• বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

দেশে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে: রিজভী

প্রকাশ:  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে এখন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র নেই, মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই, নেই মানবিক মর্যাদা। দেশে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ এখন নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জনগণের স্বাধীনতার জন্য আজ আমাদের শ্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশে এখন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে অভিযোগ তোলে রিজভী বলেন, দেশে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ এখন নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরটি ঘোষণা করেছেন তার পিতার নামে। মানুষের ধারণা ছিল, তার পিতার সম্মানে হলেও মানুষকে একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেবেন। বন্ধ করবেন ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের মহোৎসব। বন্ধ করবেন বিরোধী প্রতিপক্ষের প্রতি কুৎসা রটানো। তবে প্রতিদিন হতাশার খবর ছাড়া আর কিছুই নেই।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরটি ঘোষণা করেছেন তার পিতার নামে। মানুষের ধারণা ছিল তার পিতার সম্মানে হলেও মানুষকে একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেবেন। বন্ধ করবেন ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের মহৌৎসব। বন্ধ করবেন বিরোধী প্রতিপক্ষের প্রতি কুৎসা রটানো। কিন্তু প্রতিদিন হতাশার খবর ছাড়া আর কিছুই নেই। বরং আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, দেশজুড়ে নানা অপরাধের মধ্যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষিতা হচ্ছে নারী ও শিশু। অপরাধীদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীনদের লোক।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পূর্বে দুটো ইশতেহার থাকে বলে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের একটি ‘ঘোষিত’, আরেকটি ‘অব দ্য রেকর্ড’ ইশতেহার থাকে। ঘোষিত ইশতেহারে ভালো ভালো কথা থাকলেও, ক্ষমতায় আসার পর সেই ইশতেহারটির বদলে অব দ্য রেকর্ড ইশতেহারের বাস্তবায়ন দেখা যায়। সেটি হলো-কর্তৃত্ববাদী বাকশালী শাসন, গণতন্ত্র হরণ, বিরোধী দল নিধন এবং অর্থনীতি লুণ্ঠন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে, দেশের শীর্ষ তিন জন গ্রাহক যদি কোনও কারণে ঋণ খেলাপি হন, তাহলে দেশের ২১ ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হবে। আর মাত্র সাত জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৫টি ব্যাংক এবং ১০ জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৭টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়বে। এত ভয়ঙ্কর খবরের পর যখন নিশিরাতের সরকারের অর্থমন্ত্রী নিজেকে বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী দাবি করেন তখন জনগণের বুঝতে বাকি থাকে না, যে এই সরকারের সবটাই শুভঙ্করের ফাঁকি।

দলকানা দুদক এসব দেখে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, কারণ এদের গোড়া সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রসারিত। তারা ক্ষমতায় বসেছেন, কেবল লুটেপুটে-চেটেপুটে খেতে। দেশের বারোটা বাজুক বা তেরোটা বাজুক তাতে তাদের কিছু আসে যায় না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এতো ভয়ঙ্কর খবরের পর যখন নিশিরাতের সরকারের অর্থমন্ত্রী নিজেকে বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী দাবি করেন তখন জনগণের বুঝতে বাকি থাকেনা যে, এই সরকারের সবটাই শুভঙ্করের ফাঁকি। মহালুটপাট হরিলুটের কোনো প্রতিকার বা প্রতিরোধ হচ্ছে না। কোনো বিচার বা শাস্তিও হচ্ছেনা। দলকানা দুদক এসব দেখে না। কারণ এদের গোড়া সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রসারিত। তারা ক্ষমতায় বসেছেন কেবল লুটেপুটে-চেটেপুটে খেতে। দেশের বারোটা বাজুক বা তেরোটা বাজুক তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। দেশে মানুষের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে একমাত্র নিরাপদে জনগণের ভোট ডাকাতি ছাড়া, আর খুন গুম ছাড়া দেশে কিংবা বিদেশে কোথাও সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা মনে করে ভোট ও বিবেক দুটোই কিনে ফেলেছে। বিএসএফ বাংলাদেশিদের হত্যা করলেও সরকার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেনা। প্রতিদিন সহায় সম্বল হারা মানুষ প্রবাস থেকে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরছে, কিছুই করতে পারছেনা সরকার। আবার অনেকে উন্নত জীবনের আশায় সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশ যেতে গিয়ে ডুবে মরছে সাগরে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

বিএনপি,রিজভী,অনিয়ম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close