• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

যুবলীগের নেতৃত্বে শেখ পরশ-বেলাল আসছেন

প্রকাশ:  ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১৭ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক । শনিবার (২৩ নভেম্বর) যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের কংগ্রেস রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। পদ্মাসেতুর আদলে তৈরি মঞ্চ থেকে বেলা ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে ৭ম কংগ্রেসের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে রাজধানীতে আসতে শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও। সারা দেশের যুবলীগ নেতারা তাকিয়ে আছেন তাদের ভবিষ্যৎ নেতার দিকে। সবখানে চলছে আলোচনা, যুক্তি।

চেয়ারম্যান পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশের নাম।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। পরে তিনি আমেরিকা থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।

তবে বেশিরভাগ সূত্র মনে করছেন, শেখ ফজলে শামস পরশই হচ্ছেন যুবলীগের পরবর্তী চেয়ারম্যান।

ফজলে শামস পরশ এখনো দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আস্থাভাজন।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে আসছেন যুবলীগের বর্তমান কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন।তিনি সৎ আদর্শবান এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বেশ কয়েকবার যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও প্রদান করেছেন।

নানাভাবে বিতর্কিত যুবলীগের নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আসছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য পদগুলোতেও বিতর্কিতদের স্থান হবে না। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ও ভবিষতে স্বচ্ছতা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন এমন কাউকেই খোঁজা হচ্ছে যুবলীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার জন্যে।

যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, এবার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন বলে আমি মনে করি।

যুবলীগের কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কমিটিতে শুধু চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদকই নয়, প্রেসিডিয়াম সদস্যরা থাকেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকম-লীর সদস্যরা রয়েছেন। প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সবাইকে সন্নিবেশিত করতে হবে। তাহলেই যুবলীগে একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

প্রসঙ্গত, যুবলীগের সর্বশেষ কংগ্রেস হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। ওই কংগ্রেসে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হন হারুন-অর-রশিদ। ১৪৯ সদস্যের এই কমিটিতে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। পরে আরো দুজনকে নিয়োগ দিয়ে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়।

রাজপথের ভ্যানগার্ড বলে পরিচিত ১৯৭২ সালে শেখ ফজলুল হক মণির হাতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির কয়েক নেতার অসৎ কর্মকাণ্ড সম্প্রতি প্রশ্নবিদ্ধ করে যুবলীগকে। সম্প্রতি চলমান শুদ্ধি অভিযানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জেরে সবচেয়ে বেশি যুবলীগ নেতাদের নাম আলোচনায় উঠে আসে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড জেরে পদ হারান সংগঠনটির খোদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এর আগে ক্যাসিনোকাণ্ডে বহিষ্কার হন মহানগরের কয়েক নেতা। ফলে কিছুটা হলেও এই সংগঠনের সিংহাসন তার জৌলুস হারায়। নানাভাবে বিতর্কে যুবলীগের নেতৃত্বে লাগে দোলা। ফলে নেতৃত্বে দেখা দেয় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা। ‘বিতর্কিত ও পথভ্রষ্ট’দের ঠাঁই হবে না বলে একাধিকবার জানানো হয় আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

যুবলীগ,চেয়ারম্যান,কংগ্রেস,সোহরাওয়ার্দী উদ্যান,রাজনীতি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত