজাউল করিম: নগরীর প্রায় ৬০ লাখ মানুষের সেবার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার জন্য আমাকে সমর্থন দেওয়ায় সর্বপ্রথম আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া ও অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি নগরবাসীর প্রতি।

পূর্বপশ্চিম: মেয়র পদে বিজয়ী হলে এই নগরকে আপনি কিভাবে সাজাতে চান?

রেজাউল করিম: গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে 'সৌন্দর্যের রাণী খ্যাত' চট্টগ্রামকে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে চাই। আমাদের চট্টগ্রামে কি ছিল না? সমন্বিত পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে তা আজ অতীত ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হই, তাহলে প্রথমে নগরীতে কাজ করা সবকটি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় করবো।

পূর্বপশ্চিম: নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা- এ সমস্যার কিভাবে সমাধান করবেন? কোন পদক্ষেপটি সবার আগে গ্রহণ করবেন?

রেজাউল করিম: চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই অভিশাপ থেকে বাঁচতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেগুলো শেষ হলে অনেকাংশে জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে করছি। তবে জনগণের সচেতনতা ছাড়া হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে অর্জিত সফলতা ধরে রাখা সম্ভব না। তাই জনগণের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন অনেক ভূমিকা রাখতে পারে। আমি সে জায়গায় প্রথমে কাজ করবো। আগে জনগণকে 'ফিল' করাতে হবে খাল-নালায় বর্জ্য ফেলা অপরাধ।

পুরনো ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, খেলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ছিল, পরিবেশ সুরক্ষায় পাহাড়ের সারি ছিল। আজ প্রতিষ্ঠানের ঘেঁষাঘেষিতে সবই বিলীন হতে চলেছে। চট্টগ্রামের 'লাইফলাইন' খ্যাত কর্ণফুলী দূষণের শেষ পর্যায়ে, যার মোহনার দেশের অর্থনীতির সূতিকাগার বন্দর অবস্থিত। অথচ আমরা কর্ণফুলী নিয়ে পুরনো কর্মকাণ্ডেই দায় সারছি। কাজ যেই করুক, চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নে আমার সহযোগিতা থাকবে। সিটি করপোরেশন মূল কাজগুলো মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন ও সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ-উন্নয়ন। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকে সবার আগে গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়াও সড়কের পাশে পথচারীদের জন্য ফুটপাত খালিকরণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে অটল থাকবো।

পূর্বপশ্চিম: মেয়র পদে আপনার মনোনয়নপ্রাপ্তি নিয়ে দলে কোনো নেতৃত্বের কোন্দল দেখা দেবে কি?

রেজাউল করিম: প্রশ্নই আসে না। নেত্রীর নির্দেশনায় আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করছি।

পূর্বপশ্চিম: সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

রেজাউল করিম: দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। ভোটাররা সঠিক ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আশা করছি, ভোটারদের রায় পাব।

পূর্বপশ্চিম: চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

রেজাউল করিম: ১২ আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে ভালো।

পূর্বপশ্চিম: আপনাকে ধন্যবাদ।

রেজাউল করিম: পূর্বপশ্চিমকে ধন্যবাদ।

এক নজরে রেজাউল করিম:

বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৬৭ সালে কলেজ ছাত্রাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সদস্য পদে ফরম পূরণের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯-১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৭০-১৯৭১ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্রাবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১ নম্বর সেক্টরের বিএলএফ’র মাধ্যমে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭৩-১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রেজাউল করিম চৌধুরী। পড়াশোনার জন্যে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। কিন্তু ৭৫’র পট পরিবর্তনের কারণে সামরিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধ লড়াইয়ে নেমে ফাইনাল পরিক্ষা দিতে পারেননি তিনি। পরে ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কার্য্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭-২০০৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৬-২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে পরিচিতি রয়েছে রেজাউল করিম চৌধুরীর। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ডব্লিউএ/কেএম

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন,আওয়ামী লীগ,রেজাউল করিম চৌধুরী,সাক্ষাৎকার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close