• মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬
  • ||

আ.লীগের সম্মেলন ঘিরে হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে দলীয় উত্তেজনা

প্রকাশ:  ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১৯
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৮ বছর পর লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ। সম্মেলনকে ঘিরে দুটি পক্ষের দ্বন্দ ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে দু‘পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি পাল্টাপাল্টি ইউনিয়ন কমিটি গঠনেরও খবর শোনা গেছে।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) হাতীবান্ধা সরকারি এসএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলনকে ঘিরে যেমন চলছে নানা সমীকরণ, তেমনি আলোচনা-সমালেচনা ও রয়েছে উত্তেজনা।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১১ সালে উপজেলা দুটিতে আ,লীগের কমিটি গঠন করা হয়। তবে এবারের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হাতীবান্ধা আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটির নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন ও তার বড় ছেলে উপজেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল হাসান সোহাগ। অপরটিতে রয়েছেন জেলা আ.লীগের যুগ্ন সম্পাদক সারয়ার হায়াত খান ও উপজেলা আ,লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান ভেলু।

এদিকে বদিউজ্জামান ভেলুকে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি হিসেবে মানতে নারাজ দলের অনেকেই। বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোট করার বিষয়টিকে দায়ী করছেন দলটির একাংশ। তাই বদিউজ্জামান ভেলু‘র পরিবর্তে আব্বাস আলীকে হাতীবান্ধা উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে।

অপরদিকে আ.লীগের অপর একটি একাংশের দাবি, কেন্দ্র থেকে চিঠি দিয়ে সকল বিদ্রোহী প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। বিদ্রোহী প্রার্থীরা নোটিশের লিখিত জবাবও দিয়েছেন। এরপর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বিদ্রোহী প্রার্থীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সে কারণে বদিউজ্জামান ভেলু এখনও উপজেলা আ,লীগের সভাপতি রয়েছেন বলে দাবি দলের একাংশের। কিন্তু তাকে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনে না ডাকায় বাধ্য হয়ে আ,লীগের ত্যাগীদের নিয়ে গঠন তন্ত্র মেনে কমিটি গঠন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল হাসান সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, যারা এ কাজটি (পাল্টাপাল্টি কমিটি) করতে চাচ্ছেন, তাদের কিছু দিন আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শর্তযুক্ত মাফ করেছেন। যারা একবার মাফ পায় তারা আবার ষড়যন্ত্র করে এটাই তার প্রমাণ।

হাতীবান্ধা উপজেলা আ,লীগের ‘সভাপতি’ বদিউজ্জামান ভেলু বলেন, উপজেলা নির্বাচন করার পর থেকেই একটি পক্ষ আমাদের দলের কার্যক্রম চালাতে দিতেন না। দলীয় প্রধান আমাদের ক্ষমা করার পরও ওই পক্ষটি পাশ কাটিয়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে থাকে। তাই আমরাও পাল্টা কমিটি করেছি।

একই কথা বলেন উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আ,লীগের যুগ্ম সম্পাদক সরওয়ার হায়াত খান। তিনি বলেন, আমরা কয়েক জন বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আমাদেরকে দলীয় কাজ থেকে বাইরে রাখা হচ্ছে। কিন্তু ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমরাও কমিটি গঠন করছি।

এই অবস্থায় আজ রোববার বিকেলে হাতীবান্ধা সরকারি এসএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে উপজেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সোহাগ গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদের(সভাপতি/সম্পাদক) একটি পাচ্ছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেলেও অপরটিতে কে আসছেন তা হয়তো সম্মেলন শেষে স্পষ্ট হবে।

এর আগে একইদিন পার্শ্ববর্তী পাটগ্রাম উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে আ.লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে কমিটি গঠন নিয়ে একই অবস্থা সেখানেও। গত ২৫ নভেম্বর শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ওই কমিটি গঠন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

বিষয়টি স্বীকার করে পাটগ্রাম উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল বলেন, আমাদের শ্রীরামপুর ও বুড়িমারী ইউনিয়ন আ.লীগের কমিটি গঠন স্থগিত করা হযেছে। এরপরেও আজ ক্ষুদ্র পরিসরে পাটগ্রাম উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

হাতীবান্ধা উপজেলার দু’টি পক্ষের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করে লালমনিরহাট জেলা আ,লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সিরাজুল হক বলেন, আওয়ামীলীগ একটি প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। তাই এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা থাকবে- এটাই স্বাভাবিক।


পূর্বপশ্চিমবিডি/রবি/কেএম

আ.লীগের সম্মেলন,হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম,উত্তেজনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত