Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

ক্ষমা চেয়েও পার পেলেন না শোভন-রাব্বানী

প্রকাশ:  ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০১ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১৩
সজিব খান
প্রিন্ট icon

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অপমানজনকভাবে বহিস্কার করা হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের কাঠগড়ায় ক্ষমা চেয়েও পার পেলেন না তারা। ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া দুই ছাত্র নেতাকে ঠিকই শাস্তি দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছিলো বিস্তর অভিযোগ। যার ফলে গত ৭ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় তাদের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারবাহিকতায় শনিবার এই দুইজনকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিন্ডিকেট ভেঙে গত বছরের ৩১ জুলাই শোভনকে সংগঠনটির সভাপতি এবং রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে এই দুইজনের কাছ প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাটাও ছিলো অনেক। কিন্তু তারা এই প্রত্যাশাকে আমলে না নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

শোভন এবং রাব্বানীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সিন্ডিকেট, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া, দেরিতে ঘুম থেকে উঠাসহ নিজেদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পর হাজির হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তা হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৬ শতাংশ চাঁদা দাবি করা। যা প্রায় ৮৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ। শোভন-রাব্বানীর চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। এরপরই গণভবনে শোভন-রাব্বানীর প্রবেশের স্থায়ী পাস স্থগিত করা হয়।

তবে সকল অভিযোগের আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন গোলাম রাব্বানী। যদিও চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছেছে কিনা জানাযায়নি।

চিঠিতে রাব্বানী বলেছেন, দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই চতুর্মুখী চাপ, সদ্য সাবেকদের অসহযোগিতা, নানা ষড়যন্ত্র, প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা আর আমাদের জ্ঞাত-অজ্ঞাত কিছু ভুল ইতিবাচক পরিবর্তনের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করেছে। আমাদের দায়িত্বশীল আচরণের ব্যর্থতা ও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির বাইরেও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, প্রিয় নেত্রী দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে আপনি নিজে পছন্দ করে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে আমরা একটি বিশেষ মহলের চক্ষুশূল। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে ও প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সুকৌশলে আপনার এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের কান ভারী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি বারবার। অনেক অব্যক্ত কথা রয়েছে, যা আপনাকে বলার কখনও সুযোগ পাইনি। বিভিন্ন মাধ্যমে শ্রুত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্যটুকু উপস্থাপনের সুযোগ চাই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অভিযোগ আপনার কাছে ভিন্নভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। উপাচার্য ম্যামের স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল আজহার পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হয় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ম্যাম আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন। নেত্রী, ওই পরিস্থিতিতে আমরা কিছু কথা বলি, যা সমীচীন হয়নি। এজন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার মা’ উল্লেখ করে সকল ভুলের জন্য ক্ষমা চান গোলাম রাব্বানী। এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার। শাস্তি তাদের পেতেই হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

গোলাম রাব্বানী,রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন,ছাত্রলীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত