• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
  • ||

খরচ কমাতে আ. লীগের সব সম্মেলন এক মঞ্চে করার পরিকল্পনা

প্রকাশ:  ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের ২০ ও ২১ তারিখে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ৬ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ২৩ নভেম্বর যুবলীগ এবং ২৯ নভেম্বরমৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। খরচ কমাতে এক মঞ্চে আওয়ামী লীগ ও চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

মঞ্চ, সাজসজ্জা, খাবারসহ আনুসাঙ্গিক ব্যয় কত হবে তা আগামী ৩ নভেম্বর জানা যাবে। সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন উপকমিটির কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির কার্যালয়ে অর্থ-উপকমিটির সঙ্গে ১০ টি উপকমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সহযোগী সংগঠনের বাজেট স্ব স্ব সংগঠন বহন করবে। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কৃষক লীগ তাদের মঞ্চের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

বৈঠকে অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী জাফরউল্লাহ, অভ্যর্থনা উপকমিটির মোহাম্মদ নাসিম, সাজসজ্জা উপকমিটির জাহাঙ্গীর কবির নানক, গঠনতন্ত্র উপকমিটির ড. আবদুর রাজ্জাকসহ উপকমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, সম্মেলন সামনে রেখে সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। সেখানে বিভিন্ন উপকমিটির নানা পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে বাজেট চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে আমরা ১০ টি উপকমিটিকেই তাদের পরিকল্পনা ও ব্যয়ের প্রস্তাব দিতে বলেছি। তাদের প্রস্তাব হাতে পেলে সম্মেলনের ব্যয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন সদস্য জানান, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন, এর আগে নভেম্বরে সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন। ফলে অপচয় না করে ব্যয় কমাতে আমরা একই মঞ্চে সবগুলো সম্মেলন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছি। তবে মঞ্চ এক থাকলেও সংগঠনগুলো সম্মেলনের দিন নিজেদের ইচ্ছামতো সাজসজ্জা করবে। আগামী ৭ দিনের মধ্যেই উপকমিটিগুলো আমাদের জানাবে- কারা কী করতে চায়, কত মানুষকে আপ্যায়ন করতে চায়, কতগুলো পোস্টার ছাপতে চায়। উপকমিটিগুলোর প্রস্তাব পেলে আমরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে এসব বিষয় চূড়ান্ত করব।

এদিকে, আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, এবার দলের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সম্প্রতি সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দলীয় সভানেত্রীর কঠোর মনোভাবের কারণে অনেকে মনে করছেন, এবার শুধু জেলা উপজেলায় নয়, কেন্দ্রীয় কমিটিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিতে বিতর্কমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব আনতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে তিনি সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনাও দিচ্ছেন নিয়মিত। আগে অন্যান্য সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্ব দিতেন। এবার এখন পর্যন্ত কোন নেতাকেই সুনির্দিষ্ট কোন সংগঠনের সম্মেলনের বিষয়ে দায়িত্ব দেননি তিনি। নিজেই দেখভাল করছেন সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন থেকে শুরু করে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়গুলো। মূলত বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব বাছাইয়ের সতর্কতা হিসেবেই তিনি এ প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন বলে জানা গেছে। কারণ, এর আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর দায়িত্ব দলের অন্য নেতাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে খুব একটা ভাল ফল পাননি তিনি। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চলমান শুদ্ধি অভিযানে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

আওয়ামী লীগ,জাতীয় সম্মেলন,সভানেত্রী,শেখ হাসিনা,ধানমন্ডির কার্যালয়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত