Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

৪০ লাখ টাকায় ছাত্রলীগের নেতা! ফোনালাপ ফাঁস

প্রকাশ:  ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৫৮
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট icon

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ৪০ লাখেরও বেশি টাকা দিয়ে নেতা হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। এই টাকা আগামী ৬ মাসে ডাবল হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের এই সংক্রান্ত ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। কথোপকথনে হাইকোর্টের রায় কেনাবেচা হয় এবং টাকা হলে যেমন খুশি তেমন রায় কেনা যায় এমন কথাও বলেছেন রাকিব।

গত ঈদুল আজহার পূর্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন নেতার সঙ্গে রাকিবের এই কথোপকথন হয় বলে জানা গেছে। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

সাধারণ সম্পাদকের ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের ওই কথোপকথন থেকে জানা যায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) মাহমুদুল হাসান নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে নেতা বানিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। মাহমুদুলকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মাধ্যমে পাবিপ্রবির নেতা বানাতে পারবে বলে জানান রাকিব। রাব্বানী তাকে আঞ্চলিক নেতা বানানোর দায়িত্ব দিয়েছেন।

ফোনালাপে রাকিব বলেন, ‘ঢাকা যায়ে খাটতে হয়। ঢাকা যেয়ে খাটতে বলতে কি, বহুত কাঠখড়ি আছে। তবে এখন আমার যে হিসাব নিকাশ, রাব্বানী ভাইয়ের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, এ আঞ্চলিক, এ বিষয়টা আমি যদি ভাইরে বলি ভাই আমার কথা শুনবে। ভাই অলরেডি আমাকে বলেছেও আঞ্চলিক বিষয়গুলো দেখার জন্য।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে মাহমুদুলকে নেতা বানাতে খরচ কেমন হতে পারে এমন আলোচনাও হয়। এ সময় রাকিব ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা হতে চল্লিশ লাখের মত টাকা খরচ করেছে বলে অডিও থেকে উভয়ের কথোপকথোনে জানা যায়।

অজ্ঞাত ব্যক্তি : তোমার (রাকিব) ইয়ে সম্পর্কে তুমি যেভাবে বলছিলে আরকি, বিভিন্নভাবে কমিটি ভাঙ্গা, গড়া, প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার খরচ টরচ দিয়ে তোমারতো একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে গেছে।

রাকিব: হুমম.. হিউজ.. হিউজ..

অজ্ঞাত ব্যাক্তি: সেই ফিগার তো আমি জানি, তা প্রায় মনে হয় চল্লিশের কাছে হবে।

রাকিব: হুমম।

রাকিব: না ভাই শোনেন কোনো ছেলেরে ইয়ে করতে গেলে... । এখন আমার যা খরচ হইছে এটা কোনো ব্যাপার না। ওইটা ছয় মাস গেলে সব ডাবল হয়ে যাবে, সমস্যা নাই। কিন্তু ওরে হচ্ছে ফোন দিতে কন আমি গিয়ে হচ্ছে দেখা করে আসবোনি।

অডিও থেকে আরও জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি ভাঙতেও কাজ করেন রাকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্যই কমিটি ভাঙা হয়। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের মাধ্যমে কমিটি ভাঙা হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

রাকিব : কমিটি যদি ভাঙে একজনের ওয়াইফের জন্য, বোর্ড করার জন্য। ম্যাথের বোর্ডটা স্থগিত করার জন্য। একজনকে করার জন্য আমরা কমিটি স্থগিত করি সিস্টেমে, সেটা আরেকটা লাইনে, এটা শোভনের লাইন। আমি তখন চিন্তা করলাম যে আমি একা নেতা হব?

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে শিক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। ওই বিভাগে চাকরি হয়নি তার। গণিত বিভাগের নিয়োগ বোর্ড নিয়ে একজন প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বলে জানা গেছে। অডিওতে টাকার বিনিময়ে হাইকোর্টের রায় কেনা বেচা হয় বলেও দাবি করেন রাকিব।

রাকিব : সাইফুলের ওয়াইফ সে ব্যপারটা কম বলেনি..অনেক টাকা লাগবে, ৩০ লাখ টাকা লাগবে। হাইকোর্টে রিট করতে হবে, রায় কিনে নিয়ে আসতে হবে। সে লাইনও আছে, টাকা লাগবে। হাইকোর্টে এমন এমন জায়াগায় এমন এমন লাইন আপনি যেভাবে রায় চাইবেন রায় সেভাবেই দেবে, টাকা লাগবে। এসব পথ আমি পাড়ি দিয়ে আইছি, তো রায় মায় সব কিনা যায়, সব রায় কিনা যায়।

রাকিবের সঙ্গে অজ্ঞাত ব্যক্তির এই সাত মিনিট ২৭ সেকেন্ডর অডিওর মধ্যে ৪ মিনিটের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন আইডি থেকে এই অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত রোববার সাধারণ সম্পাদক রাকিবের সঙ্গে ওই ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে ওই ব্যক্তিকে প্রার্থী যোগাড় করতে বলেন রাকিব। এক মিনিটের অডিও ফাঁস হলে ওইদিনই একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থাকায় জিডি করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ডায়েরি নং- ৪২৫।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ আট মাস কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর গত ১৪ জুলাই ইংরেজি বিভাগের রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে সবেক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে রাখে কেন্দ্রীয় কমিটি।

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিক কথোপকথন আমার না। আমার কণ্ঠ নকল করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওখানে চল্লিশের কথা উল্লেখ আছে। লাখ বা হাজারের কথা উল্লেখ নেই।

হাইকোর্ট নিয়ে কথোপথনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিব বলেন, এমন কোনো কথা আমি কারো সঙ্গে বলিনি

ইবি ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত কর্মী তন্ময় সাহা টনি বলেন, টাকার বিনিময়ে নেতৃত্বে আসলে আদর্শিক এবং যোগ্য কর্মীরা বঞ্চিত হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে নেতৃত্ব বাছাই করলে এমন নেতৃত্ব আসতো না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক কর্মীরা কখনো কিনে আনা নেতৃত্ব মানে না। আমার মনে হয় অডিওটি শোনার পর কোনো দালাল ছাড়া আদর্শিক কর্মী তাকে নেতা মানবে না।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, অডিওটি আমিও শুনেছি। এই কথোপকথন সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। রাকিবকে এর জন্য দলীয়ভাবে কারণ দর্শাতে নোটিশ করা হবে। খবর: জাগো নিউজ


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

ইবি,ছাত্রলীগ
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত