• রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

‘বিএনপি এখন স্কাইপ দল, এটা বেদনার’

প্রকাশ:  ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ২০:১০ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ২০:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

*বিএনপি এখন স্কাইপ দল, এটা বেদনার

*দেশের বৃহত্তম একটা দল বিএনপি

*বিশাল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা জনমানুষের কাছে

সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেছেন, দেশের বৃহত্তম একটা দল বিএনপি, বিশাল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগতা জনমানুষের কাছে। সেই দলটি এখন স্কাইপের মাধ্যমে চলছে, এটা এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্কাইপ দল হয়ে গেছে। এটা বেদনার, এটা ক্ষোভের।

প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, আমি মনে করছি, এই দলের এখন আমার কনট্রিবিউশন করার মতো কিছু নেই। নতুন প্রজন্মকে এই দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে- এটাই আমার পরামর্শ।

বুধবার (৬ নভেম্বর) গণমাধ্যমকে এম মোরশেদ এসব কথা বলেন।

এম মোরশেদ খান বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন আর রাজনীতি নেই। এরা স্কাইপের মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায়। এটি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

পদত্যাগপত্র কার কাছে জমা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে লেখা পদত্যাগপত্র আমার ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) মাধ্যমে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠিয়েছি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেন, শুধু বিএনপি নয়, আমি আর কোনো রাজনীতি দলের সঙ্গেই থাকবো না। সব ধরনের রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

১/১১’র সরকারের পরে দলীয় রাজনীতিতে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন জোট সরকারের সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তাকে দলের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ দেওয়া হয়েছিল।

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সমর্থন আছে বলেও তিনি জানান।

পদত্যাগপত্রে মোরশেদ খান লিখেছেন, আজ অনেকটা দুঃখ ও বেদনাক্লান্ত হৃদয়ে আমার এই পত্রের অবতারণা। মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার বিবেচনায়, সে ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে।

একইসঙ্গে রাজনীতির অঙ্গনে নিজের দীর্ঘকালের পদচারণা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং দেশের মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি ও আপনার যোগ্য নেতৃত্বের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে, বর্তমানে দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজনের সঙ্গতি নেই। আমার উপলব্ধি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বহু বিচার-বিশ্লেষণে বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রাথমিক সদস্যসহ ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছি। অব্যাহতি দিয়ে বাধিত করবেন।

এদিকে, পদত্যাগপত্র পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত রুহুল কবির রিজভী বুধবার দুপুরে বলেন, পদত্যাগপত্রটি এখনো পাইনি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধির মাধ্যমে মোর্শেদ খান পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করেছেন। তবে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তার মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

বিএনপি আমলে একচেটিয়া ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়া ‘সিটিসেল’ সিডিএমএ মোবাইল অপারেটরের মালিক ছিলেন এম মোর্শেদ খান। সিটিসেল ছিল বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর। ১৯৮৯ সালে এটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। বকেয়া কর পরিশোধে ব্যর্থতায় ২০১৬ সালের নভেম্বরে সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী,বিএনপি,ভাইস চেয়ারম্যান,এম মোরশেদ খান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close