• শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬
  • ||

খুলনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছেন কারা

প্রকাশ:  ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:০৮ | আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৫
খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার সর্বত্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ছবি সম্বলিত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।

খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে নতুন মুখ আসছে নেতৃত্বে। তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন বিতর্কিত ও বর্তমান নেতৃত্ব। জেলায় সভাপতি পদে সাবেক এক এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন এডভোকেটের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে নগর কমিটিতে বর্তমান সভাপতি ও নগরের অপর এক নেতাকে সাধারণ সম্পাদক পদে আনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রটি জানিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে খুলনা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এবারই প্রথম নগর ও জেলা সম্মেলন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কে আসছেন নেতৃত্বে তাই নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। নগর কমিটিতে সভাপতি পদের জন্য এখন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক। আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আলহাজ মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্তত অর্ধডজন প্রার্থী রয়েছেন আলোচনায়।

আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তবে এ পদটি নিয়ে নানা আলোচনার জন্ম দিলেও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এমডিএ বাবুল রানা সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন বলে দলের একটি সূত্র প্রচার চালাচ্ছেন।

২০১৪ সালের ২৯শে নভেম্বর আওয়ামী লীগ খুলনা মহানগর কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। সম্মেলন শেষে কাউন্সিল অধিবেশনে তালুকদার আব্দুল খালেককে সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ১৯ মাস অপেক্ষার পর ১১ই জুন ৭১ সদস্যের এই কমিটির অনুমোদন দেন দলীয় প্রধান।

এদিকে জেলা কমিটিতে আসছে একেবারেই নতুন মুখ। খুলনা-৬ আসনের সাবেক এমপি এডভোকেট সোহরাব আলী সানাকে সভাপতি ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুজিত অধিকারীকে সাধারণ সম্পাদক করার বিষয়ে দলের হাইকমান্ড সম্মত হয়েছে। তবে বর্তমান সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ দলীয় হাইকমান্ডের কাছে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে খুলনা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। সব মিলিয়ে আলোচনার সমাপনী ঘটতে যাচ্ছে আজ।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ১০ মাস পর ২০১৬ সালের ২৭শে নভেম্বর ৭০ সদস্যের জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে শেখ হারুনুর রশিদ ও এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা। মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুর পর গাজী আব্দুল হাদী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তিনিও মারা গেলে এডভোকেট সুজিত অধিকারী এ পদে আসীন হন।

সম্মেলনের বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেন, নুতন মুখও আসতে পারে আবার পুরাতনরাও থাকতে পারে। তবে আমরা কাউন্সিলরদের ওপর ভরসা রাখছি। তাদের মতামতকেই প্রাধান্য দেয়া হবে।

নগর সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, সম্মেলন বর্ণাঢ্য ও দৃষ্টিদন্দন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নগরীতে প্রায় আড়াইশ’ তোরণ করা হয়েছে। তোরণে বঙ্গবন্ধু, আ.লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল ও কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেনের ছবি শোভা পাচ্ছে। নগরজুড়ে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের পোস্টার-ব্যানার শোভা পাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সম্মেলন শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। এজন্য আগত নেতাকর্মীদের সকাল ৯টার মধ্যে সভাস্থলে প্রবেশ করতে হবে।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, সম্মেলনকে সফল করতে ইতোমধ্যে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে এবারের কমিটি গঠন করা হবে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যার ওপর আস্থা রাখবেন, তিনিই নেতা নিবাচিত হবেন। কোনও হাইব্রিড, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুকে দলে জায়গা দেওয়া হবে না।

উদ্বোধন ও কাউন্সিল এই দুই ধাপে পুরো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।

সার্কিট হাউজের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত ৪২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ৩৪০ প্রস্থ নিয়ে প্যান্ডেল প্রস্তুতির কাজ চলছে। এখানে প্যান্ডেলে ৩০ হাজার মানুষের আসন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সার্কিট হাউজ ময়দানের পূর্বপাশে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থ নিয়ে ডিজিটাল মঞ্চ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এখানে দুই শতাধিক নেতার বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৬৭ জন ও ৯টি উপজেলা থেকে ১৫৭ জন কাউন্সিলর এবং ৪ হাজার ডেলিগেট অংশ নেবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৬৬ জন ও ৩৬টি ওয়ার্ড থেকে ১২ জন করে ৪৩২, ৫টি থানা থেকে ৫ জন করে ২৫ জন কাউন্সিলর ছাড়াও ৩৬ সাংগঠনিক ওয়ার্ড থেকে ২শ’ জন করে ৭ হাজার ২শ’ জন ডেলিগেট সম্মেলনে যোগদান করবেন।

এদিকে সম্মেলন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রায় ৩০-৩৫ হাজার লোকের সমাগম ঘটবে। সম্মেলনে যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে কেএমপি, র‌্যাবসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। নিরাপত্তার জন্য এক সপ্তাহ আগে থেকেই সম্মেলনস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সম্মেলনের দিন সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বেশি জোরদার করা হবে বলা হয়েছে কেএমপি’র পক্ষ থেকে। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবও মাঠে থাকছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুস সালেহীন ইউসুফ জানান, সম্মেলন উপলক্ষে সমস্ত এলাকাজুড়ে র‌্যাব-এর কড়া নজরদারি থাকবে। এদিন আমাদের নিয়মিত টহলের অতিরিক্ত পেট্রোল বাহিনী নিয়োজিত রাখা হবে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

পূর্ব পশ্চিম/এসএস

খুলনা,আওয়ামী লীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত