• রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

যে কারণে কুলাউড়া আ.লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনার বাড়তি নজর

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪০ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৫১
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বিগত সময়ে নানা ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনায় দেশব্যাপী আলোচিত কুলাউড়া উপজেলা। বিগত কয়েক দশক ধরে জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক কারণে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার রাজনৈতিক সমীকরণ মেলানো হিমালয়ের পর্বত জয় করার সমানুপাত বলা যায়। কেননা এখানকার জনপ্রতিনিধিরা কখনও প্রশংসায় ভাসেন আবার কখনও উৎকট সমালোচনায় বিভোর থাকেন।

ইতিহাস স্বাক্ষী, এ উপজেলার জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের নিজেদের স্বার্থে যখন তখন দলবদলে পটু। তাই তো রোববার (১০ নভেম্বর) কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরেও বাড়তি কিছু হবে নতুন নেতৃত্বে। নানা কারণে আলোচিত এ উপজেলায় আ.লীগের সম্মেলন নিয়ে নজর রাখছেন খোদ দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘সুলতান মনসুর এবং কুলাউড়ার এক নেতার ব্যাপক বিতর্কিত কর্মকান্ড’ ইস্যুতে সভানেত্রী শেখ হাসিনার বাড়তি নজর কুলাউড়ার দিকে। বিশ্বস্থ সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

এ উপজেলার বর্তমান সাংসদ (মৌলভীবাজার-২) বহুল আলোচিত-সমালোচিত সাবেক গণফোরামের নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। সুলতান বিহীন এই প্রথম সম্মেলন হচ্ছে কুলাউড়ায়। ঠিক প্রায় ১৫ বছর পূর্বে সুলতান মনসুরের এক আধিপত্যে কুলাউড়ায় সম্মেলন হয়। সে সময় নিজের মতই করে সাজিয়েছিলেন উপজেলা আ.লীগ নেতৃত্ব। প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন সুলতানের আশীর্বাদ পুষ্টরা প্রাধান্য পেয়েছিল।

কোনঠাসা হয়েছিল বনেদী পরিবারের পোঁড় খাওয়া রাজনীতিবীদ মরহুম আব্দুল জব্বারের পরিবারসহ বেশকিছু ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতার পরিবার এবং কর্মীরা। নানা কারণে সুলতানের সাথে দ্ব›দ্ব শুরু হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনুর সাথে। পরে অবশ্য ১১১’র বির্তকিত কর্মকাণ্ডে আ.লীগ থেকে ছিটকে পড়েন সুলতান মনসুর।

অন্যদিকে, গেল উপজেলা নির্বাচনে মরহুম আব্দুল জব্বারের ছেলে আসম কামরুল ইসলামের নৌকা নানা কৌশলে পরাজিত করে জয় ভাগিয়ে নেন আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। তখন স্থানীয় সাংসদের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা মরহুম আব্দুল জব্বারের ছেলে আবু জাফর রাজুকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ হিসেবে নিযুক্ত করেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর রোববার (১০ নভেম্বর) কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কোনভাবেই যেন স্থানীয় সাংসদ সুলতান মনসুরের প্রভাব না পড়ে সে জন্যই দলীয় সভানেত্রীর নজর রয়েছে সেখানে। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণ করবে কেন্দ্র।

এদিকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে থানা সম্মুখে দলের কার্যালয়ে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ভিড় লেগেই আছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ভিড় ততই বাড়ছে। কারা আসছেন নতুন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে? এমন নানা প্রশ্ন নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।

তাছাড়া সম্মেলনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা বাড়াবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমদ।

বিগত উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির অনেকেই মারা যাওয়ায় এবং কেউবা প্রবাসে চলে যাওয়ায় প্রত্যক্ষ ভোটে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। তবে কেন্দ্র ও জেলা আওয়ামী লীগের কড়া নির্দেশ কাউন্সিলকে ঘিরে কোন বিভাজন বরদাশত করা হবে না। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সাল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসা দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনুর নেতৃত্বে দলের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মধ্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে এখন ঐক্যবদ্ধ। উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দ নতুন নেতৃত্বের জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

তৃণমূল নেতৃবৃন্দের বিশ্বাস, দলের দুঃসময়ে অতীতের পরীক্ষিত নেতাদের হাতে উঠবে নেতৃত্বর পুরষ্কার।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর সম্মেলন ও কাউন্সিল হওয়ায় পদ প্রত্যাশীদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। অনেক নতুন নেতৃত্বও মূল পদে আসার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মরিয়া হয়ে ১০ থেকে ১২ জন পদ প্রত্যাশী নেতা চাইছেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদ হাতিয়ে নিতে। চালিয়ে যাচ্ছেন জোর লবিং। বিগত কমিটিতে ছিলেন কিন্তু দলের বিরুদ্ধে এবং ধানের শীষ সমর্থন এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন এমন অনেকেই নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন না বলে দলের বিশ্বস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু আলোচনায়।

সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির তোফায়েল, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক ফজলু, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক আ স ম কামরুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক লীগের যগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা শফিউল আলম শফি, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সিএম জয়নাল আবেদীন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম বদর, পৃথিমপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবাব আলী সাজ্জাদ খান রয়েছেন আলোচনায়।

সম্মেলনের প্রস্তুতির ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে আমাদের সম্মেলন এবং কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

কুলাউড়ার সম্মেলন প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নেছার আহমদ এমপি বলেন, দলীয় জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। কে কোন অবস্থানে সব তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থাকবেন। কুলাউড়ায় সুষ্ঠু নেতৃত্ব আসবে বলে তিনি মনে করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

কুলাউড়া,আ.লীগ,সম্মেলন,শেখ হাসিনা,নজর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত