• রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

আওয়ামী লীগের চমকের সম্মেলন, সাজছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

প্রকাশ:  ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২৩ | আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় চমকের এই সম্মেলনের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্মেলন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে গঠিত ১১টি উপ-কমিটির নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন।

গত সম্মেলন বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে করা হলেও এবারের সম্মেলন অনেকটাই সাদামাটাভাবে করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। এবারের সম্মেলন সফল করতে ব্যয় ধরা হয়েছে চার কোটি টাকা।

২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। সে জন্য এবার কোনো বিদেশি অতিথিকেও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। সাজসজ্জা ও আলোর ঝলকানি সীমাবদ্ধ থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যেই।

সম্মেলনে সারা দেশ থেকে সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর ও পনের হাজার ডেলিগেটসসহ ৫০ হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকবেন। এ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এবারের সম্মেলনের স্লোগান- ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ।’

সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদস্য সচিব দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিম, সদস্য সচিব ডা. দীপু মনি, অর্থ উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাজী জাফরউল্লাহ, সদস্য সচিব এইচ এন আশিকুর রহমান, ঘোষণাপত্র উপ-কমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সদস্য সচিব আবদুর রহমান, দফতর উপ-কমিটির আহ্বায়ক পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, সদস্য সচিব আবদুস সোবহান গোলাপ, মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সদস্য সচিব মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক এইচ টি ইমাম, সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ,

বরাবরের মতোই এবার সাজসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সদস্য মির্জা আজম। তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে মুজিব বর্ষ শুরু হবে। আমাদের মূল ফোকাস সেখানেই থাকবে। সে কারণে দলের সম্মেলন উপলক্ষে তেমন সাজসজ্জা করা হবে না।

মঞ্চ সাজসজ্জা উপ-কমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজম বলেন, ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪০ ফুট প্রস্থ হবে মূল প্যান্ডেল। উচ্চতা হবে ২৮ ফুট। পেছনে কোনো ব্যানার থাকবে না। সম্পূর্ণ ডিজিটাল মঞ্চ করা হবে। পুরো পদ্মা সেতুসহ দুই পাশের চর, টোলপ্লাজা ও উন্মুক্ত আকাশ সেখানে দেখা যাবে।

মঞ্চ সাজসজ্জা কমিটির সূত্র জানায়, মোট ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হবে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান। দলের নেতা-কর্মীদের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোট গেট থাকবে ৫টি। একটি গেট ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মূল মঞ্চে চেয়ার থাকবে ৭৭টি। ৮১ সদস্যের মধ্যে চারটি পদ খালি রয়েছে। প্রথম সারিতে দুটি চেয়ারে বসবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দ্বিতীয় সারির চেয়ারে বসবেন প্রেসিডিয়াম ও চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকগণ। তৃতীয় সারির চেয়ারে সম্পাদকম-লীর ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যগণ বসবেন। নেতা-কর্মীদের জন্য চেয়ার থাকবে ৩০ হাজার। এ ছাড়া সম্প্রসারিত মঞ্চে চেয়ার দেওয়া হবে ১৫ হাজার।

রেওয়াজ অনুযায়ী সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তৃতার খসড়া চূড়ান্ত করেছে দফতর উপ-কমিটি। আজকালের মধ্যেই তা প্রেসে দেওয়া হবে।

সারা দেশ থেকে আগত নেতা-কর্মীদের জন্য থাকছে ৪০ হাজার মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা। এ প্রসঙ্গে খাদ্য উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে ৪০ হাজার দলীয় নেতা-কর্মীকে আপ্যায়ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

আওয়ামী লীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close