• সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
  • ||

সরে দাঁড়ান মোমেন

প্রকাশ:  ২০ আগস্ট ২০২২, ১৪:২৫ | আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ১৪:৩৪
সৈয়দ বোরহান কবীর

অনেক হয়েছে, এবার দয়া করে সরে দাঁড়ান। জাতিকে মুক্তি দিন, অস্বস্তি থেকে উদ্ধার করুন সরকারকে। হ্যাঁ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে বলছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারকে দেশকে বিতর্কিত করেছেন, দলকে করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ। আপনার সরে যাওয়াটাই এখন উত্তম। মানুষকে জানতে হয় কখন সরে যেতে হয়। আপনি একজন পন্ডিত ব্যক্তি, শিক্ষক ছিলেন বলে নিজেকে দাবি করেছেন। আপনার যদি নূন্যতম সততা থাকে তাহলে আশা করি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদ থেকে আপনি পদত্যাগ করবেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতা অনেক। তিনি অনেক মানুষকে যথেচ্ছ দিয়েছেন। কিন্তু খুব কম মানুষই তার দানকে সম্মানিত করতে পেরেছেন। আপনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, এটি আপনার জন্য বিরল সৌভাগ্য এবং সম্মান। আমি বলতে চাই না যে, এই পদের জন্য আপনি অযোগ্য। কিন্তু এই দায়িত্ব গ্রহণ করে এই পদের প্রতি আপনি সম্মান দেখাতে পারেননি। আপনার দায়িত্বের প্রতি আপনি সুবিচার করতে পারেনি।

আপনি ছিলেন একজন আমলা। ১৯৭১ এর ব্যাচ। যখন দেশ মুক্তিযুদ্ধে তখন আপনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। এই ব্যাচকে বলা হতো রাজাকার ব্যাচ। আপনার এই ব্যাচকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বীকৃতি দেয়নি। এরপর খুনি মোশতাক দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আপনাদের চাকরি বৈধকরণ শুরু হয় এবং জিয়াউর রহমান আপনাদের চাকরিকে বৈধ করে। সে নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। আমি কথা বলতে চাই না যে, দেওয়ান ফরিদ গাজী যিনি খুনি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধুর রক্তের উপর দিয়ে যোগ দিয়েছিলেন, তার একান্ত সচিব কেন ছিলেন সেই প্রশ্ন আমি করতে চাই না। কিন্তু একটি বিষয় আমি আপনাকে বলতে চাই যে, যোগ্যতার পরীক্ষায় আপনি অযোগ্য হিসেবেই বিবেচিত হয়েছেন। ওই পরীক্ষায় আপনি অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ড. মোমেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশের কূটনীতিতে আপনি একের পর এক বিতর্কের ঝড় তুলছেন। অথচ আমাদের কূটনীতি ছিল শান্ত-স্নিগ্ধ। কারো সাথে বৈরীতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব এই নীতি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু আপনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক অকূটনৈতিক বক্তব্য, লাগামহীন কথাবার্তা বলে বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রকে বিব্রত করেছেন, বাংলাদেশকে বিব্রত করেছেন এবং আমাদের কূটনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। আপনি খোলামেলা কথা বলেন। খোলামেলা কথা বলা কোনো কোনো সময় ভালো। কিন্তু একজন কূটনীতিক এভাবে কথা বলতে পারে না। একজন কূটনীতিকের প্রতিটি কথা অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু আপনি আপনার কথাকে মূল্যহীন করেছেন। রাস্তায় বখাটে ছেলেদের খিস্তির সঙ্গে আপনার বক্তব্যগুলোকে তুলনা করা যায়।

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে বলতে পারেন সেটি নিয়ে গবেষণা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আপনি আরও লাগামহীন হয়ে উঠেছেন। একের পর এক কথাবার্তা যেভাবে আপনি বলছেন, তাতে আপনার উপর পুরো জাতি বিরক্ত। এখনও আপনি যে সমস্ত অজুহাত দিচ্ছেন, যে সমস্ত কথা বলছেন যে, আপনার বক্তব্যকে টুইস্ট করা হয়েছে, সেই টুইস্ট করার সুযোগ এখন আর নেই। প্রতিটি বক্তব্য গণমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আপনার বক্তব্যকে টুইস্ট করবে কেন? কেউ তো আপনার শত্রু নয়। আপনার বক্তব্যের অডিও এখন বাজারে, চায়ের দোকানে, হাটে-মাঠে-ঘাটে শোনা হচ্ছে। আপনি কি বুঝতে পারেন যে আপনি দেশের কি ক্ষতি করছেন? ভারতকে আপনি অনুরোধ করার কে? বাংলাদেশে কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে না আসবে তার সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। এই কথা বলে আপনি কার উপকার করলেন?

মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক হয়েছে। এবার ক্ষমা করুন আমাদেরকে। আপনার অত্যাচার আমরা আর সইতে পারছি না। আপনার ভার এই জাতি বহন করছে না। এই জাতিকে ভারমুক্ত করুন। আপনি পদত্যাগ করুন।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত

[email protected]

সৈয়দ বোরহান কবীর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close