Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা আসছে

প্রকাশ:  ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:২৩ | আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

শীর্ষনেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তি'র ঘোষণা আসছে শিগগিরই। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিতর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া, অর্থের বিনিময়ে বিরোধী মতাদর্শীদের সংগঠনে অনুপ্রবেশ ঘটানো, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অগ্রাহ্য করা, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, নিয়মিত মধুর কেন্টিনে উপস্থিত না হওয়া, মাদক সেবন, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্য এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সম্পর্কে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপস্থিত নেতাদের সমালোচনার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি।

যৌথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গণভবনে অপেক্ষা করছিলেন। আওয়ামী লীগের দুজন জ্যেষ্ঠ নেতা তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দিলেও তারা যাননি। পরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের চলে যেতে বললে তারা গণভবন থেকে বেরিয়ে যান।

ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর গণভবনের প্রবেশ পাস বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের বকাঝকা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক যুগ ধরেই ছাত্রলীগ প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ৯ নেতার নেতৃত্বে গঠিত এ সিন্ডিকেটই ছাত্রলীগের বর্তমান নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সিন্ডিকেট এখন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে বাঁচাতে নানা চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যেকোন সময় ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই ছাত্রলীগের অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগের আগাম সম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়েও কাজ করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চার নেতা।

ছাত্রলীগের সর্বশেষ ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ১১ ও ১২ মে। সম্মেলনের প্রায় তিনমাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে অনেক বিলম্ব করা হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর গত ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর শুরু হয় নতুন সংকট। কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র, রাজাকারের সন্তান, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের স্থান দেওয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ হয়। ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় লাগাতার আন্দোলন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৯৯ জনই বিতর্কিত-অযোগ্য দেখিয়ে তালিকা প্রকাশ করে অবমূল্যায়ন করা সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়নের নির্দেশ দিলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ছাত্রলীগের শীর্ষনেতার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড উসকে দেয় নতুন বিতর্ক।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই

ছাত্রলীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত