• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

জাপার মহাসচিব পদ হারানোসহ কঠিন খড়্গ নামছে রাঙ্গার ওপর

প্রকাশ:  ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১১ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরূপ মন্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। এই মন্তব্যের কারণে রাঙ্গা কয়েকবার ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে রংপুরবাসী। তারা রাঙ্গাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বলে দিয়েছেন তাকে আর কখনো রংপুরের সীমানায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। নুর হোসেনের মা নিজেও এর বিচারের ভার জনগণের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও রাঙ্গা বিরূপ মন্তব্য করে রোষানলে পড়েছেন।

সূত্র বলছে, সার্বিক পরিস্থিতি রাঙ্গার প্রতিকূলে চলে গেছে। রাঙ্গা এখন জাপা মহাসচিব বিরোধী দলের চিফ হুইপ পদ হারাতে যাচ্ছেন, জেলে গেলেও অবাক হবার কিছু নেই। গণঅসন্তোষ সংসদ থেকে রাজপথে। সরকার থেকে বিরোধীদল, এমন কি জাপাও ক্ষুব্ধ।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, শহীদ নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে যখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের জীবন্ত পোস্টার, মশিউর রহমান রাঙ্গা তখন রংপুরে। ওই সময়ে দেশে কোনো ইয়াবা ছিল না। নুর হোসেন তখন ইয়াবা পাবে কোথায়? একবারে অপ্রাসংগিকভাবে তাকে নিয়ে রাঙ্গার এমন মন্তব্যের কারণে শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না তার শাস্তিও হওয়া উচিত। তার এই মন্তব্যে দেশের গণতন্ত্রপন্থী প্রতিটি মানুষ আহত আহত হয়েছে।

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার জন্য মশিউর রহমান রাঙ্গাকে দলের জাপার মহাসচিব পদ হারাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

১০ নভেম্বর ‘গণতন্ত্র দিবস’ নূর হোসেনকে নিয়ে বক্তব্যের সময় রাঙ্গা বন্ধুবন্ধুকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের জন্য অনেক কিছু করলেও তিনিই প্রথম গণতন্ত্রের বুকে শেষ পেরেকটি মেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু যেদিন বাকশাল গঠন করেন, সেদিন তিনি কয়েকটি বাদে সব পত্রিকা বন্ধ করে দেন। সেদিনই আসলে গণতন্ত্রের বুকের শেষ পেরেক ঠুকে দেন বঙ্গবন্ধু’। তার এই বক্তব্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহল ভালভাবে নেয়নি। এমনকি জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলটির একাধিক নেতা জানান, জাপার মহাসচিব বদ পদ থেকে রাঙ্গার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা তোফায়েল আহমদ জাতীয় সংসদে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে প্রকাশে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ১৪ দলীয় জোটের নেতারাও রাঙ্গার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা যে বক্তব্য দিয়েছেন, দলটির নেতারাও এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য বলে দাবি করে এজন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন জাপা নেতারা। পাশাপাশি রাঙ্গাকে নাম-পরিচয়হীন অভিহিত করে তিনি কীভাবে এতদূর এলেন, এমনকি মন্ত্রীও হয়েছিলেন, এসব নিয়ে জাপা নেতারা প্রশ্নও তুলেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে কুলাঙ্গার হিসেবে অবিহিত করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ ও মুজিবুল হক চুন্নু রাঙ্গার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, নুর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়। এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হতে পারে। তার এই বক্তব্যে জাতীয় পার্টি লজ্জিত, দুঃখিত। যে যুবক গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে পারে, তিনি অবশ্যই সাহসী। তাকে কটাক্ষ করে বক্তব্য আমরা সমর্থন করতে পারি না।

তিনি বলেন, একটা কথা আছে, বানরকে লাই দিলে মাথায় ওঠে বসে। এই লাই আমরা দিইনি। লাই দিয়েছে সংসদ। একের পর এক প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। কোনো পরিচয় নেই, নাম-ধাম নেই, অশিক্ষিত, কী করে তাকে মন্ত্রী বানানো হলো। একের পর এক প্রমোশন দেওয়া হলো। তিনি যুবদল করেছেন। কোনো আন্দোলন করেননি। তিনি কাগজের মালা গলায় দিয়ে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছেন। তার জন্য আমাদের সংসদে জবাব দিতে হয়। এতে আমরা দুঃখিত, লজ্জিত। তার বক্তব্য আমরা গ্রহণ করি না। ঘৃণাভরে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো ব্যক্তির বক্তব্য আমার দল দায়িত্ব নেবে না।

জাতীয় পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, রাঙ্গার এই বক্তব্য আসলে জাতীয় পার্টি দলীয়ভাবে সমর্থন করে না। একান্তই তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। নূর হোসেনের ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কী দৃষ্টিভঙ্গি সেটা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার বাড়িতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন। তার মা-বাবার কাছে এরশাদ সাহেব দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করেছিলেন। এটাই জাতীয় পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি। এর বাইরে কেউ কিছু বললে সেটা তার নিজের বক্তব্য।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত