• শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

তাবিথের প্রার্থিতা বা‌তিল চেয়ে ইসিতে বিচারপতি মানিক

প্রকাশ:  ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আইনি নোটিশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। হলফনামায় তথ্যগোপন করার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে তার হাতে নোটিশের কপি তুলে দেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের এমএফএম কোম্পানিতে তিন জন শেয়ারহোল্ডার আছেন। তিনজনের মধ্যে একজন হলেন তাবিথ আউয়াল। বাকি দুইজন তার সহোদর, এই তিনজন মিলে এই কোম্পানির সব শেয়ারের মালিক। সেই কোম্পানির মূল্য ২ মিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছে। সেখান থেকে যে লাভ দেখানো হয়েছে সেটা একটি বড় অঙ্ক। তার চেয়ে বড় কথা এই কোম্পানির তথ্য তাবিথ আউয়াল নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেনি। আইনে আছে তার এবং তার পরিবারের সব সম্পদের হিসাব দেখাতে হবে। এটি মারাত্মক আইনের খেলাপ। আইনে আছে হলফনামায় যদি তথ্য গোপন করা হয় তাহলে সে নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সেই অর্থে তাবিথ আউয়াল অযোগ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই নথি দেখেছি মাত্র দুইদিন আগে। এই ব্যাপারে তাবিথ আউয়াল সাহেবকে সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেছিল, তিনি তখন বিষয়টি অস্বীকার করেননি।’

আপনি কেন এ অভিযোগ করলেন, জানতে চাইলে সাবেক এ বিচারপতি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে করেছি এটা। আমার বিবেকে লেগেছে। আমি দেশের একজন নাগরিক। বিষয়টি যখন আমার চোখে এসেছে…। দেশকে যারা ভালোবাসে, তারা গণতন্ত্রকে ভালোবাসে। এর সঙ্গে গণতন্ত্র ও দেশের ভবিষ্যৎ জড়িত।

মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন কমিশনের কিছু করার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিশন হচ্ছে সর্বোচ্চ। কমিশনকে দিয়েছি, তারা এখন বিবেচনা করবে। সব কাগজপত্রই দিয়েছি। এক্ষেত্রে আইন তো পরিষ্কার যে কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। এখন সময় কম। তাবিথের মনোনয়ন আইনত বাতিল হতে বাধ্য। এখন সমস্যা হচ্ছে, সময়টা খুব কম। যদি আসলেই জিতে যান, তাহলে কিন্তু উনি (তাবিথ) টিকতে পারবেন না, যদি তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কারণ নির্বাচনের পরেই এ প্রশ্ন আসবে, তখন যদি প্রতিষ্ঠিত হয় যে উনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন হফলনামায়, তাহলে উনি আর থাকতে পারবেন না। তার সিট শূন্য হয়ে যাবে। আবার নতুন করে নির্বাচন হবে।

আইনি নোটিশের বিষয়ে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা এটি একটি লিগ্যাল নোটিশ আকারে ইসিকে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম অনেক্ষণ সময় নিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। তিনি জানিয়েছেন এই বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করা হবে। আমরা রিট আবেদন করার কথাও ভাবছি। যেহেতু এটি একটি মারাত্মক খেলাপি কাজ, দেশের স্বার্থে নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমরা এমনও ভাবছি রোববার আমরা রিট আবেদন করতে পারি। তার নথিগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে আমি কিন্তু এখানে আসতাম না।’

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তাবিথ আউয়াল তার হলফনামায় সিঙ্গাপুরের কোম্পানির তথ্য গোপন করেছেন। তার সেই কোম্পানির সম্পৃক্তার তথ্য ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের সঙ্গে যুক্ত করা আছে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী তাবিথ আউয়াল একজন অযোগ্য প্রার্থী। তাই তার প্রার্থিতা বাতিলের অনুরোধ জানাই। যদি প্রার্থিতা বাতিল করা না হয় তাহলে আমরা হাইকোর্টে যেতে বাধ্য হবো।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

তাবিথ আউয়াল,সিটি নির্বাচন,শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close