Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

বিএনপির পুরো রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:  ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

বিএনপির পুরো রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত দাবি করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য একহাজার ৬০০ সেনাসদস্যকে হত্যা করেছেন। সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য ছুটিতে ছিলেন, তাদের ডেকে পাঠিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা জানতেও পারেননি তার অপরাধ কী।

মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি গঠন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে ড. হাছান বলেন, গতকাল (শুক্রবার) সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব গত ১০ বছরে কত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন-সে কথা বলেছেন। অথচ এই বিএনপি গঠিত হয়েছে জিয়াউর রহমানের রক্তে রঞ্জিত হাতে।

তিনি বলেন, সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যকে হত্যা করেছেন স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। যে বিএনপি মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তারা আবার বড় বড় কথা বলছে কী করে?

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ২০১৪-১৫ সালে পেট্রোল বোমা কারা নিক্ষেপ করেছে? পেট্রোল ও বোমা হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সময় প্রায় ৪ হাজার গাড়ি পুড়িয়েছে, ৩০টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, ৫০০ স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে।বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, ৩০টি সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে। যারা এভাবে মানুষ হত্যা করে তাদের এমন বক্তব্য রাখার কোনো অধিকার নেই। শুধু বিএনপি নয়, বিএনপির প্রশ্রয়ে জঙ্গিরাও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নানা সময় অনেক মানুষ হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসন্ত্রাসে বিএনপি নেতারা হুকুমের আসামি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- আপনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হওয়ার পর আপনার নেতৃত্বে এসব হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি একটি কমিশন গঠন করে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা উচিৎ।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে শুধুমাত্র গুটিকয়েক সেনাসদস্য জড়িত ছিল না। যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলব ছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান জিয়াউর রহমান। কর্নেল ফারুক, রশীদরা যখন জিয়াউর রহমানের কাছে গেলো তখন জিয়াউর রহমান বলেছিল আমি সিনিয়র অফিসার তাই সরাসরি যেতে পারি না, গো অ্যাহেড।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি (জিয়া) যদি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত না থাকতেন তাহলে একথা জানার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে সেটি অবহিত করতেন। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর জিয়াউর রহমানকে জানালে- তিনি বলেছিলেন, সো হোয়াট! ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার।

হাছান মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান যদি এই হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত না থাকতেন তাহলে হত্যাকাণ্ডের পর সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যেতেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। তিনি সেটা করেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক। তাই জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব।

পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন ছাড়াও সংসদে ইনডেমিনিটি আইন পাস করে খুনিদের বিচারের প্রক্রিয়া বন্ধ করেছেন জিয়া। এসব ঘটনা দিবালোকের মতো সাক্ষ্য দেয় তিনি-ই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান নেপথ্যের কারিগর। এদের মুখোশ উম্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো আজকে সময়ের দাবি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

তথ্যমন্ত্রী,ড. হাছান মাহমুদ,জাতীয় প্রেসক্লাব,আলোচনা সভা,রাজনীতি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত