• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড খুব সম্ভবত বৈধ হতে যাচ্ছে: রুমিন ফারহানা

প্রকাশ:  ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:১৪ | আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে আইনের শাসন এখন সরকারের গতিতে চলে দাবি করে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, ২০১৯ সালে গড়ে প্রতিদিন একজনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড খুব সম্ভবত বৈধ হতে যাচ্ছে। কারণ গতকাল (মঙ্গলবার) আমরা দেখেছি সরকারি ও প্রধান বিরোধী উভয় দলই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে কথা বলেছে।

বুধবার (১৫জানুয়ারি) সংসদে ৭১ বিধির বাতিল নোটিশের ওপর বক্তব্যদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরুল হক নুরকে বার বার মারধরের কারণ জানতে চান রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো আমারও এই প্রশ্ন ভিপি নুর কেন বার বার মার খাচ্ছেন। প্রথমবার মারধরের পর কোনও বিচার হয়নি বলেই হয়তো বারবার মার খায়। আর এটা প্রমাণ করে এই দেশে আইনের শাসন তার নিজ গতিতে চলে না। চলে সরকারের গতিতে।

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, আইন সরকারের গতিতে চলে বলেই সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ৭০ বারের মতো পেছানো হলো। যে কোনও ঘটনা ঘটার পর সরকার যেভাবে চায় ঠিক সেভাবেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দুই মিনিটের বক্তব্যে আইন ও শালিশ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক প্রকাশিতে রিপোর্ট তুলে ধরেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশে আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছু নজির আমরা দেখতে পেলাম। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে আগের বছরের দ্বিগুণ হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন। গ্রেফতারের আগে নির্যাতনে মারা গেছেন ৬ জন। গুলিতে নিহত হয়েছেন আরও ১২ জন। এরকম শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণের পর ৪৮৭ জন শিশু নিহত হয়েছে। গণপিটুনিতে মারা গেছেন ৬৫ জন। ১৪২ জন সাংবাদিক শারীরিক নির্যাতন, হামলা, হুমকির শিকার হয়েছেন। কর্তৃত্ববাদী সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রধান অস্ত্র ভীতির পরিবেশ তৈরি করা। যে কোনও উপায়ে ভিন্নমত দমন। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার, পুলিশ প্রশাসনকে ব্ল্যাংক চেক দেওয়া, বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ।

প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দুই সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে হত্যা করার দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্যেকে সমর্থন করেন সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ তোফায়েল আহমেদ ও তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীসহ জাপার দুই সাংসদ।

আজ সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় রুমিন ফারহানা তাদের বক্তব্য উল্লেখ করে এসব কথা বলেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

বিএনপি,জাতীয় সংসদ,তোফায়েল,ধর্ষণ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close